১০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’ আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক থানা পোড়ানোর বক্তব্য ভাইরাল: হবিগঞ্জে সমন্বয়ক মাহাদীসহ আটক ৩ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, শোকজ ছাড়াই রাজশাহীতে কলেজশিক্ষক বরখাস্ত নিবন্ধনের আওতায় আসছে হকাররা, ডিএসসিসিকে দিতে হবে মাসে ৩ হাজার টাকা নিমরা খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিশ্চিত করলেন জেইন হামিদ, ফিজা আলীর ক্ষোভ ওড়িশার গ্রামীণ হাসপাতালে মার্কিন পর্যটকের বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিস্মিত হয়ে প্রশংসা ভারতের স্বাস্থ্যসেবার ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক, চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি কাল বিজেপিতে বড় রদবদল: স্মৃতি ইরানি সাধারণ সম্পাদক, রাম মাধব সহসভাপতি ফিলিপাইনের ঐতিহ্যের স্বাদ: মামন ও এনসাইমাদায় তিন বেকশপের গল্প

ওজন কমাতে ওষুধের ঝুঁকি: স্বাস্থ্য নাকি বাজারের ফাঁদ?

ভারতে স্থূলতা ও জীবনধারাজনিত রোগ দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি বাড়ছে উদ্বেগও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য সচেতনতার আড়ালে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ‘মেডিক্যালাইজেশন’ বা ওষুধনির্ভরতার সংস্কৃতি, যা দীর্ঘমেয়াদে নতুন সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

স্থূলতার বিস্তার ও কারণ

দেশজুড়ে এখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভারসহ নানা জটিলতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, কম শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব—সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

The alarming rise of medicalisation in India - The Hindu

ওষুধের বাজারের দ্রুত প্রসার

ওজন কমানোর ওষুধ বাজারে আসার পর থেকেই এর চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নতুন ওষুধ সহজলভ্য হওয়ায় বাজার আরও বিস্তৃত হয়েছে। এতে একদিকে চিকিৎসা বিকল্প বাড়লেও, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে বড় বাণিজ্যিক ক্ষেত্র, যেখানে স্বাস্থ্য ও মুনাফা একসঙ্গে মিশে যাচ্ছে।

প্রচারণার নতুন কৌশল

সরাসরি বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্ন পরোক্ষ উপায়ে এই ওষুধগুলোর প্রচারণা চলছে। সচেতনতা প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রচার, সংবাদসদৃশ উপস্থাপন—এসবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে ওষুধের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা হচ্ছে।

ওজন কমানোর আড়ালে নতুন ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের ওষুধ শুধু চর্বি কমায় না, শরীরের পেশিও কমিয়ে দিতে পারে। ফলে শক্তি, সহনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ওজন কমলেও শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে।

Doctors need better training in medical school to treat obesity | TIME.com

এক সমস্যা থেকে আরেক সমস্যা

ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের ফলে পেশি ক্ষয় হলে তা ঠিক করতে আবার নতুন ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে এক চিকিৎসা থেকে আরেক চিকিৎসার চক্র তৈরি হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও ওষুধনির্ভর করে তুলছে।

জীবনযাপন বদলেই মূল সমাধান

বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন, ওষুধ কখনোই মূল সমাধান নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এসবই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ভিত্তি। ওষুধকে সহায়ক হিসেবে দেখা উচিত, বিকল্প হিসেবে নয়।

স্বাস্থ্যকে বাজারের পণ্য না বানিয়ে, সচেতন জীবনযাপনের দিকে ফিরতে পারলেই এই সংকট থেকে বের হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’

ওজন কমাতে ওষুধের ঝুঁকি: স্বাস্থ্য নাকি বাজারের ফাঁদ?

০৩:৫২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ভারতে স্থূলতা ও জীবনধারাজনিত রোগ দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি বাড়ছে উদ্বেগও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য সচেতনতার আড়ালে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ‘মেডিক্যালাইজেশন’ বা ওষুধনির্ভরতার সংস্কৃতি, যা দীর্ঘমেয়াদে নতুন সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

স্থূলতার বিস্তার ও কারণ

দেশজুড়ে এখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভারসহ নানা জটিলতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, কম শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব—সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

The alarming rise of medicalisation in India - The Hindu

ওষুধের বাজারের দ্রুত প্রসার

ওজন কমানোর ওষুধ বাজারে আসার পর থেকেই এর চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নতুন ওষুধ সহজলভ্য হওয়ায় বাজার আরও বিস্তৃত হয়েছে। এতে একদিকে চিকিৎসা বিকল্প বাড়লেও, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে বড় বাণিজ্যিক ক্ষেত্র, যেখানে স্বাস্থ্য ও মুনাফা একসঙ্গে মিশে যাচ্ছে।

প্রচারণার নতুন কৌশল

সরাসরি বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্ন পরোক্ষ উপায়ে এই ওষুধগুলোর প্রচারণা চলছে। সচেতনতা প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রচার, সংবাদসদৃশ উপস্থাপন—এসবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে ওষুধের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা হচ্ছে।

ওজন কমানোর আড়ালে নতুন ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের ওষুধ শুধু চর্বি কমায় না, শরীরের পেশিও কমিয়ে দিতে পারে। ফলে শক্তি, সহনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ওজন কমলেও শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে।

Doctors need better training in medical school to treat obesity | TIME.com

এক সমস্যা থেকে আরেক সমস্যা

ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের ফলে পেশি ক্ষয় হলে তা ঠিক করতে আবার নতুন ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে এক চিকিৎসা থেকে আরেক চিকিৎসার চক্র তৈরি হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও ওষুধনির্ভর করে তুলছে।

জীবনযাপন বদলেই মূল সমাধান

বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন, ওষুধ কখনোই মূল সমাধান নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এসবই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ভিত্তি। ওষুধকে সহায়ক হিসেবে দেখা উচিত, বিকল্প হিসেবে নয়।

স্বাস্থ্যকে বাজারের পণ্য না বানিয়ে, সচেতন জীবনযাপনের দিকে ফিরতে পারলেই এই সংকট থেকে বের হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।