পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারে একাধিক বড় প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দাবি করেন, দার্জিলিংয়ের দীর্ঘদিনের গোর্খা সমস্যার সাংবিধানিক সমাধান করা হবে, তবে রাজ্যকে ভাগ করা হবে না। পাশাপাশি রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাসও দেন তিনি।
গঙ্গারামপুরে জনসভা থেকে অমিত শাহ বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেখানে একটি ইকো-অ্যাডভেঞ্চার কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার মতে, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়েই গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
গোর্খা ইস্যুতে নতুন বার্তা
![]()
দার্জিলিংয়ের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার সমাধান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই করা হবে। এতে রাজ্যের অখণ্ডতা বজায় থাকবে এবং স্থানীয় মানুষের দাবি-দাওয়াও গুরুত্ব পাবে।
রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি
অমিত শাহ জানান, রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভাষাকে সংবিধানের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই সম্প্রদায় পশ্চিমবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে একটি বড় জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। তাদের ভাষার স্বীকৃতি সাংস্কৃতিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ
সভায় তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, রাজ্য সরকার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেয়নি। তিনি আশ্বাস দেন, ক্ষমতায় এলে দ্রুত সীমান্তে বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনৈতিক আক্রমণ ও বিতর্ক
নির্বাচনী মঞ্চ থেকে বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান অমিত শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক নেতা শাসকদলের সঙ্গে যোগসাজশ রেখে কাজ করছেন। পাশাপাশি একটি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে জানান, এই ধরনের নির্মাণ হতে দেওয়া হবে না।
উত্তরবঙ্গের এই প্রচারে উন্নয়ন, ভাষার স্বীকৃতি এবং নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা স্পষ্ট। নির্বাচনের আগে এই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















