বাজারে গিয়ে একই দামে পণ্য কিনেও আগের মতো পরিমাণ না পাওয়ার অভিজ্ঞতা এখন অনেকেরই। এই ঘটনাকেই বলা হয় ‘শ্রিংকফ্লেশন’—যেখানে পণ্যের আকার বা পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু দাম অপরিবর্তিত থাকে বা আরও বেড়ে যায়। ফলে ভোক্তারা অজান্তেই প্রতি ইউনিটে বেশি দাম দিচ্ছেন।
কোন পণ্য বেশি আক্রান্ত
সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণ ভোক্তারা যেসব পণ্য বেশি কেনেন, তার মধ্যে তুলনামূলক কমসংখ্যক পণ্য এই প্রভাবের আওতায় থাকলেও কিছু নির্দিষ্ট পণ্যে এটি বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইনস্ট্যান্ট কফি বা চা, লন্ড্রি ডিটারজেন্ট, আইসক্রিম, দুধের গুঁড়া এবং ডায়াপারের মতো পণ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
কীভাবে কাজ করে এই কৌশল

শ্রিংকফ্লেশনের সবচেয়ে সাধারণ রূপ হলো—পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হলেও দাম একই রাখা। যেমন, আগে ১ লিটার শ্যাম্পু ৮ টাকায় পাওয়া গেলে সেটি কমিয়ে ০.৮ লিটার করা হলেও দাম যদি ৮ টাকাই থাকে, তাহলে প্রকৃতপক্ষে প্রতি লিটারের দাম বেড়ে যায়।
আরেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একই সঙ্গে দাম বাড়ানো এবং পরিমাণ কমানো—যা ভোক্তার জন্য আরও বড় চাপ তৈরি করে।
ভোক্তারা কেন ধরতে পারেন না
এই ধরনের পরিবর্তন সহজে ধরা পড়ে না, কারণ অধিকাংশ ভোক্তা পণ্যের মোট দাম দেখেই সিদ্ধান্ত নেন, প্রতি ইউনিটের দাম হিসাব করেন না। ফলে পণ্যের আকার ছোট হয়ে গেলেও বিষয়টি অনেক সময় নজরে আসে না।
ব্যবসায়ীদের কৌশল
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবৃদ্ধিকে আড়াল করা। অনেক সময় পণ্যের প্যাকেট ছোট করা বা মান কিছুটা কমিয়ে দিয়ে দাম বাড়ানোর চাপ থেকে রেহাই নেওয়া হয়। আবার কখনও প্যাকেটের আকার সামান্য বাড়িয়ে বেশি দাম নেওয়া হয়, যা দেখতে বাড়তি সুবিধা মনে হলেও বাস্তবে প্রতি ইউনিটে খরচ বাড়িয়ে দেয়।
সমাধানে ইউনিট মূল্য প্রদর্শন
ভোক্তাদের সচেতন করতে বিভিন্ন দেশে পণ্যের ইউনিট মূল্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সহজেই বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও আকারের পণ্যের দাম তুলনা করা যায়। এতে ক্রেতারা বুঝতে পারেন কোন পণ্যটি সত্যিকার অর্থে সাশ্রয়ী।
সব মিলিয়ে, ‘শ্রিংকফ্লেশন’ এমন এক কৌশল যা সরাসরি দাম না বাড়িয়েও ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই বাজারে কেনাকাটার সময় শুধু মোট দাম নয়, পণ্যের পরিমাণ ও ইউনিট মূল্যও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















