টানা ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কেন্দুয়া-আটপাড়া হাওরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ফসলহানি। অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৭৫ হেক্টর জমির বোরো ধান ডুবে গেছে, আর সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৩১০০ কৃষক।
হাওরাঞ্চলে হঠাৎ পানির আগ্রাসন
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জালিয়ার হাওর অধ্যুষিত চারিতলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষিজমি খুব দ্রুত পানির নিচে চলে যায়। বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফসল বোরো ধান এভাবে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের সামনে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। অনেকেই শেষ মুহূর্তে ধান কাটার চেষ্টা করলেও পানির তোড়ে তা সম্ভব হয়নি।

কৃষকদের হতাশা ও সংগ্রাম
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছরই একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ফসল রক্ষা করা যায় না। ফলে বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই পানিতে ভেসে যায়।
একজন কৃষক জানান, চোখের সামনে নিজের স্বপ্ন ডুবে যেতে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। তাদের দাবি, সাময়িক সহায়তা নয়, বরং স্থায়ী সমাধান দরকার যাতে প্রতি বছর এই ক্ষতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ
যেসব কৃষক কিছু ধান কষ্ট করে রক্ষা করতে পেরেছেন, তারাও নতুন সমস্যায় পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় বাজারে সেই ধান ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে একদিকে ফসলহানি, অন্যদিকে কম দামে বিক্রি—দুই দিক থেকেই লোকসানের বোঝা বাড়ছে।

সরকারি হিসাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে ৩৭৫ হেক্টর বোরো ধানের পাশাপাশি ৫.৭ হেক্টর পাট, ৫.৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত এবং ০.৪৫ হেক্টর আমন বীজতলাও পানিতে তলিয়ে গেছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা সম্পন্ন হলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জীবনে আবারও নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার ছায়া। তাদের দাবি, বারবার ক্ষতির চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















