পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এক উচ্চপ্রোফাইল গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে। তৃণমূল কংগ্রেস ই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক বিনেশ চান্ডেলের গ্রেপ্তারকে ‘চরম মরিয়া পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়ে তাঁর অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তুলেছে।
গভীর রাতে গ্রেপ্তার, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
জানা গেছে, একটি অর্থপাচার মামলায় দিল্লি থেকে চান্ডেলকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের একটি কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে এই মামলার যোগ রয়েছে। তবে তৃণমূলের দাবি, এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই মূল কারণ।

‘কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহার’ অভিযোগ
তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি অভিযোগ তুলেছে যে, বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা।
‘মরিয়া হয়ে উঠেছে’—তৃণমূলের কটাক্ষ
দলের একাধিক নেতা কটাক্ষ করে বলেন, সংস্থাটির এই পদক্ষেপই প্রমাণ করে তারা কতটা ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে এই ধরনের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, কিন্তু তাতে জনসমর্থন বদলাবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
এদিকে এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান। তিনি অভিযোগ করেন, গভীর রাতে তাঁর দলের কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, কিন্তু এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাঁর কথায়, একজনকে গ্রেপ্তার করলে হাজার হাজার মানুষ সামনে এসে দাঁড়াবে।
উত্তেজনা বাড়ছে ভোটের আগে
এই ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলের মধ্যে সংঘাত বাড়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এই পরিস্থিতিতে চান্ডেলের গ্রেপ্তারকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















