যুক্তরাষ্ট্রে চীন সম্পর্কে জনমতের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক এক জরিপে। কয়েক বছর আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মার্কিন নাগরিক চীনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে এই পরিবর্তন দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিক নির্দেশ করছে।
ইতিবাচক মতামত বেড়েছে
সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এখন চীনকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। এটি গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, আর তিন বছর আগের সর্বনিম্ন অবস্থানের প্রায় দ্বিগুণ। ২০২৩ সালে সন্দেহভাজন চীনা নজরদারি বেলুনের ঘটনা, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং মহামারির প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছিল।
শত্রু নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চীন

বর্তমানে অনেক মার্কিন নাগরিক চীনকে আর সরাসরি শত্রু হিসেবে দেখছেন না। বরং অধিকাংশই চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করছেন। কিছু সংখ্যক মানুষ আবার চীনকে অংশীদার হিসেবেও দেখছেন, যা সম্পর্কের জটিলতা ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির প্রভাব
২০২৫ সালে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে। সেই প্রভাব এখন জনমতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। চলতি বছর আবারও দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যা সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিভাজনে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া
জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে কম। অর্থাৎ রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী চীন নিয়ে মতামতের পার্থক্য এখনও স্পষ্ট।
![]()
নেতৃত্বে আস্থার পরিবর্তন
চীনের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা কিছুটা বেড়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। তবে চীন-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে মার্কিন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা কিছুটা কমেছে। এতে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা ও মূল্যায়ন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনমতের এই পরিবর্তন ভবিষ্যৎ কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও, সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবমুখী করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গির এই পরিবর্তন শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















