দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে বিতর্কিত আচরণের ঘটনায় এক মার্কিন স্ট্রিমারকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তোলে।
কী ঘটেছিল সেই ঘটনায়
২৫ বছর বয়সী ওই স্ট্রিমার কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশে উসকানিমূলক ভিডিও বানিয়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে দেখা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বাহিনীর হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার কোরীয় নারীদের স্মরণে নির্মিত একটি মূর্তির পাশে অশোভন আচরণ করতে।
ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হলেও ক্ষোভ থামেনি।
আদালতের রায়
সিউলের একটি আদালত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়। অভিযোগ ছিল জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি। এর আগেই তাকে দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
ক্ষমা চাইলেও রক্ষা হয়নি
ঘটনার পর ওই স্ট্রিমার ক্ষমা চেয়ে বলেন, তিনি মূর্তিটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তবে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল কঠোর। বিভিন্ন সময়ে তাকে তাড়া করা এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনাও সামনে আসে।
আগেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন

এর আগেও তিনি প্রতিবেশী জাপানে বিতর্কিত আচরণের জন্য সমালোচনায় পড়েন। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পারমাণবিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলো নিয়ে বিদ্রূপ করায় সেখানে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতার গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতিহাস ও যুদ্ধের স্মৃতি জড়িত বিষয়গুলোতে সংবেদনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের আচরণ শুধু ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়, বরং জাতিগত ও ঐতিহাসিক ক্ষতকে নতুন করে উসকে দিতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই রায় অনেকের মতে একটি শক্ত বার্তা, যেখানে বলা হচ্ছে—ইতিহাসকে অবমাননা করলে তার পরিণতি এড়ানো যাবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















