যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সীমিত জনবল ও বাড়তি কাজের চাপ সামলাতে অনেক আইনপ্রণেতা এখন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এতে কাজের গতি যেমন বাড়ছে, তেমনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্নও উঠছে।
দক্ষিণ ডাকোটার এক আইনপ্রণেতা, যিনি একই সঙ্গে কৃষিজমির মূল্য নির্ধারণকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, তিনি জানান—ব্যস্ততার কারণে এখন তিনি নিয়মিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেন। গবেষণা করা, যুক্তি তৈরি করা কিংবা আলোচনার বিষয় নির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তি তার কাজ সহজ করে দিয়েছে। এমনকি নতুন আইন প্রস্তাব তৈরির প্রাথমিক খসড়াও তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করেন। তার মতে, এটি এখন ক্যালকুলেটর বা মোবাইল ফোনের মতোই একটি সাধারণ ও কার্যকর হাতিয়ার।
কাজের চাপ কমাতে প্রযুক্তির ব্যবহার
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আইনপ্রণেতাদের সহায়তাকারী জনবল তুলনামূলক কম। ফলে একটি বিল তৈরি বা তথ্য যাচাই করতে আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, এখন তা কয়েক মিনিটেই সম্ভব হচ্ছে। অনেক আইনপ্রণেতা মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদেরকে বড় বড় স্বার্থগোষ্ঠীর চাপের বিরুদ্ধে যুক্তি দাঁড় করাতেও সহায়তা করছে।
কিছু আইনপ্রণেতা এমনও জানিয়েছেন, কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থেকে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য যাচাই করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেন। এতে ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ধরা সহজ হচ্ছে।

ব্যবহার বাড়লেও রয়েছে ঝুঁকি
তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও কম নয়। অনেক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভুল তথ্য তৈরি করে, যা আইন প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। এজন্য অনেক আইনপ্রণেতা একই প্রশ্ন একাধিকবার করে ফল যাচাই করার চেষ্টা করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি আইন প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত আইনজীবী ও গবেষকদের মাধ্যমে যাচাই করা হলেও, কাজের চাপ বেড়ে গেলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
স্বাধীন চিন্তার ওপর প্রভাবের শঙ্কা
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো—আইনপ্রণেতাদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতার ওপর এর প্রভাব। আইন প্রণয়ন একটি গভীর চিন্তা, বিশ্লেষণ ও যুক্তি নির্ভর কাজ। এই প্রক্রিয়া যদি প্রযুক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে আইনপ্রণেতাদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, জনগণ কোনো প্রযুক্তিকে নয়, বরং একজন প্রতিনিধিকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানুষের নিজস্ব বিচারবোধের গুরুত্ব কমে গেলে তা গণতন্ত্রের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















