০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে চাপ, তেল কেনা বন্ধ করেও কেন অস্বস্তি—আরএসএস নেতা রাম মাধবের প্রশ্ন ট্যাভার পদ্ধতিতে হার্টের ভালভ চিকিৎসা: দ্রুত আরামে ভরসা, তবে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ভাঙন: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে আটকে শান্তির পথ ইসরায়েলের যুদ্ধনীতি বদল: দীর্ঘ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার নতুন বাস্তবতা ফেড চেয়ারম্যান পাউয়েলকে ঘিরে তদন্ত বন্ধ, পথ খুলছে নতুন নিয়োগের রাশিয়ায় টানা অষ্টমবার সুদ কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধেও নীতি শিথিল নিউইয়র্কে আসছে গুইনেথ প্যালট্রোর স্বাস্থ্যসচেতন খাবারের বাজারে নতুন দৌড় তৃতীয় দেশে পাঠানো অভিবাসী: ট্রাম্প প্রশাসনের গোপন চুক্তির অন্তরালের বাস্তবতা মুঘলদের অবদান নিয়ে বিতর্ক: ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না, রাজনীতির কেন্দ্রে অতীত আলবার্টার স্বাধীনতার স্বপ্নে ভাটা, গণভোটের পথে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

চট্টগ্রামের রাউজানে ফের গুলি, বিএনপি কর্মী নিহত—দুই মাসে তৃতীয় হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় আবারও গুলির ঘটনায় এক বিএনপি সমর্থক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাউসারুজ্জামান (৩৬) স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে এবং পেশায় কৃষক ছিলেন।

ঘটনাস্থল ও হামলার বিবরণ
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাতে নানাবাড়িতে দাওয়াত শেষে বাড়ি ফিরছিলেন কাউসারুজ্জামান। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে পৌঁছালে ৭ থেকে ৮ জন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শনিবার ভোরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্ত্রী ও দুই কন্যা রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ
নিহতের পরিবারের দাবি, কাউসারুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় হামলার শিকার হচ্ছিলেন। গত দুই বছরে একাধিকবার তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তার বাবা আবুল কালাম বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন বলেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে এবং এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান তারা।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, কাউসারুজ্জামান বিএনপির সমর্থক ছিলেন এবং তার বড় ভাই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের এক নেতা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
রাউজান থানার পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী ভূমিকার কারণেই তাকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে। তার পিঠের বাঁ পাশে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রেক্ষাপট
রাউজানে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটছে। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তারও আগে ৫ জানুয়ারি একই এলাকায় আরেক যুবদল নেতাকে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দুই ঘটনার এখনো কোনো গ্রেফতার হয়নি।

স্থানীয় সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে রাউজানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বেড়েছে। এ সময়ের মধ্যে ২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৬টি রাজনৈতিক বিরোধজনিত। পাশাপাশি শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ।

এই ধারাবাহিক সহিংসতায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

চট্টগ্রামের রাউজানে গুলিতে বিএনপি কর্মী নিহত, সাম্প্রতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ

চট্টগ্রাম রাউজান গুলি হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে গুলিতে বিএনপি কর্মী নিহত। ধারাবাহিক সহিংসতায় বাড়ছে উদ্বেগ, তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে চাপ, তেল কেনা বন্ধ করেও কেন অস্বস্তি—আরএসএস নেতা রাম মাধবের প্রশ্ন

চট্টগ্রামের রাউজানে ফের গুলি, বিএনপি কর্মী নিহত—দুই মাসে তৃতীয় হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক

০৫:২৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় আবারও গুলির ঘটনায় এক বিএনপি সমর্থক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাউসারুজ্জামান (৩৬) স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে এবং পেশায় কৃষক ছিলেন।

ঘটনাস্থল ও হামলার বিবরণ
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাতে নানাবাড়িতে দাওয়াত শেষে বাড়ি ফিরছিলেন কাউসারুজ্জামান। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে পৌঁছালে ৭ থেকে ৮ জন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শনিবার ভোরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্ত্রী ও দুই কন্যা রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ
নিহতের পরিবারের দাবি, কাউসারুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় হামলার শিকার হচ্ছিলেন। গত দুই বছরে একাধিকবার তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তার বাবা আবুল কালাম বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন বলেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে এবং এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান তারা।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, কাউসারুজ্জামান বিএনপির সমর্থক ছিলেন এবং তার বড় ভাই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের এক নেতা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
রাউজান থানার পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী ভূমিকার কারণেই তাকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে। তার পিঠের বাঁ পাশে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রেক্ষাপট
রাউজানে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটছে। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তারও আগে ৫ জানুয়ারি একই এলাকায় আরেক যুবদল নেতাকে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দুই ঘটনার এখনো কোনো গ্রেফতার হয়নি।

স্থানীয় সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে রাউজানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বেড়েছে। এ সময়ের মধ্যে ২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৬টি রাজনৈতিক বিরোধজনিত। পাশাপাশি শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ।

এই ধারাবাহিক সহিংসতায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

চট্টগ্রামের রাউজানে গুলিতে বিএনপি কর্মী নিহত, সাম্প্রতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ

চট্টগ্রাম রাউজান গুলি হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে গুলিতে বিএনপি কর্মী নিহত। ধারাবাহিক সহিংসতায় বাড়ছে উদ্বেগ, তদন্তে নেমেছে পুলিশ।