রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে বাধা দিচ্ছে, যা তিনি ‘জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দেন।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ নিশ্চিত করতে যেসব পরিবর্তন জরুরি, বিএনপি সেগুলোর বিরোধিতা করছে। তার মতে, এই অবস্থান জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময় বিএনপি ও জামায়াত একই ধরনের নিপীড়নের শিকার ছিল। তবে বর্তমানে বিএনপির আচরণে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, বিএনপি এখন এমন এক রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করছে, যা অতীতে আওয়ামী লীগের আচরণের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত, বিএনপিও নাকি একই ধরণের আচরণ শুরু করেছে। এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতি ঘটছে বলে তিনি মনে করেন।
৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন
জামায়াত আমির বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, নিজেদের ঘোষিত সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধেই বিএনপি অবস্থান নিচ্ছে। এতে দলটির অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি যে বিরোধিতা করছে, সেটি তারা নিজেরাও উপলব্ধি করতে পারছে না—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।
আন্দোলন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
সমাবেশে তিনি অতীতের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ত্যাগ ও আত্মদানের মাধ্যমেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার দাবি, এই আন্দোলন না হলে অনেক রাজনৈতিক নেতা দেশের ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেতেন না।
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে কারাবন্দি অবস্থায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা হতাশা প্রকাশ করেছিলেন এবং মনে করতেন নির্দিষ্ট সময়ের আগে ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব নয়।
‘মিরাকল’ প্রসঙ্গ ও বিতর্ক
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে অনেকেই ‘খোদার দান’ হিসেবে স্বীকার করলেও এখন কেউ কেউ সেটি অস্বীকার করছে বা ব্যক্তিগত কৃতিত্ব দাবি করছে। তিনি এই ধরনের দাবিকে ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, গণআন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং এটি ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
ফ্যাসিবাদ নিয়ে সতর্কবার্তা
তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে এগোচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সহিংসতার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
শেষদিকে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন না হয়, তাহলে নতুন করে গণআন্দোলন দেখা দিতে পারে এবং সেটি ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটাতে ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















