১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
শিক্ষকদের আত্মত্যাগে নয়, ন্যায্য মর্যাদায় গড়ে ওঠে শিক্ষাব্যবস্থা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকলেও দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা: এএফপিকে জানালেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বিপদ: বাণিজ্য নয়, ভারসাম্যহীনতার গভীর সংকট ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৫০; হাসপাতালে ভর্তি ১৪,৬৯০ আসামে বন্যায় মৃত বেড়ে ৭৫, ক্ষতিগ্রস্ত ১১ লাখের বেশি মানুষ একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা এখন জরুরি প্রয়োজনে তুলতে পারবেন ১০ লাখ টাকা নেপালে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯, ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: মিরাজ শেখকে উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইল আসক ক্ষমতার অসুখ: নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বিপদ অহংকার নয়, জবাবদিহির অভাব ফরচুন গ্লোবাল ৫০০: আয় ধরে রাখলেও মুনাফায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে চীনা কোম্পানিগুলো

উত্তর আমেরিকার সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বকাপের আগে ঐক্যের স্বপ্নে ফাটল

উত্তর আমেরিকার তিন দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্ন দেখেছিল একসময়। কিন্তু খেলা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে সেই ঐক্যের ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে।

২০১৮ সালে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায়। তখন তাদের স্লোগান ছিল একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি। বাস্তবতাও তখন সে কথাই বলছিল—বড় অর্থনীতি, শান্তিপূর্ণ সীমান্ত, আর একে অপরের সঙ্গে জড়ানো বাণিজ্যিক সম্পর্ক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই দৃশ্যপট বদলে গেছে।

রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন বাস্তবতা

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তিন দেশের সম্পর্ক আগের মতো নেই। নেতাদের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছে, এমনকি কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছে। অন্যদিকে কানাডার দিক থেকেও সম্পর্ককে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই রাজনৈতিক উত্তেজনা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করেছে, যা বাণিজ্যিক সম্পর্ককে চাপে ফেলেছে।

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

এই তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য চুক্তি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ১৯৯৪ সাল থেকে যে মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে বাণিজ্য প্রসার লাভ করেছিল, তা এখন নতুন করে আলোচনার টেবিলে।

বর্তমানে বছরে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য হয় এই তিন দেশের মধ্যে। উৎপাদন ব্যবস্থাও এতটাই একীভূত যে একটি গাড়ি তৈরির সময় সেটি একাধিকবার সীমান্ত পার হয়। তবুও নতুন শর্ত, শুল্ক আর রাজনৈতিক চাপ এই সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে।

As the World Cup approaches, North American relations are at a nadir

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ও চাপ

যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, অভিবাসন, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোও এই চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে প্রতিবেশীদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকার এত বড় যে এই চাপ প্রয়োগ করা তার জন্য সহজ। ফলে কানাডা ও মেক্সিকোর পক্ষে সমান অবস্থানে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কানাডা ও মেক্সিকোর ভিন্ন পথ

মেক্সিকো এই সম্পর্ক ধরে রাখতে চেষ্টা করছে, কারণ তাদের রপ্তানির বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। অর্থনীতির জন্য এই সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে কানাডা এখন বিকল্প খুঁজছে। তারা ইউরোপ, এশিয়া এবং এমনকি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। তবে বাস্তবে এই পরিবর্তনের প্রভাব এখনো সীমিত।

বিশ্বকাপেও দেখা যাচ্ছে ফাটল

বিশ্বকাপের আয়োজনেও এই মতবিরোধের প্রভাব পড়ছে। যৌথ আয়োজন হলেও আলাদা আলাদা জাতীয় প্রচারণা বেশি দেখা যাচ্ছে। এমনকি কিছু দেশের সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারার আশঙ্কাও রয়েছে।

কিছু জায়গায় শ্রমিকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে অভিবাসন সংক্রান্ত আশঙ্কা নিয়ে।

তবুও টিকে আছে পারস্পরিক নির্ভরতা

সব উত্তেজনার পরও বাস্তবতা হলো—এই তিন দেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির বড় অংশই আসে মেক্সিকো থেকে। নতুন শিল্প ও প্রযুক্তি খাতেও পারস্পরিক সহযোগিতা চলছে।

একই সঙ্গে কানাডা ও মেক্সিকো নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে। বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

উত্তর আমেরিকার একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন একসময় ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। বিশ্বকাপ হয়তো কিছু আনন্দের মুহূর্ত এনে দেবে, কিন্তু সেই পুরোনো ঐক্যের ছবি ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের আত্মত্যাগে নয়, ন্যায্য মর্যাদায় গড়ে ওঠে শিক্ষাব্যবস্থা

উত্তর আমেরিকার সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বকাপের আগে ঐক্যের স্বপ্নে ফাটল

০৫:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

উত্তর আমেরিকার তিন দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্ন দেখেছিল একসময়। কিন্তু খেলা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে সেই ঐক্যের ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে।

২০১৮ সালে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায়। তখন তাদের স্লোগান ছিল একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি। বাস্তবতাও তখন সে কথাই বলছিল—বড় অর্থনীতি, শান্তিপূর্ণ সীমান্ত, আর একে অপরের সঙ্গে জড়ানো বাণিজ্যিক সম্পর্ক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই দৃশ্যপট বদলে গেছে।

রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন বাস্তবতা

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তিন দেশের সম্পর্ক আগের মতো নেই। নেতাদের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছে, এমনকি কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছে। অন্যদিকে কানাডার দিক থেকেও সম্পর্ককে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই রাজনৈতিক উত্তেজনা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করেছে, যা বাণিজ্যিক সম্পর্ককে চাপে ফেলেছে।

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

এই তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য চুক্তি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ১৯৯৪ সাল থেকে যে মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে বাণিজ্য প্রসার লাভ করেছিল, তা এখন নতুন করে আলোচনার টেবিলে।

বর্তমানে বছরে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য হয় এই তিন দেশের মধ্যে। উৎপাদন ব্যবস্থাও এতটাই একীভূত যে একটি গাড়ি তৈরির সময় সেটি একাধিকবার সীমান্ত পার হয়। তবুও নতুন শর্ত, শুল্ক আর রাজনৈতিক চাপ এই সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে।

As the World Cup approaches, North American relations are at a nadir

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ও চাপ

যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, অভিবাসন, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোও এই চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে প্রতিবেশীদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকার এত বড় যে এই চাপ প্রয়োগ করা তার জন্য সহজ। ফলে কানাডা ও মেক্সিকোর পক্ষে সমান অবস্থানে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কানাডা ও মেক্সিকোর ভিন্ন পথ

মেক্সিকো এই সম্পর্ক ধরে রাখতে চেষ্টা করছে, কারণ তাদের রপ্তানির বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। অর্থনীতির জন্য এই সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে কানাডা এখন বিকল্প খুঁজছে। তারা ইউরোপ, এশিয়া এবং এমনকি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। তবে বাস্তবে এই পরিবর্তনের প্রভাব এখনো সীমিত।

বিশ্বকাপেও দেখা যাচ্ছে ফাটল

বিশ্বকাপের আয়োজনেও এই মতবিরোধের প্রভাব পড়ছে। যৌথ আয়োজন হলেও আলাদা আলাদা জাতীয় প্রচারণা বেশি দেখা যাচ্ছে। এমনকি কিছু দেশের সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারার আশঙ্কাও রয়েছে।

কিছু জায়গায় শ্রমিকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে অভিবাসন সংক্রান্ত আশঙ্কা নিয়ে।

তবুও টিকে আছে পারস্পরিক নির্ভরতা

সব উত্তেজনার পরও বাস্তবতা হলো—এই তিন দেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির বড় অংশই আসে মেক্সিকো থেকে। নতুন শিল্প ও প্রযুক্তি খাতেও পারস্পরিক সহযোগিতা চলছে।

একই সঙ্গে কানাডা ও মেক্সিকো নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে। বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

উত্তর আমেরিকার একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন একসময় ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। বিশ্বকাপ হয়তো কিছু আনন্দের মুহূর্ত এনে দেবে, কিন্তু সেই পুরোনো ঐক্যের ছবি ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।