০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’ কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ অস্ত্রের মুখে বিকাশকর্মীর ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, পালাল ৬ দুর্বৃত্ত নেপালে বন্যার তাণ্ডব: ‘নিখোঁজদের দেয়ালে’ স্বজন খুঁজছেন হাজারো মানুষ ভারতের ৭.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন? নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ সাভারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু মিশেল কোগান: মিশেলিন তারকা পাওয়া রাঁধুনি, যাঁর পাই এখন নিউইয়র্কে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত

ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনায় মেলোনি, মিত্রতায় ফাটল নাকি নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন, যা দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি অভিযোগ করেন, মেলোনির মধ্যে সাহসের অভাব রয়েছে এবং তিনি ওয়াশিংটনকে হতাশ করেছেন।

মেলোনির অবস্থান পরিবর্তন

একসময় ট্রাম্পের জোরালো সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন মেলোনি। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের ধর্মীয় নেতা পোপ লিওকে নিয়ে মন্তব্যের প্রকাশ্য সমালোচনা করে তিনি আরও স্পষ্ট অবস্থান নেন। এই মন্তব্যকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেন, যা দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়।

হরমুজ প্রণালী ও কৌশলগত বিরোধ

Trump turns on Meloni, says he is 'shocked' by Italian leader | Reuters

ট্রাম্পের প্রধান অভিযোগগুলোর একটি ছিল হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রশ্নে ইতালির অনীহা। ইরানের অবরোধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্প মনে করেন, ইতালির মতো দেশগুলোর উচিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে এই সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া।

তিনি অভিযোগ করেন, ইতালি উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত নয় এবং এই দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে দিতে চায়।

ইতালির প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ সমর্থন

যদিও মেলোনির কার্যালয় এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি, ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পক্ষে দৃঢ় সমর্থন দেখা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি স্পষ্টভাবে বলেন, পশ্চিমা ঐক্য বজায় রাখতে হলে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা এবং খোলামেলা অবস্থান জরুরি। তিনি মেলোনির অবস্থানকে ইতালীয় জনগণের অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবেই তুলে ধরেন।

সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন

মাত্র এক মাস আগেও ট্রাম্প মেলোনিকে “দারুণ নেতা” বলে প্রশংসা করেছিলেন। ২০২৫ সালে তার শপথ অনুষ্ঠানে একমাত্র ইউরোপীয় নেতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলোনি। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই সম্পর্ক এখন সমালোচনা ও সন্দেহে রূপ নিয়েছে।

Trump accuses Italy's Meloni of not having 'courage' to back Iran war | Euronews

রাজনৈতিক চাপ ও নতুন চ্যালেঞ্জ

সম্প্রতি মেলোনির জন্য সময়টা বেশ কঠিন যাচ্ছে। বিচার সংস্কার নিয়ে গণভোটে পরাজয় এবং হাঙ্গেরিতে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভিক্টর অরবানের ক্ষমতাচ্যুতি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাব, যা ইতালির অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

সংঘাত থেকে দূরে থাকার কৌশল

এই পরিস্থিতিতে মেলোনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সামরিক পদক্ষেপ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি ইতালির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও স্থগিত করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তার মতপার্থক্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মিত্রতা যত দ্রুত গড়ে ওঠে, তত দ্রুতই তা ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কের এই পরিবর্তন শুধু দুই দেশের মধ্যেই নয়, বরং বৃহত্তর পশ্চিমা জোটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও নতুন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা

ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনায় মেলোনি, মিত্রতায় ফাটল নাকি নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন

০২:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন, যা দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি অভিযোগ করেন, মেলোনির মধ্যে সাহসের অভাব রয়েছে এবং তিনি ওয়াশিংটনকে হতাশ করেছেন।

মেলোনির অবস্থান পরিবর্তন

একসময় ট্রাম্পের জোরালো সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন মেলোনি। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের ধর্মীয় নেতা পোপ লিওকে নিয়ে মন্তব্যের প্রকাশ্য সমালোচনা করে তিনি আরও স্পষ্ট অবস্থান নেন। এই মন্তব্যকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেন, যা দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়।

হরমুজ প্রণালী ও কৌশলগত বিরোধ

Trump turns on Meloni, says he is 'shocked' by Italian leader | Reuters

ট্রাম্পের প্রধান অভিযোগগুলোর একটি ছিল হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রশ্নে ইতালির অনীহা। ইরানের অবরোধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্প মনে করেন, ইতালির মতো দেশগুলোর উচিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে এই সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া।

তিনি অভিযোগ করেন, ইতালি উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত নয় এবং এই দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে দিতে চায়।

ইতালির প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ সমর্থন

যদিও মেলোনির কার্যালয় এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি, ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পক্ষে দৃঢ় সমর্থন দেখা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি স্পষ্টভাবে বলেন, পশ্চিমা ঐক্য বজায় রাখতে হলে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা এবং খোলামেলা অবস্থান জরুরি। তিনি মেলোনির অবস্থানকে ইতালীয় জনগণের অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবেই তুলে ধরেন।

সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন

মাত্র এক মাস আগেও ট্রাম্প মেলোনিকে “দারুণ নেতা” বলে প্রশংসা করেছিলেন। ২০২৫ সালে তার শপথ অনুষ্ঠানে একমাত্র ইউরোপীয় নেতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলোনি। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই সম্পর্ক এখন সমালোচনা ও সন্দেহে রূপ নিয়েছে।

Trump accuses Italy's Meloni of not having 'courage' to back Iran war | Euronews

রাজনৈতিক চাপ ও নতুন চ্যালেঞ্জ

সম্প্রতি মেলোনির জন্য সময়টা বেশ কঠিন যাচ্ছে। বিচার সংস্কার নিয়ে গণভোটে পরাজয় এবং হাঙ্গেরিতে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভিক্টর অরবানের ক্ষমতাচ্যুতি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাব, যা ইতালির অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

সংঘাত থেকে দূরে থাকার কৌশল

এই পরিস্থিতিতে মেলোনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সামরিক পদক্ষেপ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি ইতালির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও স্থগিত করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তার মতপার্থক্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মিত্রতা যত দ্রুত গড়ে ওঠে, তত দ্রুতই তা ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কের এই পরিবর্তন শুধু দুই দেশের মধ্যেই নয়, বরং বৃহত্তর পশ্চিমা জোটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও নতুন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।