ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের প্রভাবে সোমালিয়ায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। আগে থেকেই দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি ও বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার চাপে থাকা দেশটিতে এখন জীবনরক্ষাকারী পুষ্টিকর খাদ্যের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
শিশুদের জন্য খাদ্য সংকট
দেশটিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে পড়ে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার যেমন বিশেষ দুধ ও চিনাবাদামভিত্তিক পেস্ট সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় অনেক ক্লিনিক এখন শিশুদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের অসহায়তা
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, সীমিত সরবরাহের কারণে শিশুদের দেওয়া খাবারের পরিমাণও কমিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।
যুদ্ধের প্রভাব ও সরবরাহ জট
ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, ফলে প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। আগে যেখানে ইউরোপ থেকে খাদ্য পৌঁছাতে এক মাসের মতো সময় লাগত, এখন তা প্রায় দুই মাস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এতে সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
খরচ বেড়ে যাওয়ায় সহায়তা কমছে
পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় একই পরিমাণ অর্থে আগের মতো শিশুদের সহায়তা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক সংস্থাকে কম সংখ্যক শিশুকে সহায়তা দিতে হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়ছে
বর্তমানে সোমালিয়ার প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। এর মধ্যে ২০ লাখের বেশি মানুষ জরুরি পর্যায়ে, যা দুর্ভিক্ষের ঠিক আগের স্তর। সহায়তা কমে যাওয়া এবং নতুন সংকট যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।
সহায়তা ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
জাতিসংঘের সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, প্রয়োজনীয় অর্থ ও সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ইতিমধ্যে অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে এবং হাজার হাজার শিশু চিকিৎসার বাইরে থেকে গেছে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব শুধু জ্বালানি বা অর্থনীতিতে নয়—সোমালিয়ার মতো সংকটাপন্ন দেশে তা হয়ে উঠেছে জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। এখন জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা না বাড়ালে পরিস্থিতি দ্রুত দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















