০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

রক্তের চাহিদা বাড়ছে, দাতার সংকট মোকাবিলায় নতুন প্রণোদনা দিচ্ছে সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুরে সামনে বড় ধরনের রক্তসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৩ সালের মধ্যে রক্তের চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।

চাহিদা বাড়ছে, সরবরাহ কমছে
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বছরে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়, যা মোটামুটি চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তবে আগামী বছরগুলোতে প্রতি বছর ১ থেকে ১.৩ শতাংশ হারে রক্তের চাহিদা বাড়বে। বিপরীতে দাতার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই বড় সংকট দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্যানসারের মতো রোগ বাড়ার কারণে রক্তের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় রক্তের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।

Healthpoint rewards for blood donors from 2026 | The Straits Times

যুব দাতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো তরুণদের মধ্যে রক্তদানের আগ্রহ কমে যাওয়া। ২০১৫ সালে যেখানে মোট দাতার ২৮ শতাংশ ছিল তরুণ, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ১২ শতাংশে। এর পেছনে তরুণ জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং অংশগ্রহণ কমে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন প্রণোদনা ও উদ্যোগ
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন প্রণোদনা চালু করেছে। রক্তদাতাদের জন্য বিশেষ পয়েন্ট দেওয়া হবে, যা ব্যবহার করে পরিবহন, খাদ্য কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভাউচার নেওয়া যাবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামে ছাড় পাওয়ার সুযোগও থাকবে।

এছাড়া রক্তদাতাদের সুবিধার জন্য অনলাইনে নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা সহজেই জানতে পারবেন তারা রক্তদানের জন্য উপযুক্ত কি না এবং কখন দিতে পারবেন। একই সঙ্গে অ্যাপের মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করাও সহজ করা হবে।

বয়সসীমা বাড়ানোসহ অন্যান্য পদক্ষেপ
রক্তদাতার সংখ্যা বাড়াতে প্রথমবার দানকারীদের জন্য বয়সসীমা বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে নতুন করে প্রবীণদের অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করেছে।

এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে বড় আকারে রক্তদান কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মীকে রক্তদান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

Could incentives help increase blood donations safely? | The Star

মানবিক উদ্যোগের উদাহরণ
অনেক নিয়মিত দাতা ইতোমধ্যেই এই উদ্যোগে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছেন। কেউ কেউ কয়েকশবার রক্তদান করে অন্যদেরও উৎসাহিত করছেন। তাদের মতে, সুস্থ জীবনযাপন বজায় রাখলে নিয়মিত রক্তদান সম্ভব এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব।

সম্ভাব্য সংকটের প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি চাহিদার তুলনায় রক্তের সরবরাহ কমে যায়, তাহলে অস্ত্রোপচার বিলম্বিত হতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বাতিলও করতে হতে পারে। রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীদের জন্য এটি জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংক্ষেপে বলা যায়, ভবিষ্যতের বড় সংকট এড়াতে এখনই রক্তদানে সচেতনতা বাড়ানো এবং দাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

রক্তের চাহিদা বাড়ছে, দাতার সংকট মোকাবিলায় নতুন প্রণোদনা দিচ্ছে সিঙ্গাপুর

০৩:০০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সিঙ্গাপুরে সামনে বড় ধরনের রক্তসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৩ সালের মধ্যে রক্তের চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।

চাহিদা বাড়ছে, সরবরাহ কমছে
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বছরে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়, যা মোটামুটি চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তবে আগামী বছরগুলোতে প্রতি বছর ১ থেকে ১.৩ শতাংশ হারে রক্তের চাহিদা বাড়বে। বিপরীতে দাতার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই বড় সংকট দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্যানসারের মতো রোগ বাড়ার কারণে রক্তের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় রক্তের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।

Healthpoint rewards for blood donors from 2026 | The Straits Times

যুব দাতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো তরুণদের মধ্যে রক্তদানের আগ্রহ কমে যাওয়া। ২০১৫ সালে যেখানে মোট দাতার ২৮ শতাংশ ছিল তরুণ, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ১২ শতাংশে। এর পেছনে তরুণ জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং অংশগ্রহণ কমে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন প্রণোদনা ও উদ্যোগ
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন প্রণোদনা চালু করেছে। রক্তদাতাদের জন্য বিশেষ পয়েন্ট দেওয়া হবে, যা ব্যবহার করে পরিবহন, খাদ্য কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভাউচার নেওয়া যাবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামে ছাড় পাওয়ার সুযোগও থাকবে।

এছাড়া রক্তদাতাদের সুবিধার জন্য অনলাইনে নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা সহজেই জানতে পারবেন তারা রক্তদানের জন্য উপযুক্ত কি না এবং কখন দিতে পারবেন। একই সঙ্গে অ্যাপের মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করাও সহজ করা হবে।

বয়সসীমা বাড়ানোসহ অন্যান্য পদক্ষেপ
রক্তদাতার সংখ্যা বাড়াতে প্রথমবার দানকারীদের জন্য বয়সসীমা বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে নতুন করে প্রবীণদের অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করেছে।

এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে বড় আকারে রক্তদান কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মীকে রক্তদান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

Could incentives help increase blood donations safely? | The Star

মানবিক উদ্যোগের উদাহরণ
অনেক নিয়মিত দাতা ইতোমধ্যেই এই উদ্যোগে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছেন। কেউ কেউ কয়েকশবার রক্তদান করে অন্যদেরও উৎসাহিত করছেন। তাদের মতে, সুস্থ জীবনযাপন বজায় রাখলে নিয়মিত রক্তদান সম্ভব এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব।

সম্ভাব্য সংকটের প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি চাহিদার তুলনায় রক্তের সরবরাহ কমে যায়, তাহলে অস্ত্রোপচার বিলম্বিত হতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বাতিলও করতে হতে পারে। রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীদের জন্য এটি জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংক্ষেপে বলা যায়, ভবিষ্যতের বড় সংকট এড়াতে এখনই রক্তদানে সচেতনতা বাড়ানো এবং দাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।