আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের দুর্গম পার্বত্য এলাকা, হিন্দুকুশ পর্বতমালার পাদদেশে, জীবিকার তাগিদে শত শত মানুষ এখন নদীর বালু ও পাথর ঘেঁটে খুঁজছেন সোনার কণা। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় তারা নিজেরাই তৈরি করেছেন এই নতুন আয়ের পথ, যেখানে প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রমই একমাত্র ভরসা।
কাজের অভাবেই নতুন পেশা
দেশজুড়ে কর্মসংস্থানের সংকট দীর্ঘদিনের। এমন বাস্তবতায় অনেকে পুরনো পেশা ছেড়ে চলে এসেছেন নদীর তীরে। কেউ নির্মাণশ্রমিক ছিলেন, কেউ অন্য কাজে যুক্ত ছিলেন—এখন তারা সবাই একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন, সোনার ক্ষুদ্র কণা খুঁজে পাওয়া।
একজন শ্রমিক জানান, দেশে কাজের সুযোগ খুব কম। তাই বাধ্য হয়েই তারা এই পেশায় নেমেছেন।
নদীর বালু থেকে সোনা তোলার কঠিন প্রক্রিয়া
কুনার নদীর শুকনো অংশে প্রথমে পাথর ও বালু খুঁড়ে সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো বড় চালুনিতে রেখে নদীর পানি ঢেলে আলাদা করা হয়। ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হয়, আর শেষে কখনও কখনও ছোট একটি সোনার কণা দেখা যায়।
এই কাজ শুধু শ্রমসাধ্যই নয়, সময়সাপেক্ষও। অনেক সময় পুরো দিনের পরিশ্রমের ফল হয় খুবই সামান্য।

সামান্য সোনাতেই বড় আশা
শ্রমিকদের ভাষায়, তারা যে সোনা পান তা প্রায়ই গমের দানার চেয়েও ছোট। তবে কখনও কখনও সপ্তাহে এক গ্রাম পর্যন্ত সোনা পাওয়া যায়, যা তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য আয়।
এই সামান্য অর্জনই তাদের জীবনের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
এই খনন কার্যক্রম ঘিরে পরিবেশগত উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। কিছু মানুষ যন্ত্র ব্যবহার করে খনন শুরু করায় নদী ও পাহাড়ের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবিতে অনেক ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতেই কাজ সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা চলছে।

ঐতিহ্য আর বাস্তবতার মিশ্রণ
স্থানীয়দের মতে, এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সোনা খোঁজার কাজ চলে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা বেড়েছে অনেক বেশি। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা খনিশ্রমিকদের কাছ থেকেই অনেকেই এই পদ্ধতি শিখেছেন।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তবু আশাবাদ
দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। এখন ধীরে ধীরে খনিজ সম্পদের দিকে নজর বাড়ছে। তবে এই শ্রমিকদের জন্য প্রতিদিনই এক নতুন চ্যালেঞ্জ—পরিশ্রম আর অনিশ্চয়তার মাঝেই তারা খুঁজে ফিরছেন জীবনের সামান্য স্বস্তি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















