০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কলেজ শিক্ষার্থীর বানানো গো-কার্টে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী ধান কাটাকে কেন্দ্র করে খুলনায় সংঘর্ষ, বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল কৃষকের উত্তর আমেরিকার সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বকাপের আগে ঐক্যের স্বপ্নে ফাটল বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে: জামায়াত আমিরের কড়া অভিযোগ চট্টগ্রামের রাউজানে ফের গুলি, বিএনপি কর্মী নিহত—দুই মাসে তৃতীয় হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক যুদ্ধ বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে অস্ত্রশিল্প: নতুন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, পিছিয়ে ইউরোপ আইন প্রণয়নে ঢুকে পড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাড়ছে সুবিধা আবার শঙ্কাও ১৫ ঘণ্টা চালুর পরই আবার বন্ধ বড়পুকুরিয়া, যান্ত্রিক ত্রুটিতে পুরো উৎপাদন থমকে নিউইয়র্কে ধনীদের ওপর নতুন কর, তীব্র বিতর্কের মাঝে ‘সাশ্রয়ী শহর’ গড়ার চেষ্টা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের আভাস, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা তুঙ্গে

হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপ কি বৈধ?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার নামে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে বলে আলোচনা চলছে। এতে আন্তর্জাতিক আইন, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—আসলে এমন টোল আদায় কি বৈধ?

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। প্রণালীটি তুলনামূলকভাবে সরু, ফলে এখানে যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ করতে টোল আদায়ের দাবি তুলেছে।

আন্তর্জাতিক আইন কী বলে

সমুদ্রপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালে গৃহীত এবং ১৯৯৪ সালে কার্যকর হওয়া জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই আইনের আওতায় হরমুজের মতো আন্তর্জাতিক প্রণালীতে জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে, যাকে বলা হয় “ট্রানজিট প্যাসেজ”।

একই সঙ্গে উপকূলবর্তী দেশগুলো তাদের নিজস্ব জলসীমার মধ্যে কিছু নিয়ম আরোপ করতে পারে, তবে সেখানে “নির্দোষ চলাচল” নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, জাহাজের চলাচল যদি শান্তি, নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলার জন্য হুমকি না হয়, তাহলে সেটি বাধা দেওয়া যাবে না।

তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এই সনদে স্বাক্ষর না করায় আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই সনদের নীতিগুলো এখন আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইনের অংশ হয়ে গেছে, তাই তা প্রায় সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

টোল আরোপ নিয়ে বিতর্ক

ইরান দাবি করছে, তারা এই প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টোল নিতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের টোল আরোপ বৈধ নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দেশ যদি ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়, তাহলে তারা কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দাবি করতে পারে। ইরান এমন যুক্তি তুলে ধরলেও তা সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

টোলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ

এই ধরনের টোল আদায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রয়োগযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেই। তবে আন্তর্জাতিক আদালত বা সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে রায় দিতে পারে, যদিও তা কার্যকর করা কঠিন।

অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশ একত্রিত হয়ে চাপ প্রয়োগ করতে পারে অথবা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে প্রস্তাব আনতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু কোম্পানি বিকল্প পথ খোঁজা শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

ভবিষ্যতের ঝুঁকি ও বাস্তবতা

হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই নতুন সংকট শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। টোল আরোপের বিষয়টি আইনি দৃষ্টিতে বিতর্কিত থাকলেও বাস্তবতায় এটি একটি বড় কৌশলগত চাপ হিসেবে কাজ করছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান ও সমন্বিত পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কতটা উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।

কলেজ শিক্ষার্থীর বানানো গো-কার্টে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপ কি বৈধ?

০৫:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার নামে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে বলে আলোচনা চলছে। এতে আন্তর্জাতিক আইন, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—আসলে এমন টোল আদায় কি বৈধ?

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। প্রণালীটি তুলনামূলকভাবে সরু, ফলে এখানে যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ করতে টোল আদায়ের দাবি তুলেছে।

আন্তর্জাতিক আইন কী বলে

সমুদ্রপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালে গৃহীত এবং ১৯৯৪ সালে কার্যকর হওয়া জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই আইনের আওতায় হরমুজের মতো আন্তর্জাতিক প্রণালীতে জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে, যাকে বলা হয় “ট্রানজিট প্যাসেজ”।

একই সঙ্গে উপকূলবর্তী দেশগুলো তাদের নিজস্ব জলসীমার মধ্যে কিছু নিয়ম আরোপ করতে পারে, তবে সেখানে “নির্দোষ চলাচল” নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, জাহাজের চলাচল যদি শান্তি, নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলার জন্য হুমকি না হয়, তাহলে সেটি বাধা দেওয়া যাবে না।

তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এই সনদে স্বাক্ষর না করায় আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই সনদের নীতিগুলো এখন আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইনের অংশ হয়ে গেছে, তাই তা প্রায় সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

টোল আরোপ নিয়ে বিতর্ক

ইরান দাবি করছে, তারা এই প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টোল নিতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের টোল আরোপ বৈধ নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দেশ যদি ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়, তাহলে তারা কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দাবি করতে পারে। ইরান এমন যুক্তি তুলে ধরলেও তা সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

টোলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ

এই ধরনের টোল আদায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রয়োগযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেই। তবে আন্তর্জাতিক আদালত বা সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে রায় দিতে পারে, যদিও তা কার্যকর করা কঠিন।

অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশ একত্রিত হয়ে চাপ প্রয়োগ করতে পারে অথবা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে প্রস্তাব আনতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু কোম্পানি বিকল্প পথ খোঁজা শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

ভবিষ্যতের ঝুঁকি ও বাস্তবতা

হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই নতুন সংকট শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। টোল আরোপের বিষয়টি আইনি দৃষ্টিতে বিতর্কিত থাকলেও বাস্তবতায় এটি একটি বড় কৌশলগত চাপ হিসেবে কাজ করছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান ও সমন্বিত পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কতটা উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।