০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপ কি বৈধ?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার নামে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে বলে আলোচনা চলছে। এতে আন্তর্জাতিক আইন, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—আসলে এমন টোল আদায় কি বৈধ?

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। প্রণালীটি তুলনামূলকভাবে সরু, ফলে এখানে যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ করতে টোল আদায়ের দাবি তুলেছে।

আন্তর্জাতিক আইন কী বলে

সমুদ্রপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালে গৃহীত এবং ১৯৯৪ সালে কার্যকর হওয়া জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই আইনের আওতায় হরমুজের মতো আন্তর্জাতিক প্রণালীতে জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে, যাকে বলা হয় “ট্রানজিট প্যাসেজ”।

একই সঙ্গে উপকূলবর্তী দেশগুলো তাদের নিজস্ব জলসীমার মধ্যে কিছু নিয়ম আরোপ করতে পারে, তবে সেখানে “নির্দোষ চলাচল” নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, জাহাজের চলাচল যদি শান্তি, নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলার জন্য হুমকি না হয়, তাহলে সেটি বাধা দেওয়া যাবে না।

তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এই সনদে স্বাক্ষর না করায় আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই সনদের নীতিগুলো এখন আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইনের অংশ হয়ে গেছে, তাই তা প্রায় সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

টোল আরোপ নিয়ে বিতর্ক

ইরান দাবি করছে, তারা এই প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টোল নিতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের টোল আরোপ বৈধ নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দেশ যদি ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়, তাহলে তারা কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দাবি করতে পারে। ইরান এমন যুক্তি তুলে ধরলেও তা সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

টোলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ

এই ধরনের টোল আদায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রয়োগযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেই। তবে আন্তর্জাতিক আদালত বা সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে রায় দিতে পারে, যদিও তা কার্যকর করা কঠিন।

অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশ একত্রিত হয়ে চাপ প্রয়োগ করতে পারে অথবা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে প্রস্তাব আনতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু কোম্পানি বিকল্প পথ খোঁজা শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

ভবিষ্যতের ঝুঁকি ও বাস্তবতা

হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই নতুন সংকট শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। টোল আরোপের বিষয়টি আইনি দৃষ্টিতে বিতর্কিত থাকলেও বাস্তবতায় এটি একটি বড় কৌশলগত চাপ হিসেবে কাজ করছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান ও সমন্বিত পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কতটা উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপ কি বৈধ?

০৫:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার নামে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে বলে আলোচনা চলছে। এতে আন্তর্জাতিক আইন, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—আসলে এমন টোল আদায় কি বৈধ?

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। প্রণালীটি তুলনামূলকভাবে সরু, ফলে এখানে যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ করতে টোল আদায়ের দাবি তুলেছে।

আন্তর্জাতিক আইন কী বলে

সমুদ্রপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালে গৃহীত এবং ১৯৯৪ সালে কার্যকর হওয়া জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই আইনের আওতায় হরমুজের মতো আন্তর্জাতিক প্রণালীতে জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে, যাকে বলা হয় “ট্রানজিট প্যাসেজ”।

একই সঙ্গে উপকূলবর্তী দেশগুলো তাদের নিজস্ব জলসীমার মধ্যে কিছু নিয়ম আরোপ করতে পারে, তবে সেখানে “নির্দোষ চলাচল” নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, জাহাজের চলাচল যদি শান্তি, নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলার জন্য হুমকি না হয়, তাহলে সেটি বাধা দেওয়া যাবে না।

তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এই সনদে স্বাক্ষর না করায় আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই সনদের নীতিগুলো এখন আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইনের অংশ হয়ে গেছে, তাই তা প্রায় সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

টোল আরোপ নিয়ে বিতর্ক

ইরান দাবি করছে, তারা এই প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টোল নিতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের টোল আরোপ বৈধ নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দেশ যদি ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়, তাহলে তারা কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দাবি করতে পারে। ইরান এমন যুক্তি তুলে ধরলেও তা সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

টোলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ

এই ধরনের টোল আদায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রয়োগযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেই। তবে আন্তর্জাতিক আদালত বা সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে রায় দিতে পারে, যদিও তা কার্যকর করা কঠিন।

অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশ একত্রিত হয়ে চাপ প্রয়োগ করতে পারে অথবা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে প্রস্তাব আনতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু কোম্পানি বিকল্প পথ খোঁজা শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

ভবিষ্যতের ঝুঁকি ও বাস্তবতা

হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই নতুন সংকট শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। টোল আরোপের বিষয়টি আইনি দৃষ্টিতে বিতর্কিত থাকলেও বাস্তবতায় এটি একটি বড় কৌশলগত চাপ হিসেবে কাজ করছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান ও সমন্বিত পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কতটা উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।