ইন্দোনেশিয়ায় দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় দিনের মাথায় প্রধান ওম্বাডসম্যান হেরি সুসান্তোকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি স্থানীয় নিকেল খনি কোম্পানির কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।
ঘুষের অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, হেরি সুসান্তোকে প্রসিকিউটররা গ্রেপ্তার করেছেন। তিনি গত ১০ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর হাতে প্রধান ওম্বাডসম্যান হিসেবে শপথ নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ওম্বাডসম্যান বোর্ডের সদস্য থাকাকালে তিনি একটি নিকেল কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি রুপিয়া (প্রায় ৮৭ হাজার ডলার) গ্রহণ করেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ‘টিএসএইচআই’ নামে চিহ্নিত ওই কোম্পানিটি জরিমানা নির্ধারণ নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে হেরির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জরিমানার অঙ্ক পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়।
জরিমানার অঙ্ক পরিবর্তনের অভিযোগ
তদন্ত সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, বন মন্ত্রণালয় যে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করেছিল, সেটি পরিবর্তন করে নিজের হিসাব অনুযায়ী পরিশোধের নির্দেশ দেন হেরি।
এই ঘটনায় নতুন ফৌজদারি আইনের ঘুষসংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
আটক ও আইনি প্রক্রিয়া
বর্তমানে হেরি সুসান্তোকে জাকার্তার সালেম্বা কারাগারে ২০ দিনের জন্য আটক রাখা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন এই সময়ের মধ্যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি নিয়ে শাসক দলের আইনপ্রণেতা এবং সংসদের কমিশন–২ এর প্রধান রিফকিনিজামি কারসায়ুদা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং হতাশাজনক।
তিনি আরও জানান, চলমান আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানানো হবে, তবে ওম্বাডসম্যানের বাকি আটজন কমিশনারকে দায়িত্ব পালনে সচল থাকতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের কাজ ব্যাহত না হয়।
নিয়োগ ও বিতর্ক
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে সংসদের কমিশন–২ হেরি সুসান্তোর নিয়োগ অনুমোদন করেছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর এত অল্প সময়ের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















