চীনে তৈরি হিউম্যানয়েড রোবটগুলোর দ্রুত উন্নতি এবার চোখে পড়ল বেইজিংয়ের একটি হাফ ম্যারাথনে। রবিবারের এই দৌড়ে বহু রোবট মানুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়ে তাদের গতি, ভারসাম্য ও স্বয়ংক্রিয় চলাচলের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা মানব দৌড়বিদদেরও ছাড়িয়ে গেছে।
গত বছরের তুলনায় বড় পরিবর্তন
এই প্রতিযোগিতার প্রথম আসর গত বছর নানা সমস্যায় ভরা ছিল। বেশিরভাগ রোবটই তখন দৌড় শেষ করতে পারেনি। সেরা রোবটটির সময় ছিল ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, যা মানব বিজয়ীর তুলনায় অনেক বেশি ধীর।
কিন্তু এবারের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে ১০০-এর বেশি হয়েছে। শুধু তাই নয়, কয়েকটি রোবট পেশাদার অ্যাথলেটদের চেয়েও দ্রুত দৌড় শেষ করেছে, মানব বিজয়ীদের তুলনায় ১০ মিনিটেরও বেশি এগিয়ে থেকে।
স্বয়ংক্রিয় চলাচলে বড় অগ্রগতি
এবারের প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছিল রোবটগুলোর স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ। প্রায় অর্ধেক রোবটই দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই নিজেরাই পুরো ২১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে মানুষ ও রোবট আলাদা ট্র্যাকে দৌড়েছে।
রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স
চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড অনারের তৈরি একটি রোবট ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে প্রথম স্থান অধিকার করে। এই সময়টি সাম্প্রতিক বিশ্ব রেকর্ডের চেয়েও দ্রুত। অনারের তিনটি দলই প্রথম তিনটি স্থান দখল করে এবং তাদের সব রোবটই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৌড় সম্পন্ন করে।
প্রযুক্তির ভেতরের গল্প
বিজয়ী দলের প্রকৌশলী দু শিয়াওদি জানান, রোবটটি প্রায় এক বছর ধরে তৈরি করা হয়েছে। এতে মানুষের মতো দৌড়ানোর জন্য ৯০ থেকে ৯৫ সেন্টিমিটার লম্বা পা ব্যবহার করা হয়েছে এবং স্মার্টফোনে ব্যবহৃত তরল শীতলীকরণ প্রযুক্তিও এতে যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও ভবিষ্যতে এটি উৎপাদন শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দ্রুত দৌড়ানোর সক্ষমতা সরাসরি কাজে না লাগলেও এটি যন্ত্রের কাঠামোগত স্থায়িত্ব ও শীতলীকরণ প্রযুক্তির উন্নতিতে সহায়ক।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া
প্রতিযোগিতায় উপস্থিত দর্শকরা বিভিন্ন আকার ও গতির রোবট দেখে বিস্মিত হন। বেইজিং পোস্টস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতি এত অল্প সময়ে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে—এটা সত্যিই চমকপ্রদ।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ, আর যারা এখনই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শিখবে না, তারা পিছিয়ে পড়বে।
একইভাবে ১১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এই দৌড় দেখে ভবিষ্যতে রোবোটিক্স নিয়ে পড়াশোনা করার অনুপ্রেরণা পেয়েছে বলে জানায়।
বাস্তব ব্যবহার এখনও সীমিত
যদিও এই প্রতিযোগিতা রোবটের সক্ষমতা দেখিয়েছে, তবে শিল্পক্ষেত্রে তাদের ব্যবহার এখনও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারখানায় কাজ করার জন্য যে সূক্ষ্ম দক্ষতা, বাস্তব পরিবেশ বোঝার ক্ষমতা ও জটিল কাজ করার সক্ষমতা দরকার—তা এখনো পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি এই রোবটগুলো।
চীনের বড় লক্ষ্য
হিউম্যানয়েড রোবট খাতে বিশ্ব নেতৃত্ব অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে চীন। এ জন্য দেশটি বিভিন্ন নীতি, ভর্তুকি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে নিচ্ছে।
ফেব্রুয়ারিতে দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে রোবটের প্রদর্শনীতে দেখা গেছে, কীভাবে তারা মার্শাল আর্টের জটিল কৌশলও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে। এসব উদ্যোগ থেকেই বোঝা যায়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি দুনিয়ায় বড় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত হচ্ছে চীন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















