ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঘটে গেল এক রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা। খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রায় চার ঘণ্টা আকাশে ঘুরতে বাধ্য হয় একটি যাত্রীবাহী বিমান, যার মধ্যে আতঙ্কিত যাত্রীদের কান্না, প্রার্থনা ও চিৎকারের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিবরণ
ফ্লাইটটি বিকেল প্রায় ৩টার দিকে হায়দরাবাদ থেকে যাত্রা শুরু করে এবং নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানোর। কিন্তু গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছেই খারাপ আবহাওয়ার মুখে পড়ে বিমানটি। নিরাপত্তার কারণে পাইলট অবতরণের চেষ্টা বাতিল করেন।
এরপর প্রায় চার ঘণ্টা আকাশে চক্কর দিতে থাকে বিমানটি। এই সময় বিমানটি বিভিন্ন এলাকার আকাশে ঘুরতে থাকে, আর ভেতরে বাড়তে থাকে যাত্রীদের উৎকণ্ঠা।
বিমানের ভেতরের আতঙ্ক
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক যাত্রী ভয়ে প্রার্থনা করছেন। কেউ কাঁদছেন, কেউ আবার অন্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এক নারী প্রথমে শান্তভাবে প্রার্থনা করলেও পরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চারপাশে শোনা যায় আতঙ্কিত যাত্রীদের চিৎকার।
কেউ কেউ পাইলটকে অন্য বিমানবন্দরে নামার পরামর্শও দেন। নিকটবর্তী শহরে অবতরণের প্রস্তাব উঠে আসে যাত্রীদের মধ্য থেকেই।
পাইলটের ঘোষণা
এই পরিস্থিতিতে পাইলট যাত্রীদের ধৈর্য ধরতে বলেন এবং জানান যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। নিয়ম মেনে সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করা হয়।
পরিবারের ক্ষোভ
ঘটনার পর যাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বিমান সংস্থা থেকে যথাসময়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি, যার ফলে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
বিমান সংস্থার ব্যাখ্যা
বিমান সংস্থা জানায়, বিমানে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। খারাপ আবহাওয়ার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থেই অবতরণ স্থগিত করা হয় এবং বিকল্প বিমানবন্দরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
তারা আরও জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়া প্রশিক্ষিত ক্রুর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে।
নিরাপদ অবতরণ
অবশেষে দীর্ঘ সময়ের উত্তেজনার পর বিমানটি সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে অন্য একটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। এতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















