০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা বিমানের ওয়েবসাইটে ‘অনটাইম’, বাস্তবে ২২ ঘণ্টা বিলম্ব: সিলেট-জেদ্দা ফ্লাইটে ৮ শতাধিক যাত্রীর দুর্ভোগ বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ, বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান আজহারির ঢাকা ক্লাবের ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেইন লাউঞ্জ ঝুঁকিতে, জরুরি প্রকৌশল মূল্যায়নের তাগিদ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ডিএমপি ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ, বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রতিবন্ধী সেবার অধিকার সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের আহ্বান খেলনা গাড়ির চাকার হুইলচেয়ারে নতুন জীবন পেল আহত বিড়ালছানা জেলাটো কাবেরীর পানি নিয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু, কর্ণাটকের বিরুদ্ধে আদেশ অমান্যের অভিযোগ এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ মাঝআকাশে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল কেন? বর্ষার আকাশে টার্বুলেন্সের ঝুঁকি ব্যাখ্যা

মধ্যযুগে নোংরা নয়, পরিকল্পিত ছিল টয়লেট ব্যবস্থা—ইউরোপের অজানা পরিচ্ছন্নতার ইতিহাস

মধ্যযুগের ইউরোপকে আমরা অনেক সময় নোংরা আর দুর্গন্ধে ভরা এক সময় হিসেবে কল্পনা করি। কিন্তু বাস্তবতা ছিল কিছুটা ভিন্ন। সেই সময়েও মানুষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতন ছিল এবং শহর, দুর্গ ও মঠে ছিল বিভিন্ন ধরনের টয়লেট ব্যবস্থা।

শহরের নিয়মে বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ

চতুর্দশ শতকের ইউরোপের ব্যস্ত শহরগুলোতে নানা ধরনের গন্ধ থাকলেও মানববর্জ্যের দুর্গন্ধ সবসময় ততটা প্রকট ছিল না। কারণ, শহর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ বা গিল্ডগুলো বর্জ্য ফেলা, ড্রেনেজ এবং রাস্তা পরিষ্কার রাখার জন্য কঠোর নিয়ম চালু করেছিল। অনেক জায়গায় রাস্তায় ময়লা ফেলা নিষিদ্ধ ছিল এবং শহরের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা ছিল।

গর্তভিত্তিক টয়লেটের ব্যবহার

Were medieval toilets as filthy as you think? | HistoryExtra

সাধারণত মধ্যযুগের টয়লেট বলতে বোঝাত একটি গর্তের ওপর বসানো আসন। এই গর্ত কাঠ বা পাথর দিয়ে ঘেরা হতে পারত। ধনী পরিবারের ক্ষেত্রে এই গর্তগুলো পাথর দিয়ে তৈরি হতো, যা পরিষ্কার করা সহজ ছিল। অনেক সময় ঘরের ওপরের তলা থেকে একটি পাইপের মতো পথ দিয়ে নিচের গর্তে বর্জ্য পড়ত। তবে তখন কোনো ফ্লাশ ব্যবস্থা ছিল না, ফলে বর্জ্য জমে থাকত এবং সময় সময় তা পরিষ্কার করা হতো।

দুর্গে ‘গার্ডারোব’ টয়লেট

দুর্গ বা প্রাসাদে টয়লেট ছিল আরও উন্নত। ‘গার্ডারোব’ নামে পরিচিত এই টয়লেটগুলো দেয়ালের ভেতরে তৈরি করা হতো। উপরে বসার জায়গা এবং নিচে সরাসরি বাইরে বা খালে বর্জ্য পড়ার ব্যবস্থা থাকত। বাতাস চলাচলের কারণে দুর্গন্ধ নিচে নেমে যেত। মজার বিষয় হলো, অনেক সময় মানুষ এখানে কাপড় ঝুলিয়ে রাখত, কারণ দুর্গন্ধ পোকামাকড় দূরে রাখত।

মঠে উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা

মঠগুলোতে ছিল সবচেয়ে উন্নত টয়লেট ব্যবস্থা। সেখানে একাধিক আসনের সারি থাকত এবং নিচে পাথরের তৈরি চ্যানেলের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। কাছের নদী থেকে আনা পানি বর্জ্য সরিয়ে নিয়ে যেত। এই ধরনের ব্যবস্থা অনেকটা আধুনিক ফ্লাশ টয়লেটের পূর্বসূরি হিসেবে ধরা যায়।

Just How Filthy Were Medieval Toilets? Were They As Bad As We Think They  Were?

দুর্গন্ধ ও রোগ—তৎকালীন ধারণা

মধ্যযুগের মানুষ দুর্গন্ধকে রোগের কারণ মনে করত। তাদের বিশ্বাস ছিল, দূষিত বাতাস থেকেই রোগ ছড়ায়। তাই তারা টয়লেট ব্যবহারের সময় বাতাসের বিপরীতে মুখ করে বসার পরামর্শ পেত, যাতে দুর্গন্ধ শরীরে না আসে। এই ধারণা তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক করে তোলে।

প্রত্নতত্ত্বে মিলছে নতুন তথ্য

পুরনো গর্ত বা সেসপিট খুঁড়ে গবেষকরা সেই সময়ের খাদ্যাভ্যাস ও বাণিজ্যের তথ্য পেয়েছেন। ফলের বীজ, মাছের হাড় এমনকি বিভিন্ন আমদানিকৃত মসলার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায়, টয়লেট শুধু বর্জ্য ফেলার জায়গা নয়, ইতিহাস জানারও গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

মোটের ওপর, মধ্যযুগকে শুধুই নোংরা সময় হিসেবে দেখার ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সেই সময়ের মানুষও স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতন ছিল এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

মধ্যযুগে নোংরা নয়, পরিকল্পিত ছিল টয়লেট ব্যবস্থা—ইউরোপের অজানা পরিচ্ছন্নতার ইতিহাস

০৪:২১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যযুগের ইউরোপকে আমরা অনেক সময় নোংরা আর দুর্গন্ধে ভরা এক সময় হিসেবে কল্পনা করি। কিন্তু বাস্তবতা ছিল কিছুটা ভিন্ন। সেই সময়েও মানুষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতন ছিল এবং শহর, দুর্গ ও মঠে ছিল বিভিন্ন ধরনের টয়লেট ব্যবস্থা।

শহরের নিয়মে বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ

চতুর্দশ শতকের ইউরোপের ব্যস্ত শহরগুলোতে নানা ধরনের গন্ধ থাকলেও মানববর্জ্যের দুর্গন্ধ সবসময় ততটা প্রকট ছিল না। কারণ, শহর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ বা গিল্ডগুলো বর্জ্য ফেলা, ড্রেনেজ এবং রাস্তা পরিষ্কার রাখার জন্য কঠোর নিয়ম চালু করেছিল। অনেক জায়গায় রাস্তায় ময়লা ফেলা নিষিদ্ধ ছিল এবং শহরের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা ছিল।

গর্তভিত্তিক টয়লেটের ব্যবহার

Were medieval toilets as filthy as you think? | HistoryExtra

সাধারণত মধ্যযুগের টয়লেট বলতে বোঝাত একটি গর্তের ওপর বসানো আসন। এই গর্ত কাঠ বা পাথর দিয়ে ঘেরা হতে পারত। ধনী পরিবারের ক্ষেত্রে এই গর্তগুলো পাথর দিয়ে তৈরি হতো, যা পরিষ্কার করা সহজ ছিল। অনেক সময় ঘরের ওপরের তলা থেকে একটি পাইপের মতো পথ দিয়ে নিচের গর্তে বর্জ্য পড়ত। তবে তখন কোনো ফ্লাশ ব্যবস্থা ছিল না, ফলে বর্জ্য জমে থাকত এবং সময় সময় তা পরিষ্কার করা হতো।

দুর্গে ‘গার্ডারোব’ টয়লেট

দুর্গ বা প্রাসাদে টয়লেট ছিল আরও উন্নত। ‘গার্ডারোব’ নামে পরিচিত এই টয়লেটগুলো দেয়ালের ভেতরে তৈরি করা হতো। উপরে বসার জায়গা এবং নিচে সরাসরি বাইরে বা খালে বর্জ্য পড়ার ব্যবস্থা থাকত। বাতাস চলাচলের কারণে দুর্গন্ধ নিচে নেমে যেত। মজার বিষয় হলো, অনেক সময় মানুষ এখানে কাপড় ঝুলিয়ে রাখত, কারণ দুর্গন্ধ পোকামাকড় দূরে রাখত।

মঠে উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা

মঠগুলোতে ছিল সবচেয়ে উন্নত টয়লেট ব্যবস্থা। সেখানে একাধিক আসনের সারি থাকত এবং নিচে পাথরের তৈরি চ্যানেলের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। কাছের নদী থেকে আনা পানি বর্জ্য সরিয়ে নিয়ে যেত। এই ধরনের ব্যবস্থা অনেকটা আধুনিক ফ্লাশ টয়লেটের পূর্বসূরি হিসেবে ধরা যায়।

Just How Filthy Were Medieval Toilets? Were They As Bad As We Think They  Were?

দুর্গন্ধ ও রোগ—তৎকালীন ধারণা

মধ্যযুগের মানুষ দুর্গন্ধকে রোগের কারণ মনে করত। তাদের বিশ্বাস ছিল, দূষিত বাতাস থেকেই রোগ ছড়ায়। তাই তারা টয়লেট ব্যবহারের সময় বাতাসের বিপরীতে মুখ করে বসার পরামর্শ পেত, যাতে দুর্গন্ধ শরীরে না আসে। এই ধারণা তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক করে তোলে।

প্রত্নতত্ত্বে মিলছে নতুন তথ্য

পুরনো গর্ত বা সেসপিট খুঁড়ে গবেষকরা সেই সময়ের খাদ্যাভ্যাস ও বাণিজ্যের তথ্য পেয়েছেন। ফলের বীজ, মাছের হাড় এমনকি বিভিন্ন আমদানিকৃত মসলার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায়, টয়লেট শুধু বর্জ্য ফেলার জায়গা নয়, ইতিহাস জানারও গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

মোটের ওপর, মধ্যযুগকে শুধুই নোংরা সময় হিসেবে দেখার ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সেই সময়ের মানুষও স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতন ছিল এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল।