০৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মাইন পরিষ্কারে ছয় মাসও লাগতে পারে, দাবি পেন্টাগনের কোরিয়া-মার্কিন মতানৈক্য: উত্তর কোরিয়ার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তথ্য প্রকাশে বিরক্ত ওয়াশিংটন স্যাটেলাইট তথ্য সীমিত করল ট্রাম্প দুর্নীতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন, জনগণের প্রতি গভীর অবজ্ঞা ডা.জাহেদ কি তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ডাস্টবিন মানুষ কেন চুমু খায়? বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায় চমকপ্রদ তথ্য ঝিনাইদহে লাগাতার লোডশেডিং: তীব্র গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন ও ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে চুক্তি, ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ল মুখ ধোয়ার সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার হাঁটেন—পেছনে লুকিয়ে ভিটামিন ঘাটতির সংকেত জাপানের বইপাড়ায় পর্যটনের ঢল: ভাষার বাধা, বদলাবে কি ঐতিহ্য?

টোকিওর পথে ঘুরে দেখা সময়ের গল্প: এক ঘড়ি সংগ্রাহকের জীবনে স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর ইতিহাস

টোকিও শহরের ব্যস্ততার ভেতরেও কিছু গল্প থাকে নিঃশব্দে বয়ে চলা সময়ের মতো—যেখানে একটি ঘড়ি হয়ে ওঠে শুধু সময় জানানোর যন্ত্র নয়, বরং স্মৃতি, সম্পর্ক আর ইতিহাসের সাক্ষী। এমনই এক গল্প নিয়ে সামনে আসেন তরুণ ঘড়ি সংগ্রাহক জে লিউ, যার সংগ্রহে থাকা প্রতিটি ঘড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একেকটি আলাদা অনুভূতি।

সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক

জে লিউয়ের ঘড়ির প্রতি আগ্রহ শুরু হয়েছিল এক নিলাম ঘর থেকে। মূলত চীনা সিরামিক দেখতে গিয়ে তিনি হঠাৎই পুরনো ঘড়ির জগতে প্রবেশ করেন। তখনই উপলব্ধি করেন—ঘড়ি কেবল বিলাসপণ্য নয়, বরং ইতিহাসের একটি অংশ। সেই অনুভূতিই তাকে নিয়ে যায় সংগ্রহের পথে।

তার সংগ্রহে থাকা একটি বিশেষ ঘড়ি—সত্তরের দশকের একটি সোনালি ঘড়ি—তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। কারণ এটি একটি ভ্রমণের শেষে বন্ধুর দেওয়া উপহার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উপহারের মূল্য আরও গভীর হয়েছে। তিনি বলেন, এই একটি ঘড়িই যদি রাখতে হয়, তবে সেটিই রাখবেন।

With Every Watch, This Collector Revels in the Story - The New York Times

টোকিও শহর আর ঘড়ির গল্প

টোকিওর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখানোর সময় লিউ তার প্রিয় রেস্টুরেন্ট, বইয়ের দোকান এবং স্থাপত্যের সঙ্গে মিলিয়ে তুলে ধরেন তার ঘড়ির গল্প। কখনও একটি পুরনো ঘড়ির সূক্ষ্ম নকশা তাকে মনে করিয়ে দেয় ঐতিহ্যবাহী কাবুকি নাটকের নান্দনিকতা, আবার কখনও একটি স্থাপনার জটিল কাঠামো তার কাছে মনে হয় একটি যান্ত্রিক ঘড়ির মতো।

সংগ্রহে ইতিহাস আর গবেষণা

লিউয়ের কাছে ঘড়ি সংগ্রহ মানে শুধু কেনা নয়, বরং গবেষণা করা। প্রতিটি ঘড়ির পেছনের গল্প, নির্মাতা, সময়কাল—সবকিছু জানার মধ্যেই তিনি খুঁজে পান আনন্দ। তার মতে, একটি পুরনো ঘড়ির মূল্য শুধু তার দামে নয়, বরং তার ইতিহাসে।

একটি পুরনো ঘড়ি, যা একসময় একটি শিশুকে স্কুলে ভর্তি হওয়ার উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, আজও রহস্য বহন করে। এর উপর থাকা দাগগুলো কীভাবে এসেছে, তা জানা না গেলেও সেটাই এখন সেই ঘড়ির ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।

With Every Watch, This Collector Revels in the Story - The New York Times

বন্ধুত্ব আর ভাগাভাগির অনন্য দৃষ্টান্ত

একটি বিরল ঘড়ি নিয়ে লিউ এবং তার এক বন্ধুর মধ্যে তৈরি হয় আলাদা এক সিদ্ধান্ত। দুজনেই সেটি কিনতে চাইলে তারা প্রতিযোগিতা না করে একসঙ্গে কিনে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের মতে, একসঙ্গে মালিকানা থাকায় সেই ঘড়ির আনন্দ আরও বেড়ে যায়।

শিল্পীর অবদান ভুলে যাওয়া

লিউ মনে করেন, অনেক সময় আমরা ব্র্যান্ডের নাম মনে রাখি, কিন্তু শিল্পীদের ভুলে যাই, যারা এসব ঘড়ি তৈরি করেছেন। তার সংগ্রহে থাকা একটি বিরল ঘড়ির নকশাকার দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন না, অথচ তার কাজ ছিল অসাধারণ। তিনি বলেন, অনেক সময় শিল্পীর প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তার মৃত্যুর পর।

এইভাবেই জে লিউয়ের ঘড়ির সংগ্রহ হয়ে উঠেছে সময়, স্মৃতি আর মানুষের সম্পর্কের এক অনন্য গল্প—যেখানে প্রতিটি ঘড়ি একটি জীবন্ত ইতিহাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মাইন পরিষ্কারে ছয় মাসও লাগতে পারে, দাবি পেন্টাগনের

টোকিওর পথে ঘুরে দেখা সময়ের গল্প: এক ঘড়ি সংগ্রাহকের জীবনে স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর ইতিহাস

০৯:৪৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

টোকিও শহরের ব্যস্ততার ভেতরেও কিছু গল্প থাকে নিঃশব্দে বয়ে চলা সময়ের মতো—যেখানে একটি ঘড়ি হয়ে ওঠে শুধু সময় জানানোর যন্ত্র নয়, বরং স্মৃতি, সম্পর্ক আর ইতিহাসের সাক্ষী। এমনই এক গল্প নিয়ে সামনে আসেন তরুণ ঘড়ি সংগ্রাহক জে লিউ, যার সংগ্রহে থাকা প্রতিটি ঘড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একেকটি আলাদা অনুভূতি।

সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক

জে লিউয়ের ঘড়ির প্রতি আগ্রহ শুরু হয়েছিল এক নিলাম ঘর থেকে। মূলত চীনা সিরামিক দেখতে গিয়ে তিনি হঠাৎই পুরনো ঘড়ির জগতে প্রবেশ করেন। তখনই উপলব্ধি করেন—ঘড়ি কেবল বিলাসপণ্য নয়, বরং ইতিহাসের একটি অংশ। সেই অনুভূতিই তাকে নিয়ে যায় সংগ্রহের পথে।

তার সংগ্রহে থাকা একটি বিশেষ ঘড়ি—সত্তরের দশকের একটি সোনালি ঘড়ি—তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। কারণ এটি একটি ভ্রমণের শেষে বন্ধুর দেওয়া উপহার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উপহারের মূল্য আরও গভীর হয়েছে। তিনি বলেন, এই একটি ঘড়িই যদি রাখতে হয়, তবে সেটিই রাখবেন।

With Every Watch, This Collector Revels in the Story - The New York Times

টোকিও শহর আর ঘড়ির গল্প

টোকিওর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখানোর সময় লিউ তার প্রিয় রেস্টুরেন্ট, বইয়ের দোকান এবং স্থাপত্যের সঙ্গে মিলিয়ে তুলে ধরেন তার ঘড়ির গল্প। কখনও একটি পুরনো ঘড়ির সূক্ষ্ম নকশা তাকে মনে করিয়ে দেয় ঐতিহ্যবাহী কাবুকি নাটকের নান্দনিকতা, আবার কখনও একটি স্থাপনার জটিল কাঠামো তার কাছে মনে হয় একটি যান্ত্রিক ঘড়ির মতো।

সংগ্রহে ইতিহাস আর গবেষণা

লিউয়ের কাছে ঘড়ি সংগ্রহ মানে শুধু কেনা নয়, বরং গবেষণা করা। প্রতিটি ঘড়ির পেছনের গল্প, নির্মাতা, সময়কাল—সবকিছু জানার মধ্যেই তিনি খুঁজে পান আনন্দ। তার মতে, একটি পুরনো ঘড়ির মূল্য শুধু তার দামে নয়, বরং তার ইতিহাসে।

একটি পুরনো ঘড়ি, যা একসময় একটি শিশুকে স্কুলে ভর্তি হওয়ার উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, আজও রহস্য বহন করে। এর উপর থাকা দাগগুলো কীভাবে এসেছে, তা জানা না গেলেও সেটাই এখন সেই ঘড়ির ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।

With Every Watch, This Collector Revels in the Story - The New York Times

বন্ধুত্ব আর ভাগাভাগির অনন্য দৃষ্টান্ত

একটি বিরল ঘড়ি নিয়ে লিউ এবং তার এক বন্ধুর মধ্যে তৈরি হয় আলাদা এক সিদ্ধান্ত। দুজনেই সেটি কিনতে চাইলে তারা প্রতিযোগিতা না করে একসঙ্গে কিনে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের মতে, একসঙ্গে মালিকানা থাকায় সেই ঘড়ির আনন্দ আরও বেড়ে যায়।

শিল্পীর অবদান ভুলে যাওয়া

লিউ মনে করেন, অনেক সময় আমরা ব্র্যান্ডের নাম মনে রাখি, কিন্তু শিল্পীদের ভুলে যাই, যারা এসব ঘড়ি তৈরি করেছেন। তার সংগ্রহে থাকা একটি বিরল ঘড়ির নকশাকার দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন না, অথচ তার কাজ ছিল অসাধারণ। তিনি বলেন, অনেক সময় শিল্পীর প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তার মৃত্যুর পর।

এইভাবেই জে লিউয়ের ঘড়ির সংগ্রহ হয়ে উঠেছে সময়, স্মৃতি আর মানুষের সম্পর্কের এক অনন্য গল্প—যেখানে প্রতিটি ঘড়ি একটি জীবন্ত ইতিহাস।