বিদেশে বিনিয়োগ নিয়ে নতুন কড়াকড়ির কারণে চীনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কমানোর চেষ্টা করেছে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা। চীনের সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের ফলে মূল ভূখণ্ডের বিনিয়োগকারীদের বিদেশি হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হবে না এবং তাদের সম্পদও জোরপূর্বক বিক্রি করা হবে না।
গত মাসে চীন সীমান্তপারের ‘অবৈধ’ শেয়ারবাজার লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। এর পর থেকেই বহু বিনিয়োগকারী তাদের বিদেশি বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিশেষ করে হংকংভিত্তিক বিনিয়োগ হিসাবগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করল নিয়ন্ত্রক সংস্থা
চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পষ্ট করেছে, বিদেশি ব্রোকারদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ তাদের বৈধ বিদেশি সেবা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে না। অর্থাৎ বিদেশে থাকা বিনিয়োগ হিসাবগুলো চালু থাকবে এবং বিনিয়োগকারীদের সম্পদ নিরাপদ থাকবে।

সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে বিদ্যমান হিসাবগুলো জোর করে বন্ধ করা হবে না। একই সঙ্গে সেই হিসাবের সম্পদও বাধ্যতামূলকভাবে বিক্রি বা সরিয়ে ফেলার কোনো পরিকল্পনা নেই।
৫৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে উদ্বেগ
চীনা বিনিয়োগকারীদের বিদেশি ব্রোকারেজ হিসাবগুলোতে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা। নতুন নিয়মের ঘোষণা আসার পর অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে তাদের সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য করা হতে পারে।
এই আশঙ্কার প্রভাব বাজারেও পড়ে। বিদেশে তালিকাভুক্ত চীনা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা যায় এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ে।
নতুন নিয়মে কী পরিবর্তন আসছে

নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, মূল ভূখণ্ডের চীনা বিনিয়োগকারীরা চাইলে তাদের বর্তমান সম্পদ বিক্রি করে অর্থ সরিয়ে নিতে পারবেন। তবে যেসব বিদেশি ব্রোকার চীনের ভেতরে ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা অন্যান্য মাধ্যমে অনুমোদনহীন সেবা দিচ্ছে, তাদের কার্যক্রম আগামী দুই বছরের মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় বিদেশি ব্রোকার তাদের চীনা গ্রাহকদের জানিয়েছে যে তারা নতুন হিসাব খোলা, নতুন অর্থ জমা বা অতিরিক্ত বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত করবে। তবে বিদেশে থাকা বিদ্যমান সেবাগুলো চালু থাকবে।
মূল লক্ষ্য কী
চীনের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য দেশের পুঁজিবাজারকে আরও সুশৃঙ্খল করা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং অবৈধভাবে অর্থ বিদেশে পাচার ঠেকানো।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো দেশই তার সীমার মধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অবৈধ কার্যক্রম মেনে নেয় না। এসব কর্মকাণ্ড বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে, আর্থিক ঝুঁকি বাড়ায় এবং বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
একই সঙ্গে চীন জানিয়েছে, দেশীয় পুঁজিবাজারে দেশি ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণকে তারা স্বাগত জানায়। তাদের মতে, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাজার এখনো বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















