০৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্যারাকোয়াটের মরণফাঁদ: সস্তা আগাছানাশকে ঝরছে শত শত প্রাণ নীতিনির্ধারকদের জন্য বাজারের সতর্কবার্তা: ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে আস্থার সংকট কতটা গভীর? পেটের মেদ বাড়লে বাড়ে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি, জানুন নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় ধর্ষণ মামলার পর আত্মগোপন, অপহরণের দাবিও ভুয়া: শিবির নেতার বিরুদ্ধে নতুন বিতর্ক সিঙ্গুরে টাটাদের ফেরানোর আশ্বাস, বিনিয়োগ টানতে নতুন রোডম্যাপের ইঙ্গিত ইরানঘেঁষা তেলবাহী জাহাজে হামলা ঘিরে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া প্রতিবাদ ভারতের ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বিতর্ক নতুন করে জোরালো, কিন্তু সমাধান কি সত্যিই সেখানে?  ভারতে  খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ায় মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৩.৯ শতাংশে, ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ন্যাটোর দিকে ঝুঁকছে তুরস্ক, বদলে যাচ্ছে আঙ্কারার কৌশল বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিতর্কের ছায়া, কেলেঙ্কারি পেরিয়েই ফুটবলের মহোৎসব

শেয়ারবাজারে ধস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্মাদনায় বিরতি; এশিয়ার বাজারে বড় পতন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ঘিরে দীর্ঘদিনের শেয়ারবাজার উত্থানে হঠাৎই বড় ধাক্কা লেগেছে। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপে সোমবার এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মূল্য খুব দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পর এখন অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিতে শুরু করেছেন। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই-সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোতে বিক্রির চাপ তীব্র হয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে বড় ধাক্কা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার সূচক প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়, যা এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের একটি। গত সপ্তাহের রেকর্ড উচ্চতা থেকে বাজারটি ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে।

Nikkei 225: Japanese stocks crash in biggest one-day drop since 1987 as  global market rout intensifies | CNN Business

জাপানের প্রধান শেয়ার সূচকও প্রায় ৪ শতাংশ হারিয়েছে। বিশেষ করে চিপ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। তাইওয়ানের বাজারও প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতের দীর্ঘ উত্থানের পর বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি কমাতে চাইছেন। ফলে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো বিক্রির প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সুদের হার নিয়ে নতুন উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেক বিনিয়োগকারী এখন মনে করছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলে সুদের হার কমানোর পরিবর্তে আবারও বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এর ফলে সরকারি বন্ডের মুনাফা বেড়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সাধারণত কম সুদের পরিবেশে বেশি সুবিধা পায়। তাই সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা তাদের শেয়ারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব

Brent oil structure, physical markets reflect fears of supply glut | Reuters

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারের বেশি হয়েছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন।

সামনে নজর মূল্যস্ফীতি ও নতুন শেয়ার তালিকাভুক্তি

এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি তথ্য প্রকাশের দিকে বাজারের বিশেষ নজর থাকবে। পাশাপাশি ইউরোপ ও কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতিও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব নতুন বিনিয়োগ সুযোগের কারণে বিদ্যমান শেয়ারবাজার থেকে কিছু অর্থ বেরিয়ে যেতে পারে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো এটি কি দীর্ঘ উত্থানের পর সাময়িক বিরতি, নাকি প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মূল্যায়নে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা। আগামী কয়েক সপ্তাহের অর্থনৈতিক তথ্য ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত সেই উত্তর অনেকটাই নির্ধারণ করবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারাকোয়াটের মরণফাঁদ: সস্তা আগাছানাশকে ঝরছে শত শত প্রাণ

শেয়ারবাজারে ধস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্মাদনায় বিরতি; এশিয়ার বাজারে বড় পতন

১২:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ঘিরে দীর্ঘদিনের শেয়ারবাজার উত্থানে হঠাৎই বড় ধাক্কা লেগেছে। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপে সোমবার এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মূল্য খুব দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পর এখন অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিতে শুরু করেছেন। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই-সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোতে বিক্রির চাপ তীব্র হয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে বড় ধাক্কা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার সূচক প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়, যা এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের একটি। গত সপ্তাহের রেকর্ড উচ্চতা থেকে বাজারটি ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে।

Nikkei 225: Japanese stocks crash in biggest one-day drop since 1987 as  global market rout intensifies | CNN Business

জাপানের প্রধান শেয়ার সূচকও প্রায় ৪ শতাংশ হারিয়েছে। বিশেষ করে চিপ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। তাইওয়ানের বাজারও প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতের দীর্ঘ উত্থানের পর বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি কমাতে চাইছেন। ফলে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো বিক্রির প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সুদের হার নিয়ে নতুন উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেক বিনিয়োগকারী এখন মনে করছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলে সুদের হার কমানোর পরিবর্তে আবারও বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এর ফলে সরকারি বন্ডের মুনাফা বেড়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সাধারণত কম সুদের পরিবেশে বেশি সুবিধা পায়। তাই সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা তাদের শেয়ারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব

Brent oil structure, physical markets reflect fears of supply glut | Reuters

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারের বেশি হয়েছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন।

সামনে নজর মূল্যস্ফীতি ও নতুন শেয়ার তালিকাভুক্তি

এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি তথ্য প্রকাশের দিকে বাজারের বিশেষ নজর থাকবে। পাশাপাশি ইউরোপ ও কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতিও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব নতুন বিনিয়োগ সুযোগের কারণে বিদ্যমান শেয়ারবাজার থেকে কিছু অর্থ বেরিয়ে যেতে পারে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো এটি কি দীর্ঘ উত্থানের পর সাময়িক বিরতি, নাকি প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মূল্যায়নে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা। আগামী কয়েক সপ্তাহের অর্থনৈতিক তথ্য ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত সেই উত্তর অনেকটাই নির্ধারণ করবে।