০১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
সন্ত ফ্রান্সিসের চরিত্রে ডুব দিতে দুই মাস সন্ন্যাসীদের সঙ্গে শিল্পীর জীবন প্রযুক্তি জায়ান্টদের মুনাফায় নতুন ঝুঁকি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজার কি ‘চক্রাকার’ ফাঁদে? নটর ডেমে নতুন রঙিন কাচের জানালা, ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতার তীব্র বিতর্ক জর্জ মাইকেলের হারিয়ে যাওয়া কনসার্ট ফিরছে পর্দায় তুরস্কের পাহাড়ি নির্জনতায় সাত দিন-রাতের ঘূর্ণি, সবার জন্য উন্মুক্ত সুফি সাধনা চীনের তথ্যভাণ্ডার দিয়ে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা শিশুর ঘরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নজরদারি: নিরাপত্তা নাকি অতিরিক্ত নির্ভরতা? মলদোভা দখলের নীলনকশা! নির্বাচন ঘিরে রাশিয়ার ভয়ংকর ষড়যন্ত্র ফাঁস মালয়েশিয়ায় ডিজেল ভর্তুকি ব্যবস্থায় আসছে বড় পরিবর্তন, শিথিল হচ্ছে যোগ্যতার নিয়ম ২০২৪ সাল থেকে একাধিক দেশে মাদক পাচার করেছেন মালয়েশিয়ার পাইলট

ভারতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, ছোট হচ্ছে প্যাকেট; ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাপে ব্যবসা ও ভোক্তা

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের বাজারে। উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক বড় প্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান দাম অপরিবর্তিত রেখে পণ্যের প্যাকেটের আকার ছোট করে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্বল মুদ্রা পরিস্থিতি এবং আমদানিনির্ভর খাতগুলোর ওপর বাড়তি চাপ ভারতের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়ছে।

দাম না বাড়িয়ে প্যাকেট ছোট

বাজারে কম দামের পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সংবেদনশীলতা বেশি হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি দাম বাড়াতে চাইছে না। বিশেষ করে ১০ থেকে ২০ রুপির পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যসীমা ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

এই কারণে অনেক কোম্পানি একই দামে কম পরিমাণ পণ্য দিচ্ছে। অর্থাৎ পণ্যের ওজন বা পরিমাণ কমিয়ে খরচ সামাল দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এতে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ক্রেতারা বাস্তবে কম পণ্য পাচ্ছেন।

Cereal and pulses are displayed at a supermarket in Bengaluru,

গাড়ি ও বিমান খাতেও প্রভাব

শুধু ভোগ্যপণ্য নয়, গাড়ি শিল্পেও মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। তাদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না।

অন্যদিকে বিমান পরিবহন খাতও চাপে রয়েছে। বিমান জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটে আসনসংখ্যা কমানো এবং ভাড়া বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে

বাজার পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। ভ্রমণ থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য—প্রায় সব ক্ষেত্রেই দাম বাড়ার প্রভাব অনুভূত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উঁচু অবস্থানে থাকলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও চাপের মুখে পড়তে পারে।

India Inc hikes prices, shrinks packs as Iran war squeezes margins - The  Economic Times

খরচ কমাতে মরিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো

বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের অভ্যন্তরীণ খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিজ্ঞাপন, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এবং বিপণন ব্যয়ে কাটছাঁট করা হচ্ছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, খরচ কমানোর সুযোগ ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে আসছে। ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও বেশি মূল্যবৃদ্ধি বা মুনাফা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন

মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক বাণিজ্য রুটে বিঘ্ন ঘটায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা নতুনভাবে সাজাচ্ছে। বিকল্প উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ, নতুন পরিবহন পথ ব্যবহার এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কিছু প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতের ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় আগাম মজুতও বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দ্রুত না কমলে ভারতের বাজারে মূল্যচাপ আরও বাড়তে পারে। এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তা—উভয়কেই দীর্ঘ সময় চ্যালেঞ্জের মুখে থাকতে হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ত ফ্রান্সিসের চরিত্রে ডুব দিতে দুই মাস সন্ন্যাসীদের সঙ্গে শিল্পীর জীবন

ভারতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, ছোট হচ্ছে প্যাকেট; ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাপে ব্যবসা ও ভোক্তা

০১:০২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের বাজারে। উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক বড় প্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান দাম অপরিবর্তিত রেখে পণ্যের প্যাকেটের আকার ছোট করে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্বল মুদ্রা পরিস্থিতি এবং আমদানিনির্ভর খাতগুলোর ওপর বাড়তি চাপ ভারতের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়ছে।

দাম না বাড়িয়ে প্যাকেট ছোট

বাজারে কম দামের পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সংবেদনশীলতা বেশি হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি দাম বাড়াতে চাইছে না। বিশেষ করে ১০ থেকে ২০ রুপির পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যসীমা ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

এই কারণে অনেক কোম্পানি একই দামে কম পরিমাণ পণ্য দিচ্ছে। অর্থাৎ পণ্যের ওজন বা পরিমাণ কমিয়ে খরচ সামাল দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এতে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ক্রেতারা বাস্তবে কম পণ্য পাচ্ছেন।

Cereal and pulses are displayed at a supermarket in Bengaluru,

গাড়ি ও বিমান খাতেও প্রভাব

শুধু ভোগ্যপণ্য নয়, গাড়ি শিল্পেও মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। তাদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না।

অন্যদিকে বিমান পরিবহন খাতও চাপে রয়েছে। বিমান জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটে আসনসংখ্যা কমানো এবং ভাড়া বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে

বাজার পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। ভ্রমণ থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য—প্রায় সব ক্ষেত্রেই দাম বাড়ার প্রভাব অনুভূত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উঁচু অবস্থানে থাকলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও চাপের মুখে পড়তে পারে।

India Inc hikes prices, shrinks packs as Iran war squeezes margins - The  Economic Times

খরচ কমাতে মরিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো

বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের অভ্যন্তরীণ খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিজ্ঞাপন, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এবং বিপণন ব্যয়ে কাটছাঁট করা হচ্ছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, খরচ কমানোর সুযোগ ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে আসছে। ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও বেশি মূল্যবৃদ্ধি বা মুনাফা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন

মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক বাণিজ্য রুটে বিঘ্ন ঘটায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা নতুনভাবে সাজাচ্ছে। বিকল্প উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ, নতুন পরিবহন পথ ব্যবহার এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কিছু প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতের ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় আগাম মজুতও বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দ্রুত না কমলে ভারতের বাজারে মূল্যচাপ আরও বাড়তে পারে। এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তা—উভয়কেই দীর্ঘ সময় চ্যালেঞ্জের মুখে থাকতে হতে পারে।