নিয়মিত শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম বা প্রতিরোধমূলক শরীরচর্চা শুধু পেশি মজবুত করে না, এটি দীর্ঘ জীবন এবং সুস্থ বার্ধক্যের পথও খুলে দিতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময় ধরে এই ধরনের ব্যায়াম করেন, তাদের মধ্যে হৃদরোগ, স্নায়বিক রোগ এবং সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
গবেষণাটি দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাস্থ্য ও ব্যায়ামের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে পরিচালিত হয়েছে। ফলাফল বলছে, নিয়মিত ও পরিমিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম মানুষের সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মৃত্যুঝুঁকি কমার সম্ভাবনা
গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে প্রায় ৯০ থেকে ১১৯ মিনিট শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করেছেন, তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ব্যায়াম না করা মানুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
একই সঙ্গে হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকিও কম দেখা গেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্নায়বিক রোগজনিত মৃত্যুঝুঁকিও কম ছিল, যার বড় একটি অংশ ডিমেনশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
দুই ধরনের ব্যায়ামের সমন্বয়ে বেশি লাভ
গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের সঙ্গে নিয়মিত অ্যারোবিক বা সহনশীলতাভিত্তিক ব্যায়াম যুক্ত হলে স্বাস্থ্যগত সুবিধা আরও বেড়ে যায়।
যারা এই দুই ধরনের ব্যায়াম একসঙ্গে করেছেন, তাদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো ব্যায়ামের সঙ্গে ওজন তোলা বা প্রতিরোধমূলক অনুশীলনের সমন্বয় শরীরের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বেশি ব্যায়াম মানেই বেশি উপকার নয়
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, নির্দিষ্ট সীমার পর অতিরিক্ত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করলেও অতিরিক্ত স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাওয়ার প্রমাণ মেলেনি।
সপ্তাহে প্রায় ১২০ মিনিটের বেশি এই ধরনের ব্যায়াম করলে মৃত্যুঝুঁকি আরও কমে যায়—এমন স্পষ্ট তথ্য গবেষণায় পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, নিয়মিততা এবং পরিমিতিই এখানে মূল বিষয়।

সুস্থ বার্ধক্যের চাবিকাঠি
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ জীবন শুধু বেশি বছর বেঁচে থাকার নাম নয়। প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত এমনভাবে বয়স বাড়ানো, যাতে মানুষ নিজের দৈনন্দিন কাজ স্বাধীনভাবে করতে পারে, চলাফেরা করতে পারে এবং জীবন উপভোগ করতে পারে।
শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশির ভর ও হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ভারসাম্য উন্নত করে, পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বয়সজনিত পরিবর্তনের পর পেশি ও হাড়ের শক্তি দ্রুত কমতে পারে। সে কারণে নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম তাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণার সীমাবদ্ধতা
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণায় ব্যায়াম ও দীর্ঘ জীবনের মধ্যে একটি সম্পর্ক দেখা গেলেও এটি সরাসরি প্রমাণ করে না যে শক্তিবর্ধক ব্যায়ামই দীর্ঘায়ুর একমাত্র কারণ।
এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ধরনের জনগোষ্ঠী এতে বেশি প্রতিনিধিত্ব করেছে। ফলে সব মানুষের ক্ষেত্রে একই ফলাফল প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
তবু সামগ্রিকভাবে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সপ্তাহে নিয়মিত কিছু সময় শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের জন্য বরাদ্দ রাখা সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















