০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি, ফলিমারী গ্রামের আতঙ্ক দূরের আহ্বান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে চুরির সন্দেহে পিটিয়ে যুবক হত্যা, আটক ৩ হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট মৃত্যু ৬৭০ ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বালানি সংকট, পর্যটন মৌসুমে বড় ধাক্কা ভারত ১৪০ কোটি মানুষের দেশ হওয়ার পরও কেন ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি? জৈবপ্রযুক্তির নতুন বিশ্বযুদ্ধে ভারতের সামনে যে ঐতিহাসিক সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত , অনিশ্চয়তায় সমঝোতা ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রামের চরে গৃহহীন ৩০ পরিবার, ঝুঁকিতে আরও শতাধিক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন ঘিরে সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই, বললেন ডিএমপি কমিশনার শ্রমিক শ্রেণির ক্ষোভ, ভাঙা আস্থা এবং ব্রিটিশ রাজনীতির নতুন সন্ধিক্ষণ

সোমালি গৃহযুদ্ধের পর ছিন্ন সংস্কৃতি, রান্নার ভেতরেই ফিরে পাওয়ার লড়াই

সোমালি সমাজে জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে মুখে মুখে—গান, গল্প, নাম আর রান্নার রেসিপির মাধ্যমে। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা যখন ভেঙে যায়, তখন হারিয়ে যেতে বসে পরিচয়। ১৯৯১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের পর ঠিক এমনটাই ঘটেছিল—ছড়িয়ে পড়ে পুরো একটি জাতি। এই বিচ্ছিন্নতার মাঝেই এক লেখক-শেফ নিজের সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে।

যুদ্ধের পর ছড়িয়ে পড়া এক জাতির গল্প

মোগাদিশুতে জন্ম নেওয়া এই শেফ শৈশবেই শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তাঁর পরিবারসহ লাখো সোমালি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন জীবন শুরু করে। গড়ে ওঠে হালাল দোকান, ক্যাফে, মসজিদ—যেখানে মানুষ নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ রাখার চেষ্টা করে।

তবে বাস্তবতা ছিল কঠিন। নতুন দেশে বেড়ে ওঠা অনেকেই আর শিখতে পারেননি নিজের ভাষা, ইতিহাস কিংবা ঐতিহ্যবাহী রান্না। প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সম্পর্ক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

New cookbook by founder of Milk & Myrrh preserves Somali culture | The Seattle Times

মায়ের শেখানো সংস্কৃতির শিকড়

এই শেফ ছিলেন ব্যতিক্রম। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করার পর তাঁর মা সন্তানদের মধ্যে সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেন। স্কুল, কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি রান্না শিখেছেন—কাঞ্জেরো নামের নরম প্যানকেক বানানো, সাম্বুস ভাজা—সবই মায়ের কাছ থেকে।

এই শিক্ষা শুধু রান্না নয়, ছিল নিজের পরিচয় ধরে রাখার পথ।

দেশে ফেরা, নতুন উপলব্ধি

২০১৮ সালে বহু বছর পর তিনি সোমালিয়ায় ফিরে যান। এই সফর বদলে দেয় তাঁর জীবন। চারপাশে নিজের মতো মানুষ, নিজের ভাষা, আর সবচেয়ে বড় কথা—নিজের সংস্কৃতি ফিরে পান তিনি।

সেখানে তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন সোমালি খাবারের বৈশিষ্ট্য—মাংস ও দুধভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস, উটের দুধের ব্যবহার, আর ‘জাওয়াশ’ নামে সাত মসলার অনন্য মিশ্রণ।

How to make Somali Injera/Canjeero | Easy Fermented Flatbread | #Ramadan Day 3 | #iftar #suhoor |

রান্নাঘর থেকেই সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি খাবারকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন। শুরু করেন একটি পপ-আপ রেস্টুরেন্ট, যেখানে সোমালি খাবার পরিবেশন করা হয় নতুনভাবে। প্রবাস জীবনের প্রভাব মিশিয়ে তিনি ঐতিহ্যবাহী খাবারকে নতুন স্বাদে উপস্থাপন করেন।

শৈশবের কাঞ্জেরোকে তিনি ভরাট করেন নতুন উপায়ে, সাম্বুসে দেন ভিন্ন উপকরণ। এই পরিবর্তন শুধু খাবারে নয়, বরং সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষার এক নতুন পথ।

নতুন প্রজন্মের জন্য লেখা হয়ে ওঠা ইতিহাস

মা হওয়ার পর তাঁর মধ্যে দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে যায়। সন্তান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তিনি শুরু করেন রেসিপি লিখে রাখা—যাতে মুখে মুখে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য লিখিতভাবে সংরক্ষিত থাকে।

এই প্রচেষ্টা শুধু রান্নার বই নয়, বরং একটি সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। যুদ্ধ, অভিবাসন আর সময়ের ধাক্কা সত্ত্বেও সোমালি খাবারের ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়—সেই লক্ষ্যেই তাঁর এই পথচলা।

ছোট একটি রান্নাঘর থেকেই শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ হয়ে উঠেছে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন—যেখানে প্রতিটি রেসিপি এক একটি গল্প, এক একটি স্মৃতি, এক একটি পরিচয়ের পুনর্জন্ম।

সংস্কৃতির শিকড় যতই ছিন্ন হোক, তা আবার গড়ে তোলা সম্ভব—যদি থাকে সেই চেষ্টার শক্তি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি, ফলিমারী গ্রামের আতঙ্ক দূরের আহ্বান

সোমালি গৃহযুদ্ধের পর ছিন্ন সংস্কৃতি, রান্নার ভেতরেই ফিরে পাওয়ার লড়াই

০২:২৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

সোমালি সমাজে জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে মুখে মুখে—গান, গল্প, নাম আর রান্নার রেসিপির মাধ্যমে। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা যখন ভেঙে যায়, তখন হারিয়ে যেতে বসে পরিচয়। ১৯৯১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের পর ঠিক এমনটাই ঘটেছিল—ছড়িয়ে পড়ে পুরো একটি জাতি। এই বিচ্ছিন্নতার মাঝেই এক লেখক-শেফ নিজের সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে।

যুদ্ধের পর ছড়িয়ে পড়া এক জাতির গল্প

মোগাদিশুতে জন্ম নেওয়া এই শেফ শৈশবেই শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তাঁর পরিবারসহ লাখো সোমালি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন জীবন শুরু করে। গড়ে ওঠে হালাল দোকান, ক্যাফে, মসজিদ—যেখানে মানুষ নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ রাখার চেষ্টা করে।

তবে বাস্তবতা ছিল কঠিন। নতুন দেশে বেড়ে ওঠা অনেকেই আর শিখতে পারেননি নিজের ভাষা, ইতিহাস কিংবা ঐতিহ্যবাহী রান্না। প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সম্পর্ক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

New cookbook by founder of Milk & Myrrh preserves Somali culture | The Seattle Times

মায়ের শেখানো সংস্কৃতির শিকড়

এই শেফ ছিলেন ব্যতিক্রম। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করার পর তাঁর মা সন্তানদের মধ্যে সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেন। স্কুল, কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি রান্না শিখেছেন—কাঞ্জেরো নামের নরম প্যানকেক বানানো, সাম্বুস ভাজা—সবই মায়ের কাছ থেকে।

এই শিক্ষা শুধু রান্না নয়, ছিল নিজের পরিচয় ধরে রাখার পথ।

দেশে ফেরা, নতুন উপলব্ধি

২০১৮ সালে বহু বছর পর তিনি সোমালিয়ায় ফিরে যান। এই সফর বদলে দেয় তাঁর জীবন। চারপাশে নিজের মতো মানুষ, নিজের ভাষা, আর সবচেয়ে বড় কথা—নিজের সংস্কৃতি ফিরে পান তিনি।

সেখানে তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন সোমালি খাবারের বৈশিষ্ট্য—মাংস ও দুধভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস, উটের দুধের ব্যবহার, আর ‘জাওয়াশ’ নামে সাত মসলার অনন্য মিশ্রণ।

How to make Somali Injera/Canjeero | Easy Fermented Flatbread | #Ramadan Day 3 | #iftar #suhoor |

রান্নাঘর থেকেই সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি খাবারকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন। শুরু করেন একটি পপ-আপ রেস্টুরেন্ট, যেখানে সোমালি খাবার পরিবেশন করা হয় নতুনভাবে। প্রবাস জীবনের প্রভাব মিশিয়ে তিনি ঐতিহ্যবাহী খাবারকে নতুন স্বাদে উপস্থাপন করেন।

শৈশবের কাঞ্জেরোকে তিনি ভরাট করেন নতুন উপায়ে, সাম্বুসে দেন ভিন্ন উপকরণ। এই পরিবর্তন শুধু খাবারে নয়, বরং সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষার এক নতুন পথ।

নতুন প্রজন্মের জন্য লেখা হয়ে ওঠা ইতিহাস

মা হওয়ার পর তাঁর মধ্যে দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে যায়। সন্তান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তিনি শুরু করেন রেসিপি লিখে রাখা—যাতে মুখে মুখে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য লিখিতভাবে সংরক্ষিত থাকে।

এই প্রচেষ্টা শুধু রান্নার বই নয়, বরং একটি সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। যুদ্ধ, অভিবাসন আর সময়ের ধাক্কা সত্ত্বেও সোমালি খাবারের ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়—সেই লক্ষ্যেই তাঁর এই পথচলা।

ছোট একটি রান্নাঘর থেকেই শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ হয়ে উঠেছে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন—যেখানে প্রতিটি রেসিপি এক একটি গল্প, এক একটি স্মৃতি, এক একটি পরিচয়ের পুনর্জন্ম।

সংস্কৃতির শিকড় যতই ছিন্ন হোক, তা আবার গড়ে তোলা সম্ভব—যদি থাকে সেই চেষ্টার শক্তি।