ঢাকার উপকণ্ঠে কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট আগুন নেভাতে কয়েক ঘণ্টা কাজ করে। সন্ধ্যায় পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কীভাবে ছড়াল আগুন
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, টিনের শেডে তৈরি কারখানাটিতে দুপুরের পর আগুন লাগে। ঘটনার রিপোর্ট পাওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বিকেল আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। গ্যাস লাইটার তৈরিতে ব্যবহৃত দাহ্য তরল পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা
কারখানার মালিক ও অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগেও কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা বিধি না মেনে পরিচালিত অসংখ্য ক্ষুদ্র কারখানা এই এলাকায় রয়েছে।
শ্রমিক নিরাপত্তার প্রশ্ন আবার সামনে
বাংলাদেশে প্রতি বছর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় ৫৪ জন, ২০১৯ সালে ৭০ জন এবং ২০১২ সালের গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ডে ১১৭ জন মারা গিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকর পরিদর্শন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















