বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে বহুমাত্রিক চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে নীতিগত সহায়তা আরও জোরদার করা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি।
বৈঠকে সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান
বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই দাবি তুলে ধরা হয়। বিজিএমইএর পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপ-গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়গুলো তুলে ধরে।

নীতি সহায়তার সময় বাড়ানোর প্রস্তাব
বিজিএমইএ বিশেষভাবে একটি প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মতে, খেলাপি ঋণগ্রস্ত হিসাবগুলোর জন্য নীতি সহায়তা পাওয়ার সময়সীমা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা প্রয়োজন। এতে সংকটে থাকা কারখানাগুলো পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
সংকটে থাকা কারখানার পুনরুদ্ধার
প্রতিনিধিরা জানান, অনেক শিল্প ইউনিট বর্তমানে ‘অসুস্থ’ অবস্থায় রয়েছে। সময়সীমা বাড়ানো হলে এসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে। একই সঙ্গে এতে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমানো এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক হবে।
ব্যাংকগুলোর বাস্তবায়নে ঘাটতি
বিজিএমইএ আরও অভিযোগ করে, ঘোষিত নীতি সহায়তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় অনেক যোগ্য কারখানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে তারা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নীতিগুলো বাস্তবায়ন করে।
বন্ধ কারখানা চালুতে সময় চায় শিল্পখাত
বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্যও অতিরিক্ত সময় চেয়েছে সংগঠনটি। সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে আরও সময় প্রয়োজন, যাতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশ্বাস
বৈঠকে উপ-গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ বিজিএমইএর প্রস্তাবগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
উল্লেখ্য, বৈঠকে বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম, জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















