ভারতের মুদ্রাবাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো পতনের ধারায় রুপি আবারও দুর্বল হয়ে ৯৪-এর গণ্ডি অতিক্রম করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও এই পতন থামানো যায়নি, কারণ একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের শক্ত অবস্থান রুপির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপি ডলারের বিপরীতে ২৩ পয়সা কমে ৯৪.০১-এ দাঁড়ায়, যা আগের দিনের ৯৩.৭৮ থেকে আরও নিচে নেমে যাওয়া নির্দেশ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি টানা চার দিনের পতন, যা সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘতম নিম্নমুখী ধারা।
তেলের দাম ও ডলারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরে উঠে যাওয়ায় রুপির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলার শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় রুপির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাবাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝোঁক এবং ডলারের চাহিদা বাড়ায় রুপির ওপর চাপ বাড়ছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপে অতিরিক্ত জল্পনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবুও মূল অর্থনৈতিক সূচকগুলোর প্রভাব এখনও প্রবল।
মূল অর্থনৈতিক চাপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপির দুর্বলতার পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ তেলের দামের ফলে চলতি হিসাব ঘাটতির বৃদ্ধি এবং বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক অর্থপ্রবাহ হ্রাস। এই পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে রুপির ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।
আরও বলা হচ্ছে, যদি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং তেলের দাম আবার বাড়ে, তাহলে রুপির অবমূল্যায়ন আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। তবে মুদ্রাবাজারে জল্পনা নিয়ন্ত্রণে থাকায় নিকট ভবিষ্যতে অতীতের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।

শেয়ারবাজারেও ধাক্কা
মুদ্রাবাজারের পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধসংক্রান্ত উদ্বেগ এবং মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় ভারতের প্রধান সূচকগুলো প্রায় ১ শতাংশ করে পতন দেখেছে।
বিএসই সেনসেক্স ৮৫২ পয়েন্ট কমে ৭৭,৬৬৪-এ নেমে আসে, আর এনএসই নিফটি৫০ সূচক ২০৫ পয়েন্ট কমে ২৪,১৭৩-এ দাঁড়ায়।
সার্বিকভাবে, আন্তর্জাতিক তেলের দাম, ডলারের শক্ত অবস্থান এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা—এই তিনটি বড় কারণ রুপির ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে, যা নিকট ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















