০৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই কি বদলে যাবে ইরানের অর্থনীতি? ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আমিরাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা শুধু খাবার নয়, মানুষকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির নাম অ্যান্থনি বোর্দেইন ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জাতীয় সম্মাননা ফিরিয়ে দিলেন চলচ্চিত্রকার ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে নেতার কটাক্ষ: ‘রিকশা থেকে প্রাডো, জুলাই চেতনা বিক্রির রাজনীতি বন্ধ হোক’ দায়িত্ব শুরু করলেন ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ডেঙ্গুতে আরও এক মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ১৯৮ জন: আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৫,৫০০ বিশ্বকাপের অর্ধেক পথ পেরিয়ে নকআউট উত্তেজনা, মেসি-এমবাপ্পেদের চোখ এখন শিরোপায় বেইজিং বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, সই হলো একাধিক সমঝোতা স্মারক

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো পেট্রলে ও ডিজেলে যথাক্রমে ২০ রুপি ও ১০০ রুপি লোকসান দিচ্ছে

ভারতে আন্তর্জাতিক তেলের দামের উত্থান সত্ত্বেও পাম্পমূল্য স্থির রাখায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলো পেট্রলে লিটারপ্রতি প্রায় ২০ রুপি এবং ডিজেলে প্রায় ১০০ রুপি করে আয়ঘাটতির মুখে পড়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থে এই মূল্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর চাপ বাড়ছে জ্বালানি খাতে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের উত্থান

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে ব্রেন্ট তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার, তা বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এই ধারাবাহিক উত্থান জ্বালানি খাতে ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

আয়ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ চাপ

Rs 100/litre hit on diesel, Rs 20 on petrol; govt rules out hike - Economy  News | The Financial Express

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল বিপণন কোম্পানিগুলো প্রতিদিনই পেট্রোল ও ডিজেলে উল্লেখযোগ্য আয়ঘাটতির মুখে পড়ছে। তবে এই ক্ষতিকে সরাসরি লোকসান না বলে সম্ভাব্য বাজারদরের তুলনায় আয় কম হওয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দীর্ঘদিন উঁচুতে থাকলে এই পরিস্থিতি টেকসই নাও হতে পারে।

নির্বাচনের পর মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা

খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলমান রাজ্য নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানির দাম আংশিকভাবে বাড়ানো হতে পারে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকে। তবে সরকার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির গুজব নাকচ করে দিয়েছে এবং জানিয়েছে, এমন কোনো প্রস্তাব বিবেচনায় নেই।

স্থির পাম্পমূল্য ও বাস্তবতা

বর্তমানে দিল্লিতে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ৯৪.৭৭ রুপি এবং ডিজেল ৮৭.৬৭ রুপিতে, যা গত দুই বছর ধরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। কিন্তু বাজারদর অনুযায়ী বিক্রি করলে এই দাম যথাক্রমে প্রায় ১১৪.৭৭ রুপি এবং ১৮৭.৬৭ রুপি হওয়ার কথা ছিল।

Fuel retailers losing Rs 20/litre on petrol, Rs 100 on diesel sales, but no  plan to hike fuel prices: Govt | Business News - The Indian Express

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির ভূমিকা

ভারতের জ্বালানি খুচরা বাজারে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম—এই তিন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের দখল প্রায় ৯০ শতাংশ। কাগজে জ্বালানির দাম নির্ধারণ মুক্ত হলেও বাস্তবে সরকার এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

সরকারি পদক্ষেপ

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সম্প্রতি সরকার পেট্রোল ও ডিজেলে লিটারপ্রতি ১০ রুপি করে আবগারি শুল্ক কমিয়েছে। একই সঙ্গে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানিতে কর আরোপ করা হয়েছে, যাতে দেশীয় সরবরাহ নিশ্চিত থাকে।

ভারত যেহেতু প্রায় ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা সরাসরি দেশের জ্বালানি খাতকে প্রভাবিত করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের স্বস্তি বজায় থাকলেও তেল কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই কি বদলে যাবে ইরানের অর্থনীতি?

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো পেট্রলে ও ডিজেলে যথাক্রমে ২০ রুপি ও ১০০ রুপি লোকসান দিচ্ছে

০৪:০১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ভারতে আন্তর্জাতিক তেলের দামের উত্থান সত্ত্বেও পাম্পমূল্য স্থির রাখায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলো পেট্রলে লিটারপ্রতি প্রায় ২০ রুপি এবং ডিজেলে প্রায় ১০০ রুপি করে আয়ঘাটতির মুখে পড়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থে এই মূল্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর চাপ বাড়ছে জ্বালানি খাতে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের উত্থান

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে ব্রেন্ট তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার, তা বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এই ধারাবাহিক উত্থান জ্বালানি খাতে ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

আয়ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ চাপ

Rs 100/litre hit on diesel, Rs 20 on petrol; govt rules out hike - Economy  News | The Financial Express

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল বিপণন কোম্পানিগুলো প্রতিদিনই পেট্রোল ও ডিজেলে উল্লেখযোগ্য আয়ঘাটতির মুখে পড়ছে। তবে এই ক্ষতিকে সরাসরি লোকসান না বলে সম্ভাব্য বাজারদরের তুলনায় আয় কম হওয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দীর্ঘদিন উঁচুতে থাকলে এই পরিস্থিতি টেকসই নাও হতে পারে।

নির্বাচনের পর মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা

খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলমান রাজ্য নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানির দাম আংশিকভাবে বাড়ানো হতে পারে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকে। তবে সরকার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির গুজব নাকচ করে দিয়েছে এবং জানিয়েছে, এমন কোনো প্রস্তাব বিবেচনায় নেই।

স্থির পাম্পমূল্য ও বাস্তবতা

বর্তমানে দিল্লিতে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ৯৪.৭৭ রুপি এবং ডিজেল ৮৭.৬৭ রুপিতে, যা গত দুই বছর ধরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। কিন্তু বাজারদর অনুযায়ী বিক্রি করলে এই দাম যথাক্রমে প্রায় ১১৪.৭৭ রুপি এবং ১৮৭.৬৭ রুপি হওয়ার কথা ছিল।

Fuel retailers losing Rs 20/litre on petrol, Rs 100 on diesel sales, but no  plan to hike fuel prices: Govt | Business News - The Indian Express

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির ভূমিকা

ভারতের জ্বালানি খুচরা বাজারে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম—এই তিন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের দখল প্রায় ৯০ শতাংশ। কাগজে জ্বালানির দাম নির্ধারণ মুক্ত হলেও বাস্তবে সরকার এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

সরকারি পদক্ষেপ

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সম্প্রতি সরকার পেট্রোল ও ডিজেলে লিটারপ্রতি ১০ রুপি করে আবগারি শুল্ক কমিয়েছে। একই সঙ্গে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানিতে কর আরোপ করা হয়েছে, যাতে দেশীয় সরবরাহ নিশ্চিত থাকে।

ভারত যেহেতু প্রায় ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা সরাসরি দেশের জ্বালানি খাতকে প্রভাবিত করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের স্বস্তি বজায় থাকলেও তেল কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।