যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতার উচ্চ হারকে এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, পর্যটক ও শিক্ষার্থীসহ অনভিবাসী ভিসাগুলোর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
কেন এই সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি সহায়তা গ্রহণের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি, সেসব দেশের ওপর এই সাময়িক স্থগিতাদেশ আরোপ করা হয়েছে। মূলত করদাতাদের অর্থের ওপর চাপ কমানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশটির সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তবে এই স্থগিতাদেশ কতদিন বহাল থাকবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
কোন ভিসায় প্রভাব নেই
ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ কেবল অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ পর্যটক ভিসা, শিক্ষার্থী ভিসা কিংবা অন্যান্য অস্থায়ী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া আগের মতোই চালু থাকবে। ফলে যারা স্বল্পমেয়াদি উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের জন্য আপাতত কোনো বাধা তৈরি হয়নি।

সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসন পরিকল্পনায় সাময়িক স্থবিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও অনভিবাসী ভিসা চালু থাকায় শিক্ষার্থী ও পর্যটন খাতে তেমন বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















