যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন হাই স্ট্রিটে অবস্থিত ছোট দোকান বা মিনি-মার্টগুলোতে প্রকাশ্যে কোকেন, গাঁজা, লাফিং গ্যাস ও প্রেসক্রিপশন ওষুধ বিক্রি হচ্ছে—এমনই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক আন্ডারকভার তদন্তে। গোপনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, এসব দোকানে খুব সহজেই ক্রেতাদের কাছে মাদকদ্রব্য প্রস্তাব করা হচ্ছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে গবেষকরা পশ্চিম মিডল্যান্ডসের চারটি পার্শ্ববর্তী শহরের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করেন। একাধিক জায়গায় তারা মাদক বিক্রির প্রস্তাব পান, যা প্রমাণ করে যে এই অবৈধ কার্যক্রম এখন আর আড়ালে নেই, বরং প্রকাশ্যেই চলছে।
অপরাধচক্রের দখলে ব্যবসা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক গোপন সূত্র একটি এলাকাকে “আইনহীন” বলে বর্ণনা করেছে। শুধু মাদক বিক্রিই নয়, এসব এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমও বেড়েছে। কাছাকাছি একটি শহরে বৈধ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা স্থানীয় গ্যাংয়ের হুমকি-ধমকি এবং ছুরি ও বন্দুক হামলার মতো সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছেন।

জাতীয় অপরাধ সংস্থা ও ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, সংগঠিত অপরাধচক্রগুলো এখন হাই স্ট্রিটের দোকানগুলোকে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। এই দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে তারা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশজুড়ে বিস্তার
তদন্তে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাম্প্রতিক সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডেভনের বিডেফোর্ড থেকে নরফোকের গ্রেট ইয়ারমাউথ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট পর্যন্ত অন্তত ৭০টির বেশি দোকান ও সংশ্লিষ্ট স্থানে মাদক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ক্রিস্টাল মেথ ও হেরোইনের মতো বিপজ্জনক মাদকও রয়েছে।
সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। এক সিনিয়র সংসদ সদস্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, সংগঠিত অপরাধের এই “ক্যানসার” দূর না করলে হাই স্ট্রিটগুলোকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়।

সরকারি প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে, পুলিশ, জাতীয় অপরাধ সংস্থা এবং ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডসের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব অপরাধী ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে, মাদক বিক্রি, অসামাজিক আচরণ ও অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে তারা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, খুচরা দোকানগুলোর আড়ালে গড়ে ওঠা এই অবৈধ নেটওয়ার্ক দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















