যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, একই সঙ্গে আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এখনো নিখোঁজ থাকায় জোরদার করা হয়েছে অনুসন্ধান অভিযান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ শুক্রবার সকালে টাম্পা উপসাগরের ওপর অবস্থিত হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা ব্রিস্টি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজের রহস্য ও পুলিশের অভিযান
কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৬ এপ্রিল থেকে জামিল লিমন ও নাহিদা ব্রিস্টি দুজনেই নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের এক বন্ধু তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বিষয়টি জানালে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
লিমনকে শেষবার তার অ্যাপার্টমেন্টে দেখা গিয়েছিল। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর ব্রিস্টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিজ্ঞান ভবনে শেষবারের মতো দেখা যায়। এরপর থেকেই তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

রুমমেট আটক, একাধিক অভিযোগ
ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবেইহকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতা, মারধর, বেআইনি আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর খবর গোপন রাখা এবং মরদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে একটি বাড়িতে গার্হস্থ্য সহিংসতার অভিযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ করে ফেলেন এবং আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানান।
পরে সোয়াট দল মোতায়েন করা হলে তিনি শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বেরিয়ে আসেন। শুরুতে তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও পরে তা বন্ধ করে দেন বলে জানানো হয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর খোঁজে তৎপরতা
হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার জানান, নাহিদা ব্রিস্টিকে খুঁজে পেতে জোর তল্লাশি চলছে। তার অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধান এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















