চাঁদপুরে পৃথক দুই উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক গৃহবধূ ও এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট
হাজীগঞ্জে গৃহবধূর করুণ পরিণতি
হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের কুরুলী মুন্সিবাড়ি এলাকায় দুপুরের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুমাইয়া আক্তার (২২) একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে চলে আসেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা তার চিৎকার শুনে দ্রুত উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতের স্বামী শরিফ হোসেন মুন্সি জানান, সুমাইয়া পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

মতলব দক্ষিণে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
অন্যদিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাধি উত্তর ইউনিয়নের নাওগাঁও গ্রামে আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ইসরাত জাহান ইমা (১৫) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে তার নানার অনুরোধে বাড়ির ছাদে জমে থাকা পাতা পরিষ্কার করতে মই বেয়ে ওপরে ওঠে ইমা। এ সময় ছাদের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি বৈদ্যুতিক তার আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সেটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল। বিষয়টি বুঝতে না পেরে ইমা তার সংস্পর্শে এলে তীব্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।
তাকে দ্রুত মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা ও পরিবারে শোকের ছাপ
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ইমা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তার মা বিদেশে কর্মরত এবং বাবা চট্টগ্রামে থাকেন। পড়াশোনার জন্য তিনি নানাবাড়িতে থাকতেন। হঠাৎ এমন মৃত্যুতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভীর শোক নেমে এসেছে।
চাঁদপুরে একই দিনে দুই উপজেলায় ঘটে যাওয়া এই দুটি দুর্ঘটনা আবারও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অসতর্কতা ও ত্রুটিপূর্ণ তারের কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















