দেশের চলমান জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এক বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সংকট কোনো রাজনৈতিক দলের সৃষ্ট নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
রোববার রাজধানীতে এক কর্মসূচি শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন এবং বলেন, সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব
রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য উভয়ই চাপে পড়েছে। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই পড়ছে। তিনি দাবি করেন, এই বাস্তবতায় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে দায়ী করা ঠিক নয়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর
জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী একটি দেশ সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছে।

কর কমানোর দাবি
এ সময় তিনি সরকারের কাছে সৌর প্যানেল সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ আমদানিতে কর কমানোর দাবি জানান। তার মতে, সাধারণ মানুষ যদি সহজে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করতে পারে, তাহলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ স্থানীয়ভাবেই পূরণ সম্ভব হবে।
আত্মনির্ভরতার বার্তা
রিজভী আরও বলেন, জ্বালানি খাতে আত্মনির্ভরতা অর্জন করতে পারলে বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপও কমবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি ইস্যুটি যে শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
জ্বালানি সংকট নিয়ে বিতর্কের এই সময়ে সমাধানের পথ খুঁজতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের ওপর চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















