০৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান ভারতের ধর্মের সুরে রাজনীতি: সায়নী ঘোষের বার্তা, বিভাজনের ভাষা না সহাবস্থানের রাজপথ? দিদি বনাম দিদি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে নিঃশব্দ লড়াইয়ের অদৃশ্য রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের শেষ লড়াইয়ের আগে প্রচারের মাঠে বিজেপির মুখের সংকট: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নেতৃত্বহীনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ার লোককথা থেকে বিশ্বমঞ্চে: ‘পারা পেরাসুক’ ছবির সাফল্যের গল্প শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের ‘ সাপুসাপু ‘ মাছ এখন ইন্দোনেশিয়ার বিপদ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: অন্তত আট মাস ভোগান্তিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি, সতর্ক করলেন সরকার আমেরিকায় হাম ফিরে আসছে: টিকাদানে শিথিলতা, সামনে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা ৩০ হাজার হামলা, তবু জয় নেই: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কি সত্যিই এগিয়ে?

চীনের কড়া বার্তা: রাশিয়া ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে নাম না সরালে ইইউকেই ভুগতে হবে

চীন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের নাম দ্রুত সরানোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেইজিং স্পষ্ট করে দিয়েছে, এ বিষয়ে সমাধান না হলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নতুন উত্তেজনা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি যুদ্ধ ঘিরে তাদের ২০তম দফা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এতে মূল ভূখণ্ড চীন ও হংকংয়ের ২৭টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। অভিযোগ করা হয়, এসব প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার সামরিক ও শিল্প খাতে সহায়তা দিয়েছে কিংবা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে।

এই সিদ্ধান্তের পরপরই চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের বক্তব্য, এই নিষেধাজ্ঞা দুই পক্ষের পারস্পরিক আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংলাপের আহ্বান, তবে সতর্কবার্তা

চীন বলছে, বিরোধ মেটাতে আলোচনাই একমাত্র পথ। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে—যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে তার পরিণতি ইইউকেই বহন করতে হবে। বেইজিংয়ের মতে, তাদের আপত্তি উপেক্ষা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

পাল্টা পদক্ষেপে চীন

ইইউর নিষেধাজ্ঞার পরদিনই চীন পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। সাতটি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা ঠিকাদার, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং স্যাটেলাইট গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব সংস্থাকে চীনে উৎপাদিত সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহারের পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চীনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ বা সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ান ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের সামরিক সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করে আসছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে

চীন-ইইউ সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাশিয়ার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ইউরোপের নতুন বাণিজ্য নীতিমালা এই উত্তেজনা বাড়ানোর অন্যতম কারণ। এসব নীতিকে চীন তাদের বিনিয়োগ ও রপ্তানির ওপর চাপ হিসেবে দেখছে।

আংশিক সমাধানের ইঙ্গিত

তবে উত্তেজনার মাঝেও কিছু ইতিবাচক সংকেত দেখা গেছে। চীন সম্প্রতি দুটি লিথুয়ানিয়ান ব্যাংকের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নও চীনের দুটি ব্যাংককে তাদের নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়, কারণ তারা রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বন্ধ করেছে বলে নিশ্চিত হয়।

নতুন সরবরাহ শৃঙ্খল নীতি

এর মধ্যেই চীন একটি নতুন ১৮ দফা সরবরাহ শৃঙ্খল নীতিমালা চালু করেছে। এতে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বা পণ্যের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এই পুরো পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির দ্বন্দ্ব আরও গভীর হচ্ছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

চীন-ইইউ উত্তেজনা বাড়ছে, নিষেধাজ্ঞা ঘিরে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে সম্পর্কের টানাপোড়েন তীব্র হচ্ছে।

পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান

চীনের কড়া বার্তা: রাশিয়া ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে নাম না সরালে ইইউকেই ভুগতে হবে

০৭:২২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

চীন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের নাম দ্রুত সরানোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেইজিং স্পষ্ট করে দিয়েছে, এ বিষয়ে সমাধান না হলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নতুন উত্তেজনা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি যুদ্ধ ঘিরে তাদের ২০তম দফা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এতে মূল ভূখণ্ড চীন ও হংকংয়ের ২৭টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। অভিযোগ করা হয়, এসব প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার সামরিক ও শিল্প খাতে সহায়তা দিয়েছে কিংবা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে।

এই সিদ্ধান্তের পরপরই চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের বক্তব্য, এই নিষেধাজ্ঞা দুই পক্ষের পারস্পরিক আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংলাপের আহ্বান, তবে সতর্কবার্তা

চীন বলছে, বিরোধ মেটাতে আলোচনাই একমাত্র পথ। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে—যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে তার পরিণতি ইইউকেই বহন করতে হবে। বেইজিংয়ের মতে, তাদের আপত্তি উপেক্ষা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

পাল্টা পদক্ষেপে চীন

ইইউর নিষেধাজ্ঞার পরদিনই চীন পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। সাতটি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা ঠিকাদার, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং স্যাটেলাইট গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব সংস্থাকে চীনে উৎপাদিত সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহারের পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চীনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ বা সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ান ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের সামরিক সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করে আসছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে

চীন-ইইউ সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাশিয়ার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ইউরোপের নতুন বাণিজ্য নীতিমালা এই উত্তেজনা বাড়ানোর অন্যতম কারণ। এসব নীতিকে চীন তাদের বিনিয়োগ ও রপ্তানির ওপর চাপ হিসেবে দেখছে।

আংশিক সমাধানের ইঙ্গিত

তবে উত্তেজনার মাঝেও কিছু ইতিবাচক সংকেত দেখা গেছে। চীন সম্প্রতি দুটি লিথুয়ানিয়ান ব্যাংকের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নও চীনের দুটি ব্যাংককে তাদের নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়, কারণ তারা রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বন্ধ করেছে বলে নিশ্চিত হয়।

নতুন সরবরাহ শৃঙ্খল নীতি

এর মধ্যেই চীন একটি নতুন ১৮ দফা সরবরাহ শৃঙ্খল নীতিমালা চালু করেছে। এতে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বা পণ্যের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এই পুরো পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির দ্বন্দ্ব আরও গভীর হচ্ছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

চীন-ইইউ উত্তেজনা বাড়ছে, নিষেধাজ্ঞা ঘিরে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে সম্পর্কের টানাপোড়েন তীব্র হচ্ছে।