বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত, বিশেষ করে নিটওয়্যার শিল্প এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। টানা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতিকে ‘অভূতপূর্ব সংকট’ হিসেবে তুলে ধরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কৌশলগত বাজেট দাবি করেছে সংগঠনটি।
রপ্তানি আয়ে বড় ধস
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে জমা দেওয়া প্রস্তাবে বিকেএমইএ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে নিটওয়্যার রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে রপ্তানি আয়ে ধারাবাহিকভাবে পতন চলছে, যা দেশের পোশাক শিল্পের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংকটের পেছনের কারণ
বিকেএমইএর মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যাগুলো একসঙ্গে মিলে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে কারখানাগুলো তাদের সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম উৎপাদনে চালাতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে স্থায়ী ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও শ্রমিক ব্যয় বাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে।
লোডশেডিং মোকাবিলায় প্রস্তাব
উৎপাদন সচল রাখতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। তারা সৌর প্যানেল ও শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থার শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব কমিয়ে উৎপাদন চালু রাখা যায়।

কর ও নীতিগত ছাড়ের দাবি
শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিকেএমইএ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রপ্তানিতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা এবং আগামী পাঁচ বছর এটিকে চূড়ান্ত কর হিসেবে নির্ধারণ। পাশাপাশি সব রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ১০ শতাংশ একক করহার নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। সরকার প্রদত্ত নগদ প্রণোদনার ওপর বর্তমানে আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।
এছাড়া, আধুনিকায়নের স্বার্থে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ‘সার্কুলার অর্থনীতি’ গড়ে তুলতে বর্জ্য কাপড় ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য তন্তুর ওপর সব ধরনের ভ্যাট ও অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শিল্প টিকিয়ে রাখার লড়াই
বিকেএমইএ বলছে, এসব প্রস্তাব শুধুই কর ছাড় নয়, বরং শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য জরুরি কৌশল। সময়মতো নীতিগত সহায়তা না পেলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। এতে জাতীয় রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও কঠিন হয়ে উঠবে।
সংগঠনটির মতে, এখনই কার্যকর সিদ্ধান্ত না নিলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শিল্পকে স্থিতিশীল করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিকেএমইএ।
নিটওয়্যার রপ্তানি সংকট
নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি আয় কমছে, টিকে থাকতে কৌশলগত বাজেট ও কর ছাড় চায় বিকেএমইএ—শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















