১০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক-বন্ধু জিজ্ঞাসাবাদে রোবটের পড়ে যাওয়া থেকে বিশ্বশক্তির উত্থান: প্রযুক্তির হাসির আড়ালে কঠিন বাস্তব পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান ভারতের ধর্মের সুরে রাজনীতি: সায়নী ঘোষের বার্তা, বিভাজনের ভাষা না সহাবস্থানের রাজপথ? দিদি বনাম দিদি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে নিঃশব্দ লড়াইয়ের অদৃশ্য রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের শেষ লড়াইয়ের আগে প্রচারের মাঠে বিজেপির মুখের সংকট: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নেতৃত্বহীনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ার লোককথা থেকে বিশ্বমঞ্চে: ‘পারা পেরাসুক’ ছবির সাফল্যের গল্প শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের ‘ সাপুসাপু ‘ মাছ এখন ইন্দোনেশিয়ার বিপদ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: অন্তত আট মাস ভোগান্তিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি, সতর্ক করলেন সরকার

রোবটের পড়ে যাওয়া থেকে বিশ্বশক্তির উত্থান: প্রযুক্তির হাসির আড়ালে কঠিন বাস্তব

মানুষের পড়ে যাওয়া দেখলে হাসি পায়—এই সাধারণ মানবিক প্রবৃত্তি বহুদিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক এক ঘটনা সেই ধারণাকে যেন নতুন মাত্রা দিয়েছে। যখন রোবট পড়ে যায়, হোঁচট খায়, বা অদ্ভুতভাবে আচরণ করে—সেটা যেন আরও বেশি বিনোদন তৈরি করে। কারণ এখানে হাসির সঙ্গে মিশে থাকে এক ধরনের বিস্ময়: প্রযুক্তি এতদূর এগিয়েছে, তবু এখনও কতটা অসম্পূর্ণ।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে সম্প্রতি শতাধিক রোবট নিয়ে একটি হাফ-ম্যারাথন আয়োজন সেই বিস্ময়কে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। কেউ দৌড়ের শুরুতেই ভেঙে পড়েছে, কেউ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অদ্ভুত আচরণ করেছে, আবার কেউ মাঝপথে বিকল হয়ে গেছে। এসব দৃশ্য নিছক মজার হলেও, ঘটনাটির গভীরে লুকিয়ে আছে বড় এক প্রশ্ন—আমরা কি প্রযুক্তির ব্যর্থতাকে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছি, নাকি তার ভেতরের সম্ভাবনাকে বুঝতে পারছি না?

প্রযুক্তির পরীক্ষাগারে ব্যর্থতা স্বাভাবিক। বরং ইতিহাস বলে, বড় উদ্ভাবনের পেছনে থাকে অসংখ্য ব্যর্থ প্রচেষ্টা। যে রোবট দৌড়াতে গিয়ে পড়ে গেল, সেটিই হয়তো ভবিষ্যতের আরও উন্নত যন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করছে। আর যে রোবট নির্ভুলভাবে দৌড় শেষ করেছে, সেটি দেখিয়ে দিচ্ছে—মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে প্রযুক্তি কতটা দ্রুত এগোচ্ছে।

Rise of the robots: What advances mean for workers - BBC News

এখানেই আসে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। পশ্চিমা বিশ্বের একটি বড় অংশ চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে সন্দেহের চোখে দেখে। তাদের কাছে এটি শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং এক ধরনের হুমকি। কিন্তু অন্য একটি দৃষ্টিকোণ বলছে—যে দেশ নতুন কিছু করার সাহস রাখে, তার সাফল্যকে ভয় নয়, বরং বোঝা উচিত।

চীন বর্তমানে শুধু রোবট নয়, কৃষি, মহাকাশ, শক্তি উৎপাদন—বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। স্বয়ংক্রিয় কৃষি বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে মহাকাশ অভিযানে নতুন মাইলফলক—সব ক্ষেত্রেই তারা সীমা ভাঙার চেষ্টা করছে। এই প্রচেষ্টা নিখুঁত নয়, কিন্তু তা ভবিষ্যতের পথ তৈরি করছে।

ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, এমন পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। একসময় ব্রিটেন শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে বিশ্বকে নতুন দিশা দেখিয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেয়। এখন সেই জায়গায় উঠে আসছে চীন। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে, প্রযুক্তির নেতৃত্ব কোনো একটি দেশের স্থায়ী সম্পদ নয়—এটি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।

2025 Is the Year of the Humanoid Robot Factory Worker | WIRED

তবে প্রশ্ন থেকে যায়—সব দেশ কি এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরি না হলে প্রতিভা থাকলেও তা বিকশিত হয় না। নতুন কিছু করার সাহস, ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়ার সংস্কৃতি—এই তিনটি ছাড়া প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্ভব নয়।

একটি ছোট ঘটনার উদাহরণ এখানে প্রাসঙ্গিক। একটি শিশুর ছোট ব্যবসা উদ্যোগ ভেঙে দেওয়া হলে, সেটি শুধু একটি ক্ষুদ্র ক্ষতি নয়—এটি ভবিষ্যতের উদ্যোক্তা মানসিকতার ওপর আঘাত। যেখানে উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া হয় না, সেখানে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও কমে যায়।

রোবটের পড়ে যাওয়া হয়তো আমাদের হাসায়, কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় এক বাস্তবতা। যারা আজ ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে এগোচ্ছে, তারাই আগামী দিনের বিশ্বকে গড়ে তুলবে। আর যারা শুধু সমালোচনায় ব্যস্ত, তারা হয়তো পিছিয়েই পড়বে।

প্রযুক্তির এই দৌড়ে প্রশ্নটা তাই খুব সরল—আমরা কি শুধু দর্শক হয়ে থাকব, নাকি নিজেরাও দৌড়ে নামব?

ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক-বন্ধু জিজ্ঞাসাবাদে

রোবটের পড়ে যাওয়া থেকে বিশ্বশক্তির উত্থান: প্রযুক্তির হাসির আড়ালে কঠিন বাস্তব

০৮:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের পড়ে যাওয়া দেখলে হাসি পায়—এই সাধারণ মানবিক প্রবৃত্তি বহুদিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক এক ঘটনা সেই ধারণাকে যেন নতুন মাত্রা দিয়েছে। যখন রোবট পড়ে যায়, হোঁচট খায়, বা অদ্ভুতভাবে আচরণ করে—সেটা যেন আরও বেশি বিনোদন তৈরি করে। কারণ এখানে হাসির সঙ্গে মিশে থাকে এক ধরনের বিস্ময়: প্রযুক্তি এতদূর এগিয়েছে, তবু এখনও কতটা অসম্পূর্ণ।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে সম্প্রতি শতাধিক রোবট নিয়ে একটি হাফ-ম্যারাথন আয়োজন সেই বিস্ময়কে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। কেউ দৌড়ের শুরুতেই ভেঙে পড়েছে, কেউ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অদ্ভুত আচরণ করেছে, আবার কেউ মাঝপথে বিকল হয়ে গেছে। এসব দৃশ্য নিছক মজার হলেও, ঘটনাটির গভীরে লুকিয়ে আছে বড় এক প্রশ্ন—আমরা কি প্রযুক্তির ব্যর্থতাকে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছি, নাকি তার ভেতরের সম্ভাবনাকে বুঝতে পারছি না?

প্রযুক্তির পরীক্ষাগারে ব্যর্থতা স্বাভাবিক। বরং ইতিহাস বলে, বড় উদ্ভাবনের পেছনে থাকে অসংখ্য ব্যর্থ প্রচেষ্টা। যে রোবট দৌড়াতে গিয়ে পড়ে গেল, সেটিই হয়তো ভবিষ্যতের আরও উন্নত যন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করছে। আর যে রোবট নির্ভুলভাবে দৌড় শেষ করেছে, সেটি দেখিয়ে দিচ্ছে—মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে প্রযুক্তি কতটা দ্রুত এগোচ্ছে।

Rise of the robots: What advances mean for workers - BBC News

এখানেই আসে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। পশ্চিমা বিশ্বের একটি বড় অংশ চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে সন্দেহের চোখে দেখে। তাদের কাছে এটি শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং এক ধরনের হুমকি। কিন্তু অন্য একটি দৃষ্টিকোণ বলছে—যে দেশ নতুন কিছু করার সাহস রাখে, তার সাফল্যকে ভয় নয়, বরং বোঝা উচিত।

চীন বর্তমানে শুধু রোবট নয়, কৃষি, মহাকাশ, শক্তি উৎপাদন—বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। স্বয়ংক্রিয় কৃষি বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে মহাকাশ অভিযানে নতুন মাইলফলক—সব ক্ষেত্রেই তারা সীমা ভাঙার চেষ্টা করছে। এই প্রচেষ্টা নিখুঁত নয়, কিন্তু তা ভবিষ্যতের পথ তৈরি করছে।

ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, এমন পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। একসময় ব্রিটেন শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে বিশ্বকে নতুন দিশা দেখিয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেয়। এখন সেই জায়গায় উঠে আসছে চীন। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে, প্রযুক্তির নেতৃত্ব কোনো একটি দেশের স্থায়ী সম্পদ নয়—এটি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।

2025 Is the Year of the Humanoid Robot Factory Worker | WIRED

তবে প্রশ্ন থেকে যায়—সব দেশ কি এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরি না হলে প্রতিভা থাকলেও তা বিকশিত হয় না। নতুন কিছু করার সাহস, ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়ার সংস্কৃতি—এই তিনটি ছাড়া প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্ভব নয়।

একটি ছোট ঘটনার উদাহরণ এখানে প্রাসঙ্গিক। একটি শিশুর ছোট ব্যবসা উদ্যোগ ভেঙে দেওয়া হলে, সেটি শুধু একটি ক্ষুদ্র ক্ষতি নয়—এটি ভবিষ্যতের উদ্যোক্তা মানসিকতার ওপর আঘাত। যেখানে উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া হয় না, সেখানে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও কমে যায়।

রোবটের পড়ে যাওয়া হয়তো আমাদের হাসায়, কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় এক বাস্তবতা। যারা আজ ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে এগোচ্ছে, তারাই আগামী দিনের বিশ্বকে গড়ে তুলবে। আর যারা শুধু সমালোচনায় ব্যস্ত, তারা হয়তো পিছিয়েই পড়বে।

প্রযুক্তির এই দৌড়ে প্রশ্নটা তাই খুব সরল—আমরা কি শুধু দর্শক হয়ে থাকব, নাকি নিজেরাও দৌড়ে নামব?