রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে পুলিশ একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।
রবিবার সকালে উত্তর বাড্ডার একটি বাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের ছাত্রী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় হলেও তিনি পরিবারের সঙ্গে ঢাকার বাড্ডায় বসবাস করতেন।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা
পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

চিরকুট ও মোবাইল তথ্য ঘিরে সন্দেহ
তদন্তের শুরুতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট এবং শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে কিছু তথ্য পাওয়া যায়, যেখানে একজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ ছিল বলে জানায় পুলিশ। এই সূত্র ধরেই ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদ
এদিকে নিহত শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বা মানসিক চাপ কাজ করেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তদন্ত চলছে
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে চিরকুট ও মোবাইলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















