০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ মহেশখালীর সাগরে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিশোর চীনের জে-১০ সিই কিনছে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯০৭; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন ঢাকা-যশোর রুটে আবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপ মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন, মূলধন শক্তিশালী হবে প্রিন্স হ্যারি–মেগানের নতুন ব্রিটেনযাত্রা, পেছনে পড়ে থাকবে আর্চির প্রিয় ‘মুরগির বাড়ি’

রাজশাহীতে লোডশেডিং-গরমে প্রতিদিন মরছে মুরগি, ভেঙে পড়ার শঙ্কায় পোলট্রি খাত

রাজশাহীতে ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র গরমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন পোলট্রি খামারিরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে অসংখ্য মুরগি। এতে করে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি খামার বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

খামারের সংখ্যা ও বর্তমান সংকট
রাজশাহী পোলট্রি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ হাজারের বেশি হাঁস-মুরগির খামার রয়েছে। অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ দফতরের হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় আট হাজার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক খামারেই বাচ্চা ফোটানো কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও খামার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে পুরো পোলট্রি খাতই মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব
রাজশাহী পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক জানান, ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণত ব্রয়লার মুরগির জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু বর্তমানে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। অতিরিক্ত গরমে খামারে ফ্যানের ব্যবহার বাড়াতে হলেও নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, তীব্র গরমের কারণে মুরগির ওজন কমে যাচ্ছে এবং মাংসের স্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। যেখানে ৪০ দিনে একটি ব্রয়লার মুরগির ওজন দুই কেজির বেশি হওয়ার কথা, সেখানে এখন অনেক ক্ষেত্রে এক কেজিও হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বাজারে প্রভাব ও বিক্রেতাদের দুরবস্থা
নগরীর সাহেববাজার কাঁচাবাজার এলাকার মুরগি বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে। একই সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে। সরবরাহকারীরা আগের মতো মুরগি দিতে না পারায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ দফতরের পরামর্শ
এই পরিস্থিতিতে খামারিদের জন্য কিছু করণীয় নির্ধারণ করেছে রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। খামারের শেডে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, ধারণক্ষমতার তুলনায় কম মুরগি রাখা, মুরগির শরীরে নিয়মিত পানি স্প্রে করা, ছাদে ভেজা পাটের বস্তা রাখা এবং সেখানে পানি ঢালা—এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুপুরে খাবার না দেওয়া, লেবু ও আখের গুড় মিশিয়ে শরবত দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এই সব ব্যবস্থা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে চলমান তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে পোলট্রি খাত আরও বড় সংকটে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজশাহীতে গরমে মুরগি মারা ও পোলট্রি সংকট
রাজশাহীতে তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে প্রতিদিন মুরগি মারা যাচ্ছে, উৎপাদন কমে পোলট্রি খাত বড় সংকটে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার

রাজশাহীতে লোডশেডিং-গরমে প্রতিদিন মরছে মুরগি, ভেঙে পড়ার শঙ্কায় পোলট্রি খাত

০৫:৩১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীতে ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র গরমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন পোলট্রি খামারিরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে অসংখ্য মুরগি। এতে করে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি খামার বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

খামারের সংখ্যা ও বর্তমান সংকট
রাজশাহী পোলট্রি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ হাজারের বেশি হাঁস-মুরগির খামার রয়েছে। অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ দফতরের হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় আট হাজার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক খামারেই বাচ্চা ফোটানো কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও খামার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে পুরো পোলট্রি খাতই মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব
রাজশাহী পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক জানান, ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণত ব্রয়লার মুরগির জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু বর্তমানে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। অতিরিক্ত গরমে খামারে ফ্যানের ব্যবহার বাড়াতে হলেও নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, তীব্র গরমের কারণে মুরগির ওজন কমে যাচ্ছে এবং মাংসের স্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। যেখানে ৪০ দিনে একটি ব্রয়লার মুরগির ওজন দুই কেজির বেশি হওয়ার কথা, সেখানে এখন অনেক ক্ষেত্রে এক কেজিও হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বাজারে প্রভাব ও বিক্রেতাদের দুরবস্থা
নগরীর সাহেববাজার কাঁচাবাজার এলাকার মুরগি বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে। একই সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে। সরবরাহকারীরা আগের মতো মুরগি দিতে না পারায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ দফতরের পরামর্শ
এই পরিস্থিতিতে খামারিদের জন্য কিছু করণীয় নির্ধারণ করেছে রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। খামারের শেডে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, ধারণক্ষমতার তুলনায় কম মুরগি রাখা, মুরগির শরীরে নিয়মিত পানি স্প্রে করা, ছাদে ভেজা পাটের বস্তা রাখা এবং সেখানে পানি ঢালা—এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুপুরে খাবার না দেওয়া, লেবু ও আখের গুড় মিশিয়ে শরবত দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এই সব ব্যবস্থা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে চলমান তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে পোলট্রি খাত আরও বড় সংকটে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজশাহীতে গরমে মুরগি মারা ও পোলট্রি সংকট
রাজশাহীতে তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে প্রতিদিন মুরগি মারা যাচ্ছে, উৎপাদন কমে পোলট্রি খাত বড় সংকটে।