০৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: শেষ দফাই ফল নির্ধারণে ফয়সালার লড়াই স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির আড়ালে ভারতের বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাতের ধাক্কা, বলছেন অর্থনীতিবিদরা মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অ্যালুমিনিয়াম ঘাটতি, চাপ বাড়ছে ভারতের গাড়ি শিল্পে হাওরের বুকজুড়ে ধানের স্বপ্ন ডুবে গেলো, সুনামগঞ্জে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকের হাহাকার মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় লন্ডন থেকে ঢাকা—সবখানেই বাড়ছে খরচ, বললেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার ওপেক ছাড়ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জ্বালানি নীতিতে বড় মোড় সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪৬৪ হত্যা, ৬৬৬ ধর্ষণ মামলা—সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, উদ্বেগ বাড়ছে সংক্রমণ নিয়ে এনসিসি ব্যাংকের ২১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা, শেয়ারবাজারে তীব্র উত্থান বনের পথ ফেরাতে দড়ির সেতু, প্রথমবার সড়ক পেরোল সুমাত্রার ওরাংউটান

এক কেজিতেই বিক্রি, পথে বসার শঙ্কা—বরিশালে পোলট্রি খামারিদের সংকট

বিদ্যুৎ সংকটের তীব্রতায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন বরিশালের পোলট্রি খামারিরা। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে খামারে হিটস্ট্রোকে মুরগি মারা যাচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে। খামারিরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি না হলে পুরো পোলট্রি খাতই বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

লোডশেডিংয়ের চাপে খামার পরিচালনা সংকট
বরিশাল বিদ্যুৎ বিভাগের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, শহর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ—সেখানে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এই দীর্ঘ বিদ্যুৎহীনতার কারণে খামারের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, যা মুরগির জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে মুরগি
বরিশাল সদর উপজেলার সোলনা বাজার এলাকার খামারি মো. পলাশ জানিয়েছেন, তার খামারে ইতিমধ্যে ২০০টি মুরগি হিটস্ট্রোকে মারা গেছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান বা কুলিং ব্যবস্থা চালু রাখা যাচ্ছে না, ফলে মুরগি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। শুধু তিনি নন, একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন অন্যান্য খামারি মাসুম ও আরমান কাওসারও।

কম ওজনেই বিক্রি, বাড়ছে লোকসান
খামারিরা জানান, বয়লার মুরগি দুই থেকে তিন কেজি হলে ভালো দাম পাওয়া যায়। কিন্তু এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, এক কেজি হলেই তা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও উঠছে না। ফলে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে এবং খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জেনারেটর নির্ভরতা ও জ্বালানি সংকট
লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক খামারিকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু সেখানেও দেখা দিয়েছে নতুন সমস্যা। জেনারেটরের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদন ও আয়ের সঙ্গে তার কোনো সামঞ্জস্য থাকছে না।

খামারিরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তারা পুঁজি হারিয়ে পথে বসবেন। এতে শুধু খামারিরাই নয়, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য খামারিরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া পোলট্রি খাত টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বরিশালে লোডশেডিংয়ে পোলট্রি খামারির লোকসান, কম ওজনেই বিক্রি মুরগি

লোডশেডিংয়ে পোলট্রি সংকট

বরিশালে বিদ্যুৎ সংকটে মুরগি মারা যাচ্ছে, কম ওজনেই বিক্রি করতে বাধ্য খামারিরা—বাড়ছে লোকসান ও শঙ্কা।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: শেষ দফাই ফল নির্ধারণে ফয়সালার লড়াই

এক কেজিতেই বিক্রি, পথে বসার শঙ্কা—বরিশালে পোলট্রি খামারিদের সংকট

০৫:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বিদ্যুৎ সংকটের তীব্রতায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন বরিশালের পোলট্রি খামারিরা। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে খামারে হিটস্ট্রোকে মুরগি মারা যাচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে। খামারিরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি না হলে পুরো পোলট্রি খাতই বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

লোডশেডিংয়ের চাপে খামার পরিচালনা সংকট
বরিশাল বিদ্যুৎ বিভাগের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, শহর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ—সেখানে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এই দীর্ঘ বিদ্যুৎহীনতার কারণে খামারের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, যা মুরগির জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে মুরগি
বরিশাল সদর উপজেলার সোলনা বাজার এলাকার খামারি মো. পলাশ জানিয়েছেন, তার খামারে ইতিমধ্যে ২০০টি মুরগি হিটস্ট্রোকে মারা গেছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান বা কুলিং ব্যবস্থা চালু রাখা যাচ্ছে না, ফলে মুরগি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। শুধু তিনি নন, একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন অন্যান্য খামারি মাসুম ও আরমান কাওসারও।

কম ওজনেই বিক্রি, বাড়ছে লোকসান
খামারিরা জানান, বয়লার মুরগি দুই থেকে তিন কেজি হলে ভালো দাম পাওয়া যায়। কিন্তু এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, এক কেজি হলেই তা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও উঠছে না। ফলে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে এবং খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জেনারেটর নির্ভরতা ও জ্বালানি সংকট
লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক খামারিকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু সেখানেও দেখা দিয়েছে নতুন সমস্যা। জেনারেটরের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদন ও আয়ের সঙ্গে তার কোনো সামঞ্জস্য থাকছে না।

খামারিরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তারা পুঁজি হারিয়ে পথে বসবেন। এতে শুধু খামারিরাই নয়, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য খামারিরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া পোলট্রি খাত টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বরিশালে লোডশেডিংয়ে পোলট্রি খামারির লোকসান, কম ওজনেই বিক্রি মুরগি

লোডশেডিংয়ে পোলট্রি সংকট

বরিশালে বিদ্যুৎ সংকটে মুরগি মারা যাচ্ছে, কম ওজনেই বিক্রি করতে বাধ্য খামারিরা—বাড়ছে লোকসান ও শঙ্কা।