মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ঠিক এমন সময়েই রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাশিয়া-ইরান ঘনিষ্ঠতা নতুন বার্তা দিচ্ছে
সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুই দেশের নেতৃত্বকে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা করতে দেখা গেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাৎ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল, তা এখন কার্যত অচলাবস্থায়। এই অবস্থায় রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে ইরান বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই ধাপে আলোচনা চায় ইরান
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান নতুন কৌশল নিয়েছে। তারা আলোচনাকে দুই ভাগে ভাগ করতে চায়।
একদিকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলাদা চুক্তি করতে আগ্রহী তেহরান।
অন্যদিকে পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাবের মতো জটিল বিষয়গুলোকে পৃথক আলোচনায় রাখতে চায় তারা।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পদ্ধতিতে খুব একটা আগ্রহী নয়। তাদের অবস্থান স্পষ্ট—পরমাণু সক্ষমতা সীমিত না করলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না দিলে আংশিক কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।

সামরিক সহযোগিতা বাড়ছে উদ্বেগ
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সহযোগিতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইরান উন্নত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক সংঘাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিনিময়ে রাশিয়া অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং আলোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই নতুন জোট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ হয়। সেখানে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
সমাধান আরও কঠিন হয়ে উঠছে
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এখন আর কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাশিয়ার সক্রিয় উপস্থিতি এই কূটনৈতিক সমীকরণকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে।
ইরান যেখানে নিজেদের শর্তে সমাধান খুঁজছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে সামনের দিনগুলোতে অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















