এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের মধ্যে নিজের কণ্ঠস্বর ও পরিচয় সুরক্ষায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফট। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের কণ্ঠস্বর ও চেহারার ব্যবহার ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন, যাতে কৃত্রিমভাবে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকানো যায়।
এআই নিয়ে আগের অভিজ্ঞতা
এর আগে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি ও কনটেন্টে জড়িয়ে পড়েছিলেন সুইফট। এমন কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় তাঁর ভক্তরা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা সমর্থন করছেন—যা বাস্তবে ঘটেনি। এসব ঘটনার পর থেকেই নিজের পরিচয় ও কণ্ঠস্বর সুরক্ষার বিষয়ে আরও সতর্ক হয়েছেন এই শিল্পী।
ট্রেডমার্ক আবেদনের বিস্তারিত
গত শুক্রবার ৩৬ বছর বয়সী এই শিল্পী তিনটি আলাদা ট্রেডমার্ক আবেদন জমা দেন। এতে তাঁর সাম্প্রতিক ‘এরাস ট্যুর’-এর একটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে তাঁর কণ্ঠে দুটি অডিও ক্লিপ, যেখানে তিনি নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর নতুন অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’-এর প্রচার করেছেন।
এই পদক্ষেপ এমন সময় এলো, যখন অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহেও তাঁর কণ্ঠ ও চেহারার ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করে একই ধরনের সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন।
আইনগত দৃষ্টিকোণ ও নতুন চ্যালেঞ্জ
ট্রেডমার্ক আইনজীবী জশ গারবেনের মতে, শব্দ বা সাউন্ড সুরক্ষার বিষয়টি নতুন নয়, তবে অডিও ক্লিপের মাধ্যমে কথ্য কণ্ঠস্বরকে ট্রেডমার্ক করা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে পুরোপুরি পরীক্ষিত হয়নি। তবু এই আবেদন সুইফটকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
গারবেন ব্যাখ্যা করেন, নির্দিষ্ট কিছু বাক্যাংশ বা কণ্ঠের ধরণ নিবন্ধন করা হলে, কেবল হুবহু নকল নয়, বরং কাছাকাছি বা বিভ্রান্তিকরভাবে মিল থাকা নকলের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। একইভাবে, তাঁর পরিচিত পোশাক, ভঙ্গিমা বা চেহারার বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা গেলে এআই-নির্ভর ভুয়া ছবি বা পরিবর্তিত ভিজ্যুয়ালের বিরুদ্ধেও শক্ত অবস্থান নেওয়া যাবে।

এআই কীভাবে বদলে দিচ্ছে বাস্তবতা
আগে শিল্পীরা সাধারণত কপিরাইট আইন দিয়ে তাদের গান সুরক্ষিত করতেন, আর ব্যক্তিগত পরিচয় রক্ষায় ব্যবহার হতো ‘রাইট অব পাবলিসিটি’। কিন্তু গারবেনের মতে, এআই এই প্রচলিত কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছে। এখন খুব সহজেই কোনো শিল্পীর কণ্ঠস্বর নকল করে যেকোনো বক্তব্য তৈরি করা সম্ভব, যা দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
এই পরিস্থিতিতে ট্রেডমার্ক আইন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। কারণ এটি শুধু একই রকম ব্যবহার নয়, বরং বিভ্রান্তিকর মিল থাকলেও তা বন্ধ করার সুযোগ দেয়।
প্রচারণায় ব্যবহৃত ছবি ও অডিও
সুইফটের দলের জমা দেওয়া ছবিটি আগে তাঁর ডকুসিরিজ ‘দ্য এন্ড অব অ্যান এরা’ প্রচারে ব্যবহৃত হয়েছিল। এতে তাঁকে বহুরঙা পোশাক পরে গোলাপি গিটার হাতে দেখা যায়।
অডিও ক্লিপগুলোর একটিতে তিনি বলেন, “হ্যালো, আমি টেইলর সুইফট,” আর অন্যটিতে তিনি নতুন অ্যালবাম প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে ভক্তদের তা শোনার আমন্ত্রণ জানান।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে এআই যুগে নিজের পরিচয় ও সৃজনশীল সম্পদ রক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন টেইলর সুইফট।
টেইলর সুইফট কণ্ঠস্বর ট্রেডমার্ক এআই সুরক্ষা
এআই যুগে নিজের কণ্ঠ ও পরিচয় রক্ষায় ট্রেডমার্ক আবেদন করলেন টেইলর সুইফট, যা নতুন আইনি দৃষ্টান্ত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















