০২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ইরানে হামলা নিয়ে নতুন পরিকল্পনার খবরে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তেলের দাম যখন অর্থ ফুরিয়ে যায়, ভবিষ্যৎ গড়ে কে? টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ডিবির ওপর হামলা, সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার; আটক ২৮ কুড়িগ্রামে দারিদ্র্য ৭০% ছাড়িয়েছে, নদীভাঙনে বন্দি লাখো মানুষ ইরান অচলাবস্থায় তেলের দামে নতুন রেকর্ড, ব্যারেল ১২৩ ডলার ছুঁলো হরমুজ প্রণালীতে দম্ভের সংঘর্ষ: ভুল হিসাব, দীর্ঘ যুদ্ধ আর বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি কোহিনূর ফেরত দিন—রাজাকে সরাসরি বার্তা নিউইয়র্ক মেয়রের গণতন্ত্রের মানচিত্রে নতুন রেখা: আদালত না রাজনীতি? ইরান যুদ্ধের খরচ ২৫ বিলিয়ন ডলার, কংগ্রেসে তীব্র বিতর্কে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মুখোমুখি প্রশ্ন কানাডার স্কুল হামলা ঘিরে এআই বিতর্ক, ওপেনএআই ও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলায় তোলপাড়

জ্বালানির দামে উল্লম্ফন, বাজেট এয়ারলাইনগুলোর সরকারের কাছে বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে কম খরচের বিমান সংস্থাগুলোর একটি সংগঠন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ২.৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই আবেদন করা হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জেট জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা বাজেট এয়ারলাইনগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। উত্তর আমেরিকায় গত সপ্তাহের শেষে জেট জ্বালানির দাম প্রতি গ্যালন প্রায় ৪.১০ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৮ শতাংশ বেশি। এর ফলে অনেক এয়ারলাইন ইতোমধ্যেই টিকিটের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, তারা যে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল চাইছে, তা শুধুমাত্র অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ সামাল দিতে ব্যবহার করা হবে। তাদের মতে, এই সহায়তা সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখতে এবং যাত্রীদের জন্য ভাড়া সহনীয় রাখতে জরুরি।

এদিকে, সংগঠনের একটি সদস্য সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইনস আলাদাভাবে সরকারের কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার আলোচনা করছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে সরকার আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে কোম্পানির মালিকানায় অংশীদার হতে পারে, এমনকি সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মালিকানাও পেতে পারে। উল্লেখ্য, গত দুই বছরে দ্বিতীয়বারের মতো দেউলিয়া হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

Why Are Budget Airlines In US Asking For Billions Of Dollars From Trump Administration | World News - News18

গত সপ্তাহে দেউলিয়া আদালতে শুনানিতে স্পিরিটের আইনজীবী বলেন, কোম্পানির হাতে থাকা নগদ অর্থ খুব দ্রুত শেষ হয়ে আসছে, ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে ঋণদাতাদের সঙ্গেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, বাজেট এয়ারলাইনগুলোর সংগঠনটি কংগ্রেসের কাছেও জরুরি ব্যবস্থা চেয়েছে। তারা ৭.৫ শতাংশ আবগারি কর এবং প্রতি যাত্রীর জন্য নির্ধারিত ৫.৩০ ডলারের ফি সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এই কর ও ফি সাধারণত টিকিটের মূল্যের মধ্যেই যুক্ত থাকে এবং তা বিমান খাতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয় হয়।

তবে এই প্রস্তাবগুলো কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা এখনও অনিশ্চিত। কারণ, বড় এয়ারলাইনগুলো এবার এই সহায়তার দাবিতে যোগ দেয়নি। তাছাড়া, অনেক আইনপ্রণেতা মনে করছেন, সব বাজেট এয়ারলাইন সমান সংকটে নেই। স্পিরিট গুরুতর আর্থিক সমস্যায় থাকলেও অন্য কোম্পানিগুলোর অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।

সরকারের ভেতরেও স্পিরিটকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী এই উদ্যোগের পক্ষে থাকলেও পরিবহনমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, এটি আদৌ লাভজনক বিনিয়োগ হবে কি না। তার ভাষায়, বারবার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে অর্থ ঢালার ঝুঁকি রয়েছে।

কংগ্রেসের মধ্যেও এই সহায়তা পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে। এক সিনেটর একে “ভয়াবহ ধারণা” বলে মন্তব্য করেছেন, অন্য একজন বলেছেন, ইরান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার দায়ও প্রশাসনের ওপর বর্তায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া সরকারের পক্ষে এই ধরনের চুক্তি চূড়ান্ত করা কঠিন হবে। যদিও বিকল্প হিসেবে একটি আইনের আওতায় জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, তবে সেটিও সহজ নয়।

ইরানে হামলা নিয়ে নতুন পরিকল্পনার খবরে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তেলের দাম

জ্বালানির দামে উল্লম্ফন, বাজেট এয়ারলাইনগুলোর সরকারের কাছে বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দাবি

০৬:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে কম খরচের বিমান সংস্থাগুলোর একটি সংগঠন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ২.৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই আবেদন করা হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জেট জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা বাজেট এয়ারলাইনগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। উত্তর আমেরিকায় গত সপ্তাহের শেষে জেট জ্বালানির দাম প্রতি গ্যালন প্রায় ৪.১০ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৮ শতাংশ বেশি। এর ফলে অনেক এয়ারলাইন ইতোমধ্যেই টিকিটের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, তারা যে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল চাইছে, তা শুধুমাত্র অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ সামাল দিতে ব্যবহার করা হবে। তাদের মতে, এই সহায়তা সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখতে এবং যাত্রীদের জন্য ভাড়া সহনীয় রাখতে জরুরি।

এদিকে, সংগঠনের একটি সদস্য সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইনস আলাদাভাবে সরকারের কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার আলোচনা করছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে সরকার আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে কোম্পানির মালিকানায় অংশীদার হতে পারে, এমনকি সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মালিকানাও পেতে পারে। উল্লেখ্য, গত দুই বছরে দ্বিতীয়বারের মতো দেউলিয়া হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

Why Are Budget Airlines In US Asking For Billions Of Dollars From Trump Administration | World News - News18

গত সপ্তাহে দেউলিয়া আদালতে শুনানিতে স্পিরিটের আইনজীবী বলেন, কোম্পানির হাতে থাকা নগদ অর্থ খুব দ্রুত শেষ হয়ে আসছে, ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে ঋণদাতাদের সঙ্গেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, বাজেট এয়ারলাইনগুলোর সংগঠনটি কংগ্রেসের কাছেও জরুরি ব্যবস্থা চেয়েছে। তারা ৭.৫ শতাংশ আবগারি কর এবং প্রতি যাত্রীর জন্য নির্ধারিত ৫.৩০ ডলারের ফি সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এই কর ও ফি সাধারণত টিকিটের মূল্যের মধ্যেই যুক্ত থাকে এবং তা বিমান খাতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয় হয়।

তবে এই প্রস্তাবগুলো কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা এখনও অনিশ্চিত। কারণ, বড় এয়ারলাইনগুলো এবার এই সহায়তার দাবিতে যোগ দেয়নি। তাছাড়া, অনেক আইনপ্রণেতা মনে করছেন, সব বাজেট এয়ারলাইন সমান সংকটে নেই। স্পিরিট গুরুতর আর্থিক সমস্যায় থাকলেও অন্য কোম্পানিগুলোর অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।

সরকারের ভেতরেও স্পিরিটকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী এই উদ্যোগের পক্ষে থাকলেও পরিবহনমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, এটি আদৌ লাভজনক বিনিয়োগ হবে কি না। তার ভাষায়, বারবার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে অর্থ ঢালার ঝুঁকি রয়েছে।

কংগ্রেসের মধ্যেও এই সহায়তা পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে। এক সিনেটর একে “ভয়াবহ ধারণা” বলে মন্তব্য করেছেন, অন্য একজন বলেছেন, ইরান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার দায়ও প্রশাসনের ওপর বর্তায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া সরকারের পক্ষে এই ধরনের চুক্তি চূড়ান্ত করা কঠিন হবে। যদিও বিকল্প হিসেবে একটি আইনের আওতায় জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, তবে সেটিও সহজ নয়।