ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক তরুণীর মৃত্যু হওয়ায় এই সংখ্যা বাড়ে। বুধবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সারাক্ষণ রিপোর্ট
দুর্ঘটনার সময় ও পরিস্থিতি
ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতে, জাকার্তার কাছের বেকাসি তিমুর এলাকার একটি লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে। একটি দূরপাল্লার ট্রেন এসে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কমিউটার ট্রেনের শেষ বগিতে জোরালোভাবে ধাক্কা দেয়। এই বগিটি ছিল শুধুমাত্র নারী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত। সংঘর্ষের তীব্রতায় বগিটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরে আটকে পড়েন বহু যাত্রী।

উদ্ধার অভিযান ও হতাহতের সংখ্যা
দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয় দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান, যা প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে চলে। উদ্ধারকর্মীরা বিকৃত বগি কেটে ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করেন। এ ঘটনায় মোট ৯০ জন আহত হন। এর মধ্যে ৪৪ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। নিহতদের সবাই নারী বলে নিশ্চিত করেছে উদ্ধার সংস্থা।
দুর্ঘটনার পেছনের কারণ
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কমিউটার ট্রেনটি একটি লেভেল ক্রসিংয়ে থেমে ছিল। সেখানে একটি ট্যাক্সির সঙ্গে একটি ঘটনার কারণে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা দূরপাল্লার ট্রেনটি ধাক্কা দেয়। ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

তদন্ত ও সরকারের পদক্ষেপ
ঘটনার পর পরিবহন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ট্যাক্সি কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট এই দুর্ঘটনার জন্য অনিরাপদ লেভেল ক্রসিংকে দায়ী করে সারা দেশে এসব ক্রসিং উন্নয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গার্ড পোস্ট স্থাপন বা উড়ালপথ নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
পরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ইন্দোনেশিয়ায় পরিবহন দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশাল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত এই দেশে পুরোনো ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বাস, ট্রেন এমনকি বিমান দুর্ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়। সাম্প্রতিক এই ট্রেন দুর্ঘটনা আবারও দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















