০৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
এআই উল্লাসে শেয়ারবাজার চাঙ্গা, উপসাগরীয় সংঘাতে তেলের দাম ১০১ ডলার ছুঁইছুঁই আটলান্টিক সাগরের স্রোত ভেঙে পড়লে বদলে যেতে পারে ভারতের বর্ষা, বাড়ছে বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মাদকবিরোধী সমঝোতা, তথ্য বিনিময় ও যৌথ অভিযানে জোর কলকাতার পুনর্জন্ম কি সত্যিই সম্ভব? চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড, সেনাবাহিনীতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নতুন বার্তা রবীন্দ্রনাথ আর কতদিন থাকবেন এই বাংলাদেশে? আসামে ভরাডুবির পর কংগ্রেসে ফাটল, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে ঘিরে ক্ষোভ জোটসঙ্গীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন মডেল ঘিরে হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ, বদলাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বিচারপতির পদ ছাড়লেন পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সদস্য, রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা যমুনা তীরের ঘর ছাড়ার নোটিশে আতঙ্ক, ‘আমরা কোথায় যাব’ প্রশ্নে দিশেহারা শত শত পরিবার

শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই পশ্চিমবঙ্গ, শনিবার ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের পথে এগোলো ভারতীয় জনতা পার্টি। দলীয় বিধায়কদের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেন রাজ্যপাল আরএন রবি। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়। কলকাতায় অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বিজেপির ঐতিহাসিক জয়

বিধানসভা নির্বাচনে এবার বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪৮ আসন। সেখানে বিজেপি জিতেছে ২০৭টি আসনে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস নেমে এসেছে ৮০ আসনে।

এই ফলের মধ্য দিয়ে টানা ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটলো। ভোটগ্রহণ হয়েছিল দুই দফায়—২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। ৪ মে ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হয়। ফল ঘোষণার পর থেকেই নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

অমিত শাহের বার্তা

দলীয় বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ নির্বাচিত বিধায়ক ও শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভয়ভীতির পরিবেশের মধ্যেও বাংলার মানুষ বিজেপির ওপর আস্থা রেখেছে।

তার ভাষায়, পশ্চিমবঙ্গে ভোট দেওয়াই একসময় কঠিন হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়ে মানুষ বিজেপিকে বড় জয় এনে দিয়েছে। তিনি এই জয়ের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব ও জনগণের সমর্থনের প্রতি তুলে ধরেন।

মমতাকে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, শনিবার শপথ

মমতার ঘনিষ্ঠ থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী

শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একসময় তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই মমতা ও শুভেন্দুর সম্পর্ক রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে চলে আসে।

২০২১ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসেন শুভেন্দু। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও একই কেন্দ্রে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম আসনেও জয় পান তিনি।

বাংলায় বিজেপির উত্থানের অন্যতম মুখ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পেছনে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে বিশেষ আলোচনা রয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে রাজ্যে বিজেপির কোনো আসনই ছিল না, সেখানে ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলটি ২০০–এর বেশি আসন জয় করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের গ্রামীণ ভোটব্যাংকে বিজেপির বিস্তার এবং তৃণমূলের ঘাঁটিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে শুভেন্দুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এবার সেই রাজনৈতিক সাফল্যের পুরস্কার হিসেবেই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে চলেছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই পরিবর্তন নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শনিবারের শপথ অনুষ্ঠানের দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন, শনিবার ব্রিগেডে হবে শপথ অনুষ্ঠান।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই উল্লাসে শেয়ারবাজার চাঙ্গা, উপসাগরীয় সংঘাতে তেলের দাম ১০১ ডলার ছুঁইছুঁই

শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই পশ্চিমবঙ্গ, শনিবার ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ

০৬:২৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের পথে এগোলো ভারতীয় জনতা পার্টি। দলীয় বিধায়কদের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেন রাজ্যপাল আরএন রবি। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়। কলকাতায় অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বিজেপির ঐতিহাসিক জয়

বিধানসভা নির্বাচনে এবার বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪৮ আসন। সেখানে বিজেপি জিতেছে ২০৭টি আসনে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস নেমে এসেছে ৮০ আসনে।

এই ফলের মধ্য দিয়ে টানা ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটলো। ভোটগ্রহণ হয়েছিল দুই দফায়—২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। ৪ মে ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হয়। ফল ঘোষণার পর থেকেই নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

অমিত শাহের বার্তা

দলীয় বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ নির্বাচিত বিধায়ক ও শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভয়ভীতির পরিবেশের মধ্যেও বাংলার মানুষ বিজেপির ওপর আস্থা রেখেছে।

তার ভাষায়, পশ্চিমবঙ্গে ভোট দেওয়াই একসময় কঠিন হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়ে মানুষ বিজেপিকে বড় জয় এনে দিয়েছে। তিনি এই জয়ের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব ও জনগণের সমর্থনের প্রতি তুলে ধরেন।

মমতাকে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, শনিবার শপথ

মমতার ঘনিষ্ঠ থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী

শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একসময় তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই মমতা ও শুভেন্দুর সম্পর্ক রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে চলে আসে।

২০২১ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসেন শুভেন্দু। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও একই কেন্দ্রে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম আসনেও জয় পান তিনি।

বাংলায় বিজেপির উত্থানের অন্যতম মুখ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পেছনে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে বিশেষ আলোচনা রয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে রাজ্যে বিজেপির কোনো আসনই ছিল না, সেখানে ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলটি ২০০–এর বেশি আসন জয় করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের গ্রামীণ ভোটব্যাংকে বিজেপির বিস্তার এবং তৃণমূলের ঘাঁটিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে শুভেন্দুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এবার সেই রাজনৈতিক সাফল্যের পুরস্কার হিসেবেই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে চলেছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই পরিবর্তন নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শনিবারের শপথ অনুষ্ঠানের দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন, শনিবার ব্রিগেডে হবে শপথ অনুষ্ঠান।