তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়ের নেতৃত্বে। দীর্ঘদিনের ডিএমকে-এআইএডিএমকে আধিপত্য ভেঙে তাঁর দল সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের পথে তৈরি হয়েছে জটিল অঙ্ক আর রাজনৈতিক টানাপোড়েন। নির্বাচনে বড় জয় পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত অন্য দলগুলোর সমর্থনের দিকে তাকাতে হয়েছে বিজয়ের দলকে।
দুই বছরের পুরোনো দল হয়েও তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়। দলটি ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। একই সঙ্গে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন নিজের আসনও হারান। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দলটি পিছিয়ে ছিল। সেই কারণেই শুরু হয় সমর্থন জোগাড়ের রাজনৈতিক লড়াই।
জোটবিহীন নির্বাচনের মাশুল
নির্বাচনের আগে বিজয় স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, তিনি ডিএমকে কিংবা বিজেপি—কোনো শিবিরের সঙ্গেই জোট করবেন না। নিজেকে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি। সেই অবস্থান তাঁকে জনপ্রিয়তা দিলেও সরকার গঠনের সময় তা হয়ে দাঁড়ায় বড় সমস্যা। কারণ নির্বাচনে এককভাবে লড়ায় তাঁর পাশে আগে থেকে কোনো জোটসঙ্গী ছিল না।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন জানা যায় বিজয় দুটি আসনে জয় পেয়েছেন। আইন অনুযায়ী তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে। ফলে কার্যত তাঁর দলের ভোট সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১০৭-এ। তখন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
কংগ্রেসের সমর্থনে নতুন সমীকরণ
প্রথম বড় পরিবর্তন আসে কংগ্রেসের অবস্থানে। ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত বিজয়কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শর্ত ছিল একটাই—বিজয় যেন বিজেপির সঙ্গে কোনো সমঝোতায় না যান। এই সমর্থনের পর বিজয়ের শিবিরের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও তা তখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে ডিএমকে শিবিরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দলটির নেতারা এটিকে বড় রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেন। একই সঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক জোট কাঠামো নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়।

বাম দল ও ভিসিকে ঘিরে শেষ অঙ্ক
পরবর্তী নজর ছিল বাম দল ও বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছির দিকে। একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পর সিপিআই এবং সিপিএম বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা দেয়। পরে জানা যায়, ভিসিকেও একই পথে হাঁটার বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে। এই সমর্থন যোগ হলে বিজয়ের সরকার গঠনের পথ প্রায় পরিষ্কার হয়ে যায়।
তবে এখানেই শেষ হয়নি নাটক। গভর্নরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না আসায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও বিজয়কে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে অযথা বিলম্ব করা হচ্ছে।
তামিল রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা
এই পুরো পরিস্থিতি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যে বিজয় নিজেকে পুরোনো জোট রাজনীতির বাইরে রাখার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাকেই সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বহু বছরের শক্তিশালী ডিএমকে এখন নিজেদের সাবেক মিত্রদের অন্য শিবিরে যেতে দেখছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ কি দীর্ঘস্থায়ী হবে, নাকি সরকার গঠনের পর আবারও পাল্টে যাবে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক চিত্র। আপাতত রাজ্যের নজর বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠান এবং নতুন সরকারের ভবিষ্যতের দিকে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















