০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হলিউডের মোহ, লস অ্যাঞ্জেলেসের রোদ আর কুতুরের জাদুতে ডিওর ক্রুজ ২০২৭ মসলাদার গরুর মাংসের টাকো বাটি যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ড্রোন ব্যবহারের পথ খুলল চীন, বদলাল প্রতিরক্ষা আইন বাংলাদেশের লাওয়াছড়ায় বনে ছেড়ে দেওয়া ৯ ধীরলোরির ৭টিই মারা গেল ঘরে দুই শিশুর নিথর দেহ, পাশে বাবার মরদেহ—যশোরে হৃদয়বিদারক ঘটনা নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সব এফআইআর বাতিল সুপ্রিম কোর্টের বৃদ্ধার চোখে বিজয়ের দামি চশমা, মানবিকতায় মুগ্ধ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর ভক্ত নেপালের ভয়াবহ বন্যায় জলবায়ু সংকটের দায় এড়াচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যম? হারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়েতে রাজতন্ত্রের সমর্থন বেড়ে ৭২ শতাংশ, নতুন রাজার শপথ গোপন তহবিলের নামে জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই

চীন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতার স্বীকারোক্তি, ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ঘিরে নতুন বিতর্ক

২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘর্ষে পাকিস্তানকে সহায়তা দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বক্তব্য সামনে আসার পর দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

চীনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় সেখানে প্রযুক্তিগত সহায়তা দল পাঠিয়েছিল বেইজিং। এই দল যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করে পাকিস্তানের ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার কাজ করেছিল।

যুদ্ধের সময় সরাসরি উপস্থিত ছিলেন চীনা প্রকৌশলীরা

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ঝাং হেং জানান, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলাকালে তারা পাকিস্তানে উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তান বিমানবাহিনী সে সময় চীনে তৈরি চেংদু জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে।

China admits providing support to Pakistan during Operation Sindoor against  India last May - The Economic Times

ঝাং হেং বলেন, এই যুদ্ধবিমান বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা দেখানোর সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। যুদ্ধের সময় ঘন ঘন যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন এবং সাইরেনের শব্দের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে তাদের। প্রচণ্ড গরম এবং মানসিক চাপের মধ্যেও তারা পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে কাজ করেছেন।

আরেক প্রকৌশলী সু দা যুদ্ধবিমানকে সন্তানের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি ও উন্নয়নের পর সেই বিমান বাস্তব পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল।

রাফাল ভূপাতিতের দাবি নিয়ে আলোচনা

সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে দাবি উঠেছিল, পাকিস্তানের ব্যবহৃত চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান অন্তত একটি ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যদিও এ নিয়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবুও বিষয়টি আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছিল।

জে-১০সিই যুদ্ধবিমানকে চীনের আধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে ধরা হয়। এতে উন্নত রাডার ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। পাকিস্তানই বর্তমানে এই যুদ্ধবিমানের একমাত্র বিদেশি ব্যবহারকারী দেশ।

যুক্তরাজ্য ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত |  আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

কীভাবে শুরু হয়েছিল সংঘর্ষ

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পাহেলগামের বাইসারান এলাকায় পর্যটকদের ওপর হামলার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তীব্র আকার নেয়। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ককে দায়ী করে।

এর জবাবে ৭ মে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ভারত। দিল্লির দাবি ছিল, এসব হামলায় শতাধিক জঙ্গি নিহত হয়েছে। পরে পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালালে সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। চার দিনের মাথায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

মধ্যস্থতার দাবি নিয়ে দ্বন্দ্ব

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত বছর দাবি করেছিলেন, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা কমাতে বেইজিং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তার ভাষায়, চীন নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে সংকট সমাধানে কাজ করেছে।

তবে ভারত বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো, যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণভাবে দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই হয়েছে এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক জোট, অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারত-চীন সম্পর্কের বিদ্যমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Wang Yi urges US to stop interrupting Beijing Games, respect Russia's  concerns over Ukraine in phone call with Blinken - Global Times

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হলিউডের মোহ, লস অ্যাঞ্জেলেসের রোদ আর কুতুরের জাদুতে ডিওর ক্রুজ ২০২৭

চীন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতার স্বীকারোক্তি, ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ঘিরে নতুন বিতর্ক

১০:৫৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘর্ষে পাকিস্তানকে সহায়তা দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বক্তব্য সামনে আসার পর দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

চীনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় সেখানে প্রযুক্তিগত সহায়তা দল পাঠিয়েছিল বেইজিং। এই দল যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করে পাকিস্তানের ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার কাজ করেছিল।

যুদ্ধের সময় সরাসরি উপস্থিত ছিলেন চীনা প্রকৌশলীরা

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ঝাং হেং জানান, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলাকালে তারা পাকিস্তানে উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তান বিমানবাহিনী সে সময় চীনে তৈরি চেংদু জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে।

China admits providing support to Pakistan during Operation Sindoor against  India last May - The Economic Times

ঝাং হেং বলেন, এই যুদ্ধবিমান বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা দেখানোর সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। যুদ্ধের সময় ঘন ঘন যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন এবং সাইরেনের শব্দের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে তাদের। প্রচণ্ড গরম এবং মানসিক চাপের মধ্যেও তারা পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে কাজ করেছেন।

আরেক প্রকৌশলী সু দা যুদ্ধবিমানকে সন্তানের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি ও উন্নয়নের পর সেই বিমান বাস্তব পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল।

রাফাল ভূপাতিতের দাবি নিয়ে আলোচনা

সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে দাবি উঠেছিল, পাকিস্তানের ব্যবহৃত চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান অন্তত একটি ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যদিও এ নিয়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবুও বিষয়টি আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছিল।

জে-১০সিই যুদ্ধবিমানকে চীনের আধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে ধরা হয়। এতে উন্নত রাডার ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। পাকিস্তানই বর্তমানে এই যুদ্ধবিমানের একমাত্র বিদেশি ব্যবহারকারী দেশ।

যুক্তরাজ্য ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত |  আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

কীভাবে শুরু হয়েছিল সংঘর্ষ

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পাহেলগামের বাইসারান এলাকায় পর্যটকদের ওপর হামলার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তীব্র আকার নেয়। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ককে দায়ী করে।

এর জবাবে ৭ মে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ভারত। দিল্লির দাবি ছিল, এসব হামলায় শতাধিক জঙ্গি নিহত হয়েছে। পরে পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালালে সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। চার দিনের মাথায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

মধ্যস্থতার দাবি নিয়ে দ্বন্দ্ব

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত বছর দাবি করেছিলেন, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা কমাতে বেইজিং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তার ভাষায়, চীন নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে সংকট সমাধানে কাজ করেছে।

তবে ভারত বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো, যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণভাবে দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই হয়েছে এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক জোট, অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারত-চীন সম্পর্কের বিদ্যমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Wang Yi urges US to stop interrupting Beijing Games, respect Russia's  concerns over Ukraine in phone call with Blinken - Global Times