বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন হংকংয়ের লি পো চুন ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজের (এলপিসিইউডব্লিউসি) প্রিন্সিপাল ড. স্পেন্সার এ ফাউলার। রোববার রাতে তার ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার পথ খুঁজবেন।
লি পো চুন ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ বিশ্বের স্বনামধন্য আবাসিক প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজগুলোর একটি। এটি ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ (ইউডব্লিউসি) নেটওয়ার্কের সদস্য। কলেজটি ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য দুই বছর মেয়াদি ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম (আইবিডিপি) পরিচালনা করে। বর্তমানে ৯০টিরও বেশি দেশের ২৫০-এর বেশি শিক্ষার্থী সেখানে অধ্যয়ন করছে।
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ
সফরকালে ড. ফাউলার সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, বর্তমানে কলেজটিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং কলেজটির অ্যালামনাই সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ড. ফাউলার বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইবিডিপি প্রোগ্রাম শুধু শিক্ষাগত মানের জন্যই পরিচিত নয়, এটি সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ও চিন্তাশীল তরুণ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো প্রতিভাবান শিক্ষার্থীতে ভরপুর দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে তারা আগ্রহী।
স্কলারশিপ ও আন্তর্জাতিক সুযোগ
কলেজটি মেধা ও আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে থাকে। বর্তমানে কলেজের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী কোনো না কোনো আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। মূলত ইউডব্লিউসি ন্যাশনাল কমিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব সুযোগ তৈরি হয়। আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইউডব্লিউসি বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন ড. ফাউলার।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এলপিসিইউডব্লিউসি ছিল এশিয়ার দ্বিতীয় ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ। হংকংয়ের উ কাই শা এলাকায় মা অন শান কান্ট্রি পার্কের কাছাকাছি শান্ত পরিবেশে কলেজটির অবস্থান। শহরের কেন্দ্র থেকে এক ঘণ্টারও কম দূরত্বে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পায়।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈশ্বিক সংযোগ
কলেজটির শিক্ষার্থীরা নিয়মিত “প্রজেক্ট উইক”সহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেয়, যার মাধ্যমে তারা চীনের সমাজ, সংস্কৃতি ও এশিয়ার ভূমিকাকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পায়। বিশ্বের ১৮টি ইউডব্লিউসি প্রতিষ্ঠানের মতোই এই কলেজের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাকে এমন একটি শক্তিতে রূপ দেওয়া, যা মানুষ, সংস্কৃতি ও জাতির মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলে।
ড. ফাউলার বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার বিষয়ে তারা আশাবাদী। এর মাধ্যমে মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পথ তৈরি হবে এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক শিক্ষা বিনিময় আরও শক্তিশালী হবে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এলপিসিইউডব্লিউসিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহমর্মী ও ভবিষ্যতমুখী কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন। শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীরা ৭০টিরও বেশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়, যা তাদের প্রতিভা বিকাশ ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই লি পো চুন ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ বিশ্বের নানা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কলেজটির অ্যালামনাই নেটওয়ার্কও বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত, যেখানে সাবেক শিক্ষার্থীরা পরিবর্তন ও নেতৃত্বের ধারক হিসেবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা, বৃত্তি এবং বৈশ্বিক সংযোগ তৈরির নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়েই ঢাকায় আসছেন ড. স্পেন্সার এ ফাউলার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















