১২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল ভান্ডার থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞায় চাপে ইরানের তেল বাণিজ্য, লক্ষ্য চীনে রপ্তানি নেটওয়ার্ক হরমুজ প্রণালি পেরোতে গোপন কৌশল, ট্র্যাকার বন্ধ রেখেই তেলবাহী জাহাজের চলাচল বিদেশি পণ্যের ব্যবহার কমানোর আহ্বান মোদির, জ্বালানি সংকটে নতুন সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার শঙ্কা, তেলবাজারে নতুন অস্থিরতা লক্ষ্মীপুরে শিশুসন্তানসহ মাকে কারাগারে পাঠানো, জেলগেটের বাইরে অপেক্ষায় দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তান কক্সবাজার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আলাদা কমিশন চায় স্থানীয়রা চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিস্তা প্রকল্পে এগোচ্ছে আলোচনা কুষ্টিয়ায় অসমাপ্ত ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্তা: বন্ধ শিল্পে সহায়তা মিলবে, তবে খেলাপিদের জন্য নয় বিশেষ সুবিধা

ভারতে কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি কি আর ভোট জেতাচ্ছে না?

ভারতের রাজনীতিতে গত এক দশকে কল্যাণমূলক প্রকল্প যেন নির্বাচনী কৌশলের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছিল। নগদ অর্থ সহায়তা, ভর্তুকি, বিনামূল্যে খাদ্যশস্য, নারীদের জন্য বিশেষ ভাতা—এসবের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্য সরকার ভোটারদের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল নতুন এক প্রশ্ন তুলেছে—কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি কি এখন আর আগের মতো ভোট জেতাতে পারছে না?

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখন প্রায় সব রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনোভাবে নগদ সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর নির্ভর করছে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, আসাম কিংবা কর্ণাটক—সব জায়গাতেই নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে বিশেষ প্রকল্প চালু হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেখা গেছে, এসব সুবিধা দিয়েও অনেক ক্ষমতাসীন সরকার জনসমর্থন ধরে রাখতে পারেনি।

কল্যাণ প্রকল্পের নতুন বাস্তবতা

বিশ্লেষকদের মতে, এখন কল্যাণ প্রকল্প আর কোনো দলের বিশেষ পরিচয় নয়। প্রায় সব দলই একই ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। ফলে ভোটাররা শুধু ভাতা বা নগদ সহায়তা দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তারা কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

women voters influence assembly elections in west bengal and tamil nadu  manifestos focus on welfare schemes - India Today

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, আগে যেখানে কল্যাণমূলক সহায়তা নির্বাচনে বড় পার্থক্য গড়ে দিত, এখন তা অনেকটাই “স্বাভাবিক প্রত্যাশা” হয়ে গেছে। ভোটাররা এটিকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন, বিশেষ উপহার হিসেবে নয়।

নারী ভোটারদের বাড়তি গুরুত্ব

ভারতের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারী ভোটারদের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে নারীদের জন্য মাসিক ভাতা, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সহায়তা এবং গৃহস্থালি ব্যয়ের জন্য নগদ অর্থ দেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারগুলোর ধারণা, নারীরা পরিবারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বেশি দায়িত্বশীল এবং ভোটের ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্থিতিশীল সিদ্ধান্ত নেন। তাই তাদের কেন্দ্র করে প্রকল্প বাড়ছে। তবে গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অনেক নারী ভোটারও কেবল নগদ সহায়তার ভিত্তিতে ভোট দিতে আগ্রহী নন। তারা চাকরি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও সমানভাবে চিন্তিত।

অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে

Election Commission of India: Mala fide or merely incompetent? - Frontline

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখন দুই হাজারের বেশি নগদ সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এত বড় ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যগুলোর আর্থিক ভারসাম্যের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে যেসব রাজ্যে আগে থেকেই রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে, সেখানে নতুন কল্যাণ প্রকল্প চালু করায় সড়ক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু নগদ সহায়তা নয়, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

ভোটারদের ভাবনায় পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ভোটাররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন ও বাস্তববাদী। তারা কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করলেও একই সঙ্গে জানতে চাইছেন—এর পর কী? ভবিষ্যতে চাকরি কোথায় তৈরি হবে, মূল্যস্ফীতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে এবং তরুণদের জন্য সুযোগ কতটা বাড়বে—এসব প্রশ্নও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

From Tamil Nadu To Assam, How Parties Are Betting Big On Women Voters This  Election | Explainers News - News18

এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলোকেও শুধু ভাতা ঘোষণা করলেই হবে না। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দিকেও সমান মনোযোগ দিতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা আর এককভাবে নির্বাচনী সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। ভোটাররা এখন সুবিধার পাশাপাশি স্থায়ী উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিও খুঁজছেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল ভান্ডার থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

ভারতে কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি কি আর ভোট জেতাচ্ছে না?

১০:৩৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ভারতের রাজনীতিতে গত এক দশকে কল্যাণমূলক প্রকল্প যেন নির্বাচনী কৌশলের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছিল। নগদ অর্থ সহায়তা, ভর্তুকি, বিনামূল্যে খাদ্যশস্য, নারীদের জন্য বিশেষ ভাতা—এসবের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্য সরকার ভোটারদের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল নতুন এক প্রশ্ন তুলেছে—কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি কি এখন আর আগের মতো ভোট জেতাতে পারছে না?

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখন প্রায় সব রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনোভাবে নগদ সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর নির্ভর করছে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, আসাম কিংবা কর্ণাটক—সব জায়গাতেই নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে বিশেষ প্রকল্প চালু হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেখা গেছে, এসব সুবিধা দিয়েও অনেক ক্ষমতাসীন সরকার জনসমর্থন ধরে রাখতে পারেনি।

কল্যাণ প্রকল্পের নতুন বাস্তবতা

বিশ্লেষকদের মতে, এখন কল্যাণ প্রকল্প আর কোনো দলের বিশেষ পরিচয় নয়। প্রায় সব দলই একই ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। ফলে ভোটাররা শুধু ভাতা বা নগদ সহায়তা দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তারা কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

women voters influence assembly elections in west bengal and tamil nadu  manifestos focus on welfare schemes - India Today

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, আগে যেখানে কল্যাণমূলক সহায়তা নির্বাচনে বড় পার্থক্য গড়ে দিত, এখন তা অনেকটাই “স্বাভাবিক প্রত্যাশা” হয়ে গেছে। ভোটাররা এটিকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন, বিশেষ উপহার হিসেবে নয়।

নারী ভোটারদের বাড়তি গুরুত্ব

ভারতের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারী ভোটারদের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে নারীদের জন্য মাসিক ভাতা, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সহায়তা এবং গৃহস্থালি ব্যয়ের জন্য নগদ অর্থ দেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারগুলোর ধারণা, নারীরা পরিবারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বেশি দায়িত্বশীল এবং ভোটের ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্থিতিশীল সিদ্ধান্ত নেন। তাই তাদের কেন্দ্র করে প্রকল্প বাড়ছে। তবে গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অনেক নারী ভোটারও কেবল নগদ সহায়তার ভিত্তিতে ভোট দিতে আগ্রহী নন। তারা চাকরি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও সমানভাবে চিন্তিত।

অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে

Election Commission of India: Mala fide or merely incompetent? - Frontline

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখন দুই হাজারের বেশি নগদ সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এত বড় ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যগুলোর আর্থিক ভারসাম্যের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে যেসব রাজ্যে আগে থেকেই রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে, সেখানে নতুন কল্যাণ প্রকল্প চালু করায় সড়ক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু নগদ সহায়তা নয়, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

ভোটারদের ভাবনায় পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ভোটাররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন ও বাস্তববাদী। তারা কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করলেও একই সঙ্গে জানতে চাইছেন—এর পর কী? ভবিষ্যতে চাকরি কোথায় তৈরি হবে, মূল্যস্ফীতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে এবং তরুণদের জন্য সুযোগ কতটা বাড়বে—এসব প্রশ্নও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

From Tamil Nadu To Assam, How Parties Are Betting Big On Women Voters This  Election | Explainers News - News18

এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলোকেও শুধু ভাতা ঘোষণা করলেই হবে না। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দিকেও সমান মনোযোগ দিতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা আর এককভাবে নির্বাচনী সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। ভোটাররা এখন সুবিধার পাশাপাশি স্থায়ী উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিও খুঁজছেন।